• বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
একুশের প্রথম প্রহরে ফুলপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পন” কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতিরাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নবীনগরে পরান কম্পিউটার ইনস্টিটিউটের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত। পূর্বধলায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সাংসদ খাদিজাতুল আনোয়ার সনির সংসদ সদস্য পদ বাতিল চেয়ে রীট! আবারও বিয়ের গুঞ্জন, নিশ্চুপ ফারাজ! ফুলপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ছাগলনাইয়ায় খামারি হত্যা: গ্রেপ্তার ২ ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে নিহত সেনবাগের ৪ শহীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আজো মেলেনি চট্টগ্রামে ৩১তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য( CITF)এর মেলার উদ্বোধন

বিদ্যাসাগরের স্বরণে…

লেখকঃ এম.আর. নয়ন / ৬৪৮ Time View
Update : শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ফাইল ছবি ,ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

 

আজ যাকে জন্মদিনে স্মরণ করছি তাঁকে আমরা বলি দয়ার সাগর ও গদ্যরীতির জনক বিদ্যাসাগর । মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত বীরসিংহ গ্রামে ১২২৭ সালের ১২ই আশ্বিন, ইংরেজী ১৮২০ খ্রী: ২৬শে সেপ্টেম্বরমঙ্গলবার দ্বীপ্রহরে ঈশ্বরচন্দ্র ভূমিষ্ট হন। তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় জননীর নাম ভগবতী দেবী। পিতামহ রামজয়ের ইচ্ছানুসারে  ঈশ্বর নাম কথণ করা হয়।

বাল্যকাল হতেই ঈশ্বরচন্দ্র অত্যন্ত তেজী ও জেদী ছিলেন । যা ধরতেন তা সম্পন্ন না করে কোন মতেই নিবৃত্ত হতেন না। তাঁর এই একগুয়ামি চিরদিনই তাঁর জীবনে পরিলক্ষিত হয়েছিল। গ্রাম্য পাঠশালায় অধ্যায়ন কালে ইশ্বরচন্দ্রের প্রতিভার স্ফুরণ দেখা যায়।তিন বছর পাঠশালায় পাঠ তিনি শেষ করেন। তার হাতের লেখা  অতি চমৎকার ছিল। গুরু মহাশয় ইশ্বরচন্দ্রের অধ্যায়নানুরাগ দেখে ভবিষৎ বাণী করেছিলেন  “ এই বালক উত্তরকালে দেশ প্রসিদ্ধ ব্যক্তি হইবে।”

বিদ্যাসাগর নিকট অনেকেই তাঁর বাল্য কালের দুরন্তপনার অনেক কাহিনী শুনেছিলেন। কোন বালককে বাল্যকালে  দুষ্টামী করতে দেখলে তিনি বলতেন, “আমিও বাল্যকালে ভারী দুষ্ট ছিলাম। পাড়া বাগানের ফলমূল  পাড়িয়া খাইতাম, কেহ কাপড় শুকাইতে দিয়েছে দেখিলে তাহার উপর মল-মূত্র ত্যাগ করিতাম। আমার জ্বালায় পাড়ার অস্থির হইয়া উঠিত।”গ্রাম্য পাঠশালায় পড়া শেষ হলে, তাঁকে কলিকাতায়  নিয়ে যাওয়ার জন্য গুরু মহাশয় পরামর্শ দেন। কলিকাতায় যখন আসে তখন তাঁর বয়স ছিল আট বছর। বিদ্যাসাগর বাবার সাথে কলিকাতায় আসার পর জগদ্দুর্লভ সিংহের বাড়ীতে আশ্রয় গ্রহন করেন। করিকতায় আসার পরেদিন ঠাকুরদাস জগদ্দুর্লভ বাবুর কয়েকটি ইংরেজী অক্ষরের  বিল ঠিক করতে ছিলেন। বিদ্যাসাগর তা দেখে স্বয়ং নিজে ঐ কাজ করতে চাইলেন। তিনিনির্ভূলভাবে বিলের অঙ্ক গুলো যোগ দিয়েছিলেন। এক দিনে মাইলষ্টোন দেখে ইংরেজী অক্ষর শিখে নির্ভূল ভাবে যোগ সম্পাদন করাআট বছরের বালকের পক্ষে প্রতিভার পরিচায়ক সন্দেহ নাই।

১৮২৯ খ্রি: ১লা জুন তারিখে তিনি সংস্কৃত কলেজের ব্যাকরণের তৃতীয়শ্রেণীতে ভর্তি হন । তিন বৎসর ব্যাকরণ শ্রেণীতে পাঠ করলে এরপর এগার বৎসর বয়সে সাহিত্য- শ্রেনীতে ভর্তি হন। সাহিত্য শ্রেণীতে পাঠ করার সময় দুই বছর পাঠ করার পর, ১৪ বছর বয়সে ইশ্বরচন্দ্র ক্ষীরপাই গ্রাম নিবাসী শত্রুঘ্ন ভাট্রাচার্য্যের ৮ বছর বয়েসী কন্যার সাথে পরিণয় সম্পন্ন হয়। বিদ্যাসাগর রাজি ছিলেন না তাঁর বাবার চাপের কারনেই তিনি পরিণয় সম্পন্ন করতে বাধ্য হয়েছিল।

