ঢাজা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতাচ্যুত সুদানের প্রধানমন্ত্রীকে পুনর্বহাল করছে সেনাবাহিনী

  • অনলাইন ডেস্ক
  • সপ্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৪৮:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর ২০২১
  • ৫২২ শেয়ার

এক মাস আগে সামরিক অভ্যুত্থানে উৎখাত হওয়া সুদানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লাহ হামদককে পুনর্বহাল করতে যাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী।

গত মাসে এক সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন আবদাল্লাহ হামদক। এরপর সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের প্রতিবাদে দেশব্যাপী প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ চলতে থাকে। বিক্ষোভে বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

কয়েক সপ্তহের আলোচনা শেষে রবিবার সেনাবাহিনী ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লাহ হামদককে ক্ষমতায় পুনর্বহাল কারার বিষয়ে একটি চুক্তি সই করেছে। তবে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে পুনর্বহাল করা হবে। পরবর্তী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তিনি সুদানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে ২০২৩ সালে দেশটির সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন হামদক।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর হামদক বলেন,‘‘সুদানের প্রতিটি নাগরিকের জীবন গুরুত্বপূর্ণ। চলুন আমরা রক্তপাত বন্ধ করে তরুণদের এ শক্তিকে উন্নয়নের কাজে লাগাই।”

বন্দিদের মুক্তি দেবে সেনাবাহিনী

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে হামদক জানান, সেনাবাহিনীর সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, তিনি স্বাধীনভাবে মন্ত্রণালয় গঠন করতে পারবেন।

জানা গেছে, দেশটিতে চলমান বিক্ষোভে রক্তপাত ঠেকাতেই তিনি সেনাবাহিনীর সাথে চুক্তিতে রাজি হয়েছেন।

এদিকে সেনাপ্রধান জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ বুরহান ধন্যবাদ হামদককে জানিয়ে বলেন, ‘‘তিনি ধৈর্য্য ধরে এখন (চুক্তিতে পৌঁছা পর্যন্ত) পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন।”

১৪ দফার এ চুক্তি অনুযায়ী, সকল রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেবে সেনাবাহিনী।

ইউরোপও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া

হামদককে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফরেন পলিসি চিফ ইয়োজেফ বোরেল বলেন, ‘‘অক্টোবরের সেনা অভ্যুত্থানের পর অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে৷ শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্রের জন্য সুদানের জনগণ একতা ও অন্তর্ভুক্তি দেখতে চায়।”

নতুন এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এটি হলো অন্তর্বতীকালীন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করার প্রথম ধাপ।”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেন, দু’পক্ষের এ আলোচনার ফলে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, প্রধানমন্ত্রীর পুনর্বহাল, জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার এবং সমন্বয় প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়টি ইতিবাচক।

তবে সুদানের গণতন্ত্রপন্থী কিছু গোষ্ঠি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, সেনা অভ্যুত্থানের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। সেই সাথে জনগণের দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় তাদের।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করা হয়েছে

ক্ষমতাচ্যুত সুদানের প্রধানমন্ত্রীকে পুনর্বহাল করছে সেনাবাহিনী

সপ্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৪৮:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর ২০২১

এক মাস আগে সামরিক অভ্যুত্থানে উৎখাত হওয়া সুদানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লাহ হামদককে পুনর্বহাল করতে যাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী।

গত মাসে এক সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন আবদাল্লাহ হামদক। এরপর সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের প্রতিবাদে দেশব্যাপী প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ চলতে থাকে। বিক্ষোভে বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

কয়েক সপ্তহের আলোচনা শেষে রবিবার সেনাবাহিনী ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লাহ হামদককে ক্ষমতায় পুনর্বহাল কারার বিষয়ে একটি চুক্তি সই করেছে। তবে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে পুনর্বহাল করা হবে। পরবর্তী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তিনি সুদানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে ২০২৩ সালে দেশটির সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন হামদক।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর হামদক বলেন,‘‘সুদানের প্রতিটি নাগরিকের জীবন গুরুত্বপূর্ণ। চলুন আমরা রক্তপাত বন্ধ করে তরুণদের এ শক্তিকে উন্নয়নের কাজে লাগাই।”

বন্দিদের মুক্তি দেবে সেনাবাহিনী

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে হামদক জানান, সেনাবাহিনীর সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, তিনি স্বাধীনভাবে মন্ত্রণালয় গঠন করতে পারবেন।

জানা গেছে, দেশটিতে চলমান বিক্ষোভে রক্তপাত ঠেকাতেই তিনি সেনাবাহিনীর সাথে চুক্তিতে রাজি হয়েছেন।

এদিকে সেনাপ্রধান জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ বুরহান ধন্যবাদ হামদককে জানিয়ে বলেন, ‘‘তিনি ধৈর্য্য ধরে এখন (চুক্তিতে পৌঁছা পর্যন্ত) পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন।”

১৪ দফার এ চুক্তি অনুযায়ী, সকল রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেবে সেনাবাহিনী।

ইউরোপও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া

হামদককে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফরেন পলিসি চিফ ইয়োজেফ বোরেল বলেন, ‘‘অক্টোবরের সেনা অভ্যুত্থানের পর অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে৷ শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্রের জন্য সুদানের জনগণ একতা ও অন্তর্ভুক্তি দেখতে চায়।”

নতুন এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এটি হলো অন্তর্বতীকালীন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করার প্রথম ধাপ।”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেন, দু’পক্ষের এ আলোচনার ফলে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, প্রধানমন্ত্রীর পুনর্বহাল, জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার এবং সমন্বয় প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়টি ইতিবাচক।

তবে সুদানের গণতন্ত্রপন্থী কিছু গোষ্ঠি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, সেনা অভ্যুত্থানের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। সেই সাথে জনগণের দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় তাদের।