ঢাজা ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোণার বারহাট্টায় সন্ত্রাসীদের  ভয়ে আতঙ্কে  দিন  পার করছেন প্রবাসীর স্ত্রী

নেত্রকোণা  জেলার বারহাট্টা উপজেলার ১নং বাউসী  ইউনিয়নের  হারুলিয়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে (২সেপ্টেম্বর) থানায় অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী  পরিবার।

পরিবারটির অভিযোগ – ‘এলাকার  কিছু অর্থলোভী  মানুষের  সহযোগিতায় অভিযুক্ত হিমেল মিয়া তার ভাইদের  নিয়ে আমার  ক্রয়কৃত জমি দখলের  জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।’অভিযুক্ত  হিমেল মিয়া আঁখি মণিকে অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে  বলেও জানান আঁখিমণি।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী আঁখিমণি আতঙ্কিত  হয়ে তার একটিমাত্র  ছোট কন্যা সন্তানকে নিয়ে কোনোরকমে  দিনযাপন করছেন বলে জানান। মালয়েশিয়া  প্রবাসী  এনামুল  হকের স্ত্রী আঁখি বলেন, ‘বছর খানেক আগে আমার স্বামী প্রবাসে থেকে নিজের কষ্টের  উপার্জিত টাকায় ৫ কাটা (৫০শতাংশ)জমি ক্রয় করি প্রতিবেশী  ডা.উত্তম কুমার ঘোষের কাছ থেকে আর এই জমি ক্রয়ের পর থেকে প্রতিবেশী  সন্ত্রাসী  হিমেল মিয়া এই জমির প্রতি লোভ করে আমাদের  উপর প্রায়সময় তার সন্ত্রাসী  বাহিনী  নিয়ে আক্রমণ করে।’ এই বিষয় নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েক দফায় শালিস বৈঠকও হয়েছে;কিন্ত হিমেল ও তার লোকজন তা মানতে নারাজ এবং সে বলে ‘কিসের শালিস- আমি এই শালিস মানি না।’সর্বশেষ যখন শালিস বৈঠক হয় তখন এই শালিসে কমপক্ষে পঁাচশত লোক উপস্হিত ছিলেন।এই লোকজনকে  তারা কোনরকম পাত্তাই  দেয় নি;বরং শালিস বৈঠক  শেষ হলে হিমেল ও তার ভাইয়েরা ক্ষোভে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের  উপর বারবার আক্রমণ  করেএবং মেরে ফেলার হুমকি দেয়।এক পর্যায়ে  তারা আঁখিমণির ঘরবাড়ি  দেয়ার  হুমকিও দেয়।
আঁখিমণি  সাংবাদিকদের জানান’আমরা যদি তাদের  এই জমি দিয়ে দিই, তাহলে তারা সমঝোতায়  আসবে।’ এ বিষয়ে হারুলিয়া কডরপাড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের  সভাপতি জানান,’আমি মীমাংসার  জন্য হিমেলের পরিবারকে বলেছি,যেহেতু  এই জমিটি প্রবাসী এনামুল হক ক্রয় করেছেন ;তা নিয়ে আর বাড়াবাড়ি  যেন না হয়। এ কথা বলার পর হিমেল আমার সাথে খারাপ আচরণ করে ও আমার কথা মানতে রাজি নয় বলেও জানায়।’ নেত্রকোণার বারহাট্টায় বেশ কিছুদিন  আগে এক গৃহবধুর জমির ধান চুরি করে কেটে নিয়েছিল দুবৃত্তরা। ঐদিন ভোররাতে উপজেলার বাউসী ইউনিয়নের  হারুলিয়া  গ্রামের  প্রবাসী এনামুল হকের স্ত্রী আঁখি মণির (২৫)জমিতে এই ঘটনাটি ঘটে।