পনের বৎসর বয়সের অসাধারণ প্রতিভাবলে মাত্র ছয়মাস সময়ের মধ্যে সমগ্র স্মৃতি শাস্ত্র আয়ত্ত করে ল-কমিটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। অন্যান্য বিষয়ের পরীক্ষা প্রদান করে ১৯ বৎসর বয়সে বেদান্ত শ্রেণীতে উন্নীত হন। এই সময় তিনি সর্বৎকৃষ্ট সংস্কৃত পদ্য ও গদ্য রচনার জন্য দুইটি পুরস্কার পেয়েছিলেন।

তদনন্তর ন্যায় ও দর্শন পরীক্ষায় ১০০ এবং সর্বৎকৃষ্ট রচনার জন্য ১০০ এই দুইশত টাকা পুরস্কার লাভ করেন। ন্যায় দর্শন শ্রেণীতে অধ্যায়ণ কালে দুই মাসের জন্য ব্যাকরণের দ্বিতীয় শ্রেণীর অধ্যাপকের পদ শূণ্য হলে ছাত্র ঈশ্বরচন্দ্র মাসিক ৪০ টাকা বেতনে অস্থায়ীভাবে এই পদে নিযুক্তহন। চার বৎসর কাল অধ্যায়নের পর ১৮৪২ খ্রী: দর্শন শাস্ত্র শ্রেণীর ষড়দর্শন বিষয়ক শেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইয়া “বিদ্যাসাগর” উপাধি লাভ করেন। কলেজের শিক্ষা শেষ করে কলিকাতা কোট উইলিয়াম কলেজ মাসিক ৫০ বেতনে প্রধান পন্ডিতের পদে নিযুক্ত হন।

 

বিদ্যাসাগর সর্বমোট ৫২টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে ১৭টি সংস্কৃত, ৫টি ইংরেজী এবং অবশিষ্ট ৩০টি বাংলা পুস্তক। বাংলার মধ্যে ১৪টি বিদ্যালয়ের পাঠ্য পুস্তক (রচনা ও অনুবাদ)। অবশিষ্ট ১৬টির মধ্যে ৩টি পুরাতন গ্রন্থ (অন্নদামঙ্গল, বিদ্যাসুন্দর ও মানসিংহ) বিশুদ্ধভাবে সংস্করণ করে প্রকাশিত করেন। অপর ২৩টি সাধারন পাঠ্য (রচনা ও অনুবাদ)। মাইকেল মধুসুদন বিদ্যাসাগরকে যথার্থভাবে বুঝেছিলেন, তাই তিনি বলতে চেয়েছিলেন। “The man to whom I have applied has genius and wisdom of an ancient sage, the energy of an Englishman and the heart of a Bengali mother.

 

বঙ্গজীবনে বিদ্যাসাগরের অবদান ছিল: স্ত্রী শিক্ষার প্রসার, বিধবা বিবাহ আনোদাল, বাঙলা গদ্যকে শৈশব পার করিয়ে কৈশরে যৌবনের পথে হাঁটতে শেখানো। শিক্ষার সার্বিক, সার্বিক বিস্তার, পাঠ্য পুস্তক রচনা ইত্যাদি। যখন অ্যাসিস্টেন্ট ইন্সপেক্টর পদে নিযুক্ত ছিলেন, তখন তিনি বর্ধমান, হুগলী, মেদিনীপুর, নদীয়া চারটি জেলায় ৫০টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপিত করেছিলেন।

 

ড. আহমেদ শরীফ তাঁর “স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব” বইতে উল্লেখ করেছেন। বহুবিবাহ সম্পর্কে আলোচনাকালে বিদ্যাসাগর বলেছেন: “বহুবিবাহ প্রথা প্রচলিত থাকাতে বাংলাদেশে হিন্দু সাম্প্রদায়ের মধ্যে যত দোষ ও যত অনিষ্ট ঘটিতেছে, বোধ হয়, ভারতবর্ষের অন্য অন্য অংশে তত ননে এবং বাঙলা দেশের মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যেও সেরুপ দোষ বা সেরুপ অনিষ্ট শুনিতে পাওয়া যায় না”।

 

১৩ই শ্রাবণ বিকাল  ও সন্ধার সময় জ্বর প্রবল হলে সেই রাত্রেই (১২৯৭ সাল ১৩ই শাবণ, ১৮৯১ খ্রি: ২৯শে জুলাই মঙ্গলবার) রাত্রি ০২:১৮ মিনিটের সময় বঙ্গদেশ ও সমগ্র ভারত অন্ধকার করে বিদ্যাসাগরশেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

 

লেখকঃ এম.আর. নয়ন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা