ঢাজা ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গঙ্গাচড়ায় স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

গোপনে দ্বিতীয় বিয়ের করায় পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে প্রথম স্ত্রী রুমানা বেগমের (৩৩) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের উত্তরপানাপুকুর মাল্লিপাড়া গ্রামে। শনিবার দিবাগত রাতে (৫ সেপ্টেম্বর) স্বামী জিয়াউর রহমানের বাড়ীতে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) জানায়, ওই গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তার ওরফে আলসিয়ার ছেলে জিয়াউর রহমানের (৪২) সাথে একই ইউনিয়নের ঠাকুড়াদহ গ্রামের রেয়াজুল ইসলামের মেয়ে নিহত রুমানা বেগম (৩৫) বিয়ে হয় প্রায় ২০ বছর পূর্বে। সম্প্রতি জিয়াউর রহমান গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করে। এ ঘটনা প্রকাশ পেলে রুমানার সাথে জিয়াউর রহমানের দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। এরই জের ধরে জিয়াউর রহমান শনিবার দিবাগত গভীর রাতে নিজ ঘরে ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্ত্রী র”মানা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। স্বামী জিয়াউর রহমান নিজে আইনের হাত থেকে বাঁচতে নিহত স্ত্রীকে গোপনে পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। পরে এলাকাবাসী রুমানা বেগমকে মৃত অবস্থায় পুকুর থেকে উদ্ধার করে। এ সময় উদ্ধারকারীরা নিহতের গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জিয়াউর রহমানের বাড়ীর উঠান থেকে তার স্ত্রী রুমানার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ সময় জিয়াউর রহমান পলাতক ছিল। অপরদিকে বিষয়টি আপোষের জন্য বড়বিল ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে চেষ্টা করে জিয়ার পরিবারের লোকজন। রুমানার বাবা রেয়াজুল ও ভাইয়েরা আপোষে সম্মতি দেয়। ফলে মৃতের ভাই মাহমুদুল বাদী হয়ে থানায় ইউডি মামলা করেন। ইউপি চেয়ারম্যান আফজালুল হক রাজু জানান, মৃতের ছেলের নামে কিছু জমি লেখা দেয়া ও জিয়াউর রহমানের মালিকানাধিন একটি ট্রলি মৃত রুমানার পিতাকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গঙ্গাচড়া থানার অফিসার ইনচার্জ সুশান্ত কুমার সরকার এ বিষয়ে জানান, রুমানার লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। যেহেতু রুমানার মৃত্যুর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তাই ইউডি মামলা করা হয়েছে। রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) এটিএম আরিফ হোসেন, গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সুশান্ত কুমার সরকার, ইন্সপেক্টর (ইনভেষ্টিগেশন) নুর আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

বক্তব্য দিতে দিতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবুল হাশেম

গঙ্গাচড়ায় স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

সপ্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৫১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
গোপনে দ্বিতীয় বিয়ের করায় পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে প্রথম স্ত্রী রুমানা বেগমের (৩৩) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের উত্তরপানাপুকুর মাল্লিপাড়া গ্রামে। শনিবার দিবাগত রাতে (৫ সেপ্টেম্বর) স্বামী জিয়াউর রহমানের বাড়ীতে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) জানায়, ওই গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তার ওরফে আলসিয়ার ছেলে জিয়াউর রহমানের (৪২) সাথে একই ইউনিয়নের ঠাকুড়াদহ গ্রামের রেয়াজুল ইসলামের মেয়ে নিহত রুমানা বেগম (৩৫) বিয়ে হয় প্রায় ২০ বছর পূর্বে। সম্প্রতি জিয়াউর রহমান গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করে। এ ঘটনা প্রকাশ পেলে রুমানার সাথে জিয়াউর রহমানের দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। এরই জের ধরে জিয়াউর রহমান শনিবার দিবাগত গভীর রাতে নিজ ঘরে ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্ত্রী র”মানা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। স্বামী জিয়াউর রহমান নিজে আইনের হাত থেকে বাঁচতে নিহত স্ত্রীকে গোপনে পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। পরে এলাকাবাসী রুমানা বেগমকে মৃত অবস্থায় পুকুর থেকে উদ্ধার করে। এ সময় উদ্ধারকারীরা নিহতের গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জিয়াউর রহমানের বাড়ীর উঠান থেকে তার স্ত্রী রুমানার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ সময় জিয়াউর রহমান পলাতক ছিল। অপরদিকে বিষয়টি আপোষের জন্য বড়বিল ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে চেষ্টা করে জিয়ার পরিবারের লোকজন। রুমানার বাবা রেয়াজুল ও ভাইয়েরা আপোষে সম্মতি দেয়। ফলে মৃতের ভাই মাহমুদুল বাদী হয়ে থানায় ইউডি মামলা করেন। ইউপি চেয়ারম্যান আফজালুল হক রাজু জানান, মৃতের ছেলের নামে কিছু জমি লেখা দেয়া ও জিয়াউর রহমানের মালিকানাধিন একটি ট্রলি মৃত রুমানার পিতাকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গঙ্গাচড়া থানার অফিসার ইনচার্জ সুশান্ত কুমার সরকার এ বিষয়ে জানান, রুমানার লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। যেহেতু রুমানার মৃত্যুর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তাই ইউডি মামলা করা হয়েছে। রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) এটিএম আরিফ হোসেন, গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সুশান্ত কুমার সরকার, ইন্সপেক্টর (ইনভেষ্টিগেশন) নুর আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।