জানা যায়,আঁখিমণির স্বামী মোঃএনামুল হক (৩২)দীর্ঘদিন  যাবৎ মালয়েশিয়ায়  প্রবাসী।আঁখিমণি ৩বছর বয়সের এক শিশু নিয়ে স্বামীর বাড়ীতে  বসবাস করেন।স্বামীর পাঠানো কষ্টের উপার্জনে টাকা জমিয়ে তিনি প্রায় দেড় বছর পূর্বে তাদের  বসতবাড়ির সামনে ৫কাটা (৫০শতাংশ)জমি কিনে ভোগ দখল ও চাষাবাদ করে আসছেন।
আঁখিমণির অভিযোগ, তাদের  পার্শ্ববর্তী  বাড়ির আব্দুল  মালেকের ছেলে হিমেল (৩০), সুপন(৩৫), সুজন (৪০), মেলন (৩৮)ও জুনায়েদ  (২৫) অন্য লোকজনের  সহায়তায় গত (১৫ মে শনিবার) ভোর রাতে তার জমির ফসল কেটে নিয়ে যায় সন্ত্রাসী  কায়দায়।এ সময় তার ভাসুর শামসুল  হকের ছেলে মিনারুল (১৯)ঘটনাটি দেখে ফেলে ও মোবাইলে তাকে জানায়।
আঁখিমণি  বলেন,’স্বামী বিদেশে, ৩ বছরের  একটি শিশু নিয়ে থাকি। ওরা অনেক দিন ধরে আমার জমি জোর করে দখল নিতে চাচ্ছে।আমি অনেক টাকা -পয়সা খরচ করে জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম;তারা ফসল কেটে নিয়ে গেছে।কমপক্ষে  ৪০ মণ ধান হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান  এর সাথে  দেখা করতে  গিয়ে উনাকে পাইনি।থানায় দরখাস্ত দিয়েছি।কোথায় যেতে হবে ;কি করতে হবে তা আমি বুঝি কম,আমি সকলের সহযোগিতা চাচ্ছি।’
আঁখিমণির সাথে কথা  বলার  সময় ময়মনসিংহ  কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও হারুলিয়া গ্রামের  বাসিন্দা ড.উত্তম কুমার ঘোষ, বাগমারা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃআব্দুল হাকিমসহ অনেকেই উপস্থিত  ছিলেন।
ড.উত্তম  কুমার ঘোষ বলেন, ‘হিমেলরা এলাকায় প্রভাবশালী ও অত্যাচারী। আঁখিরা আমাদের নিকট থেকেই জমিটা ক্রয় করেছেন। এই জমিটা হিমেল ও তাদের লোকজন জোর করে দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে। চুরি করে ক্ষেতের ধান কেটেও নিয়েছে বলে শোনা যায়।’
এ ব্যাপারে হারুলিয়া গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মুরুব্বি বলেন, ‘হিমেলরা এই এলাকায় কারো কথা খুব একটা বেশী শোনে না এবং ওরা খুবই অত্যাচারী। হিমেল ও তার ভাইয়েরা প্রায় সময়ই প্রবাসী এনামুল হকের স্ত্রীর উপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে ও তাদের  ক্রয় কৃত জমি জোর করে দখলে নিতে চায়। আমরা এলাকাবাসী এর প্রতিকার চাই। আমরা শালিস বৈঠক করে দুইশত লোকে একসাথে গণস্বাক্ষর দিয়েছি আঁখিমণির পক্ষে।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, কিছুদিন  আগে চুরি করে ধান কেটে নেয়ার ব্যাপারে আঁখিমণি একটি দরখাস্ত করেছিলেন। তখন পুলিশ পাঠিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্হা গ্রহণ করা হয়। এখন আবার আঁখিমণি আরেকটি লিখিত অভিযোগ করেছে যে তাকে জমিতে ধান লাগাতে দিচ্ছে না অভিযুক্ত  হিমেল। বিষয়টি  দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ  করা হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম নগরে ৩৩০ দুষ্কৃতকারীর প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ ঘোষণা

নেত্রকোণার বারহাট্টায় সন্ত্রাসীদের  ভয়ে আতঙ্কে  দিন  পার করছেন প্রবাসীর স্ত্রী

সপ্রকাশিত হয়েছে: ০৬:১৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

নেত্রকোণা  জেলার বারহাট্টা উপজেলার ১নং বাউসী  ইউনিয়নের  হারুলিয়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে (২সেপ্টেম্বর) থানায় অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী  পরিবার।

পরিবারটির অভিযোগ – ‘এলাকার  কিছু অর্থলোভী  মানুষের  সহযোগিতায় অভিযুক্ত হিমেল মিয়া তার ভাইদের  নিয়ে আমার  ক্রয়কৃত জমি দখলের  জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।’অভিযুক্ত  হিমেল মিয়া আঁখি মণিকে অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে  বলেও জানান আঁখিমণি।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী আঁখিমণি আতঙ্কিত  হয়ে তার একটিমাত্র  ছোট কন্যা সন্তানকে নিয়ে কোনোরকমে  দিনযাপন করছেন বলে জানান। মালয়েশিয়া  প্রবাসী  এনামুল  হকের স্ত্রী আঁখি বলেন, ‘বছর খানেক আগে আমার স্বামী প্রবাসে থেকে নিজের কষ্টের  উপার্জিত টাকায় ৫ কাটা (৫০শতাংশ)জমি ক্রয় করি প্রতিবেশী  ডা.উত্তম কুমার ঘোষের কাছ থেকে আর এই জমি ক্রয়ের পর থেকে প্রতিবেশী  সন্ত্রাসী  হিমেল মিয়া এই জমির প্রতি লোভ করে আমাদের  উপর প্রায়সময় তার সন্ত্রাসী  বাহিনী  নিয়ে আক্রমণ করে।’ এই বিষয় নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েক দফায় শালিস বৈঠকও হয়েছে;কিন্ত হিমেল ও তার লোকজন তা মানতে নারাজ এবং সে বলে ‘কিসের শালিস- আমি এই শালিস মানি না।’সর্বশেষ যখন শালিস বৈঠক হয় তখন এই শালিসে কমপক্ষে পঁাচশত লোক উপস্হিত ছিলেন।এই লোকজনকে  তারা কোনরকম পাত্তাই  দেয় নি;বরং শালিস বৈঠক  শেষ হলে হিমেল ও তার ভাইয়েরা ক্ষোভে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের  উপর বারবার আক্রমণ  করেএবং মেরে ফেলার হুমকি দেয়।এক পর্যায়ে  তারা আঁখিমণির ঘরবাড়ি  দেয়ার  হুমকিও দেয়।
আঁখিমণি  সাংবাদিকদের জানান’আমরা যদি তাদের  এই জমি দিয়ে দিই, তাহলে তারা সমঝোতায়  আসবে।’ এ বিষয়ে হারুলিয়া কডরপাড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের  সভাপতি জানান,’আমি মীমাংসার  জন্য হিমেলের পরিবারকে বলেছি,যেহেতু  এই জমিটি প্রবাসী এনামুল হক ক্রয় করেছেন ;তা নিয়ে আর বাড়াবাড়ি  যেন না হয়। এ কথা বলার পর হিমেল আমার সাথে খারাপ আচরণ করে ও আমার কথা মানতে রাজি নয় বলেও জানায়।’ নেত্রকোণার বারহাট্টায় বেশ কিছুদিন  আগে এক গৃহবধুর জমির ধান চুরি করে কেটে নিয়েছিল দুবৃত্তরা। ঐদিন ভোররাতে উপজেলার বাউসী ইউনিয়নের  হারুলিয়া  গ্রামের  প্রবাসী এনামুল হকের স্ত্রী আঁখি মণির (২৫)জমিতে এই ঘটনাটি ঘটে।
জানা যায়,আঁখিমণির স্বামী মোঃএনামুল হক (৩২)দীর্ঘদিন  যাবৎ মালয়েশিয়ায়  প্রবাসী।আঁখিমণি ৩বছর বয়সের এক শিশু নিয়ে স্বামীর বাড়ীতে  বসবাস করেন।স্বামীর পাঠানো কষ্টের উপার্জনে টাকা জমিয়ে তিনি প্রায় দেড় বছর পূর্বে তাদের  বসতবাড়ির সামনে ৫কাটা (৫০শতাংশ)জমি কিনে ভোগ দখল ও চাষাবাদ করে আসছেন।
আঁখিমণির অভিযোগ, তাদের  পার্শ্ববর্তী  বাড়ির আব্দুল  মালেকের ছেলে হিমেল (৩০), সুপন(৩৫), সুজন (৪০), মেলন (৩৮)ও জুনায়েদ  (২৫) অন্য লোকজনের  সহায়তায় গত (১৫ মে শনিবার) ভোর রাতে তার জমির ফসল কেটে নিয়ে যায় সন্ত্রাসী  কায়দায়।এ সময় তার ভাসুর শামসুল  হকের ছেলে মিনারুল (১৯)ঘটনাটি দেখে ফেলে ও মোবাইলে তাকে জানায়।
আঁখিমণি  বলেন,’স্বামী বিদেশে, ৩ বছরের  একটি শিশু নিয়ে থাকি। ওরা অনেক দিন ধরে আমার জমি জোর করে দখল নিতে চাচ্ছে।আমি অনেক টাকা -পয়সা খরচ করে জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম;তারা ফসল কেটে নিয়ে গেছে।কমপক্ষে  ৪০ মণ ধান হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান  এর সাথে  দেখা করতে  গিয়ে উনাকে পাইনি।থানায় দরখাস্ত দিয়েছি।কোথায় যেতে হবে ;কি করতে হবে তা আমি বুঝি কম,আমি সকলের সহযোগিতা চাচ্ছি।’
আঁখিমণির সাথে কথা  বলার  সময় ময়মনসিংহ  কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও হারুলিয়া গ্রামের  বাসিন্দা ড.উত্তম কুমার ঘোষ, বাগমারা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃআব্দুল হাকিমসহ অনেকেই উপস্থিত  ছিলেন।
ড.উত্তম  কুমার ঘোষ বলেন, ‘হিমেলরা এলাকায় প্রভাবশালী ও অত্যাচারী। আঁখিরা আমাদের নিকট থেকেই জমিটা ক্রয় করেছেন। এই জমিটা হিমেল ও তাদের লোকজন জোর করে দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে। চুরি করে ক্ষেতের ধান কেটেও নিয়েছে বলে শোনা যায়।’
এ ব্যাপারে হারুলিয়া গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মুরুব্বি বলেন, ‘হিমেলরা এই এলাকায় কারো কথা খুব একটা বেশী শোনে না এবং ওরা খুবই অত্যাচারী। হিমেল ও তার ভাইয়েরা প্রায় সময়ই প্রবাসী এনামুল হকের স্ত্রীর উপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে ও তাদের  ক্রয় কৃত জমি জোর করে দখলে নিতে চায়। আমরা এলাকাবাসী এর প্রতিকার চাই। আমরা শালিস বৈঠক করে দুইশত লোকে একসাথে গণস্বাক্ষর দিয়েছি আঁখিমণির পক্ষে।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, কিছুদিন  আগে চুরি করে ধান কেটে নেয়ার ব্যাপারে আঁখিমণি একটি দরখাস্ত করেছিলেন। তখন পুলিশ পাঠিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্হা গ্রহণ করা হয়। এখন আবার আঁখিমণি আরেকটি লিখিত অভিযোগ করেছে যে তাকে জমিতে ধান লাগাতে দিচ্ছে না অভিযুক্ত  হিমেল। বিষয়টি  দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ  করা হবে।