• রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৩২ অপরাহ্ন

হাসপাতাল আছে, রোগী আছে, নেই ঔষধ, নেই ডাক্তার- ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আবদুর রহমান খান ইকবাল, বাজিতপুর প্রতিনিধি / ৩২৭ Time View
Update : বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১

কিশোরগঞ্জে জেলা বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসক সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। ৫০ শয্যা হাসপাতালটিতে ১২ ডাক্তারের পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৪ জন।

এর মধ্যে ৬ জনই প্রেষনে কর্মরত আছেন। মাত্র ৪ জন ডাক্তার দিয়ে চলছে এ অঞ্চলের ৩ লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্য সেবা। নদী ভাঙ্গন কবলিত ৩ টি ইউনিয়ন দরিদ্রতম মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সকাল ৮টা ৩০ মিনিট হাসপাতালে রোগী দের আনাগোনা শোনা যাচ্ছে । ঔষধ কোম্পানির লোকজন অপেক্ষা করছে চিকিৎসকের । সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট একজন রোগী বের হয়ে এলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প.কর্মকর্তা ডাঃ সিনথিয়া তাসমিনের রুম থেকে। বেলা ৯টা জরুরি বিভাগ খোশ গল্পে মেতে আছেন মিজান, জানতে চাইলে, মিজান জানান, ডাক্তার বাহিরে আছে । সকাল সাড়ে ৯টায় আসেন ডা.তারেক মাহমুদ, তখনও টিকিট কাউন্টার খুলেনি। এরই মাঝে অধ শতাধিক রোগী লাইনে দাঁড়ানো আছে টিকিট কাউন্টারের সামনে। সকাল ১০টা ১০ মিনিট ডাঃ মুশফিকুর রহমান ভর্তি রোগী দেখতে যান । বেলা ১০টা ২৫ মিনিট কাউন্টারে ৫ টাকা করে টিকিট বিক্রয় করছে। এরই মাঝে মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ খলিলুর রহমান ও সহকারী সার্জন ডাঃ সুপ্ত পাল ও হোমিওপ্যাথিক ডাঃ তারেক মাহমুদের দরজার সামনে রোগীরা দাড়িয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই মাঝে কয়েক শত রোগী সমাগম ঘটেছে টিকিট কাউন্টারের সামনে। তাদের বেশির ভাগ নারী। কথা হয় উপজেলা দিঘীরপাড় গ্রাম হতে আসা আছমা বেগমের সাথে, তিনি জানান বেশ কিছু দিন ধরে সর্দি, কাশিতে ভুগছেন। এলাকার ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিয়ে কাজ হয়নি বিধায়সরকারি মেডিকেলে এসেছি । দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর টিকিট কেটে ডাক্তার দেখালাম। বাহেরবালী হাতে আসা এরশাদ মিয়া বলছেন আমরা গরিব মানুষ। আমাদের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বিনা পয়সায় চিকিৎসা নিতে এখানে আসি । কিন্তু লাভ নাই । নামকাওয়াস্তে কিছু ওষধ মাঝে মাঝে দেয়। বাকিটা বাহির থেকে কিনতে হয়। উপজেলার সারারচর ইউনিয়ন থেকে আসা জুটন মিয়া জানান, গত ৬,৭ দিন হয়েছে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। সকালের দিকে একজন ডাক্তার এসে দেখে যায়। সারা দিনে আর কোন ডাক্তার আসেনা। ওয়ার্ডে নার্সকে জরুরী প্রয়োজনে ডাকলেও আসতে চাই না। হাসপাতালে খাবারে মান মোটামুটি পাঙ্গাস আর সিলভার। গ্যাস এর ব্যাথা ঔষধ চার সব ঔষধ বাহির হতে আনতে হয়। একটি পৌরসভা আর ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে বাজিতপুর উপজেলা। এই উপজেলায় সাড়ে ৩ লক্ষ মানুষের বাস। চাহিদার প্রয়োজনে ২০১৯ সালের ৩১ শয্যা হাসপাতালটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল করা হয়। কাগজে কলমে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বাস্তবে সাড়ে তিন লাখ মানুষের জন্য চিকিৎসক রয়েছে মাত্র ৭ জন। এর মধ্যে ৬ জন বাজিতপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নের সহকারী সার্জন। তাদের মধ্যেও রোষ্টার ডিউটি থাকে ৩ জনের । ছুটিতে থাকে এক দুই জন, ফলে দুই তিন জন দিয়ে সাড়ে তিন লাখ মানুষের সেবা দিতে হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন, জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারি, জুনিয়র কনসালটেন্ট এ্যানেসথেশিওলজি, গাইনী কনসালটেন্ট মত গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসক দীর্ঘ দিন ধরে নেই। তার মধ্যে ৪ জন ডাক্তারকে সংযুক্তিতে অন্য হাসপাতালে নিয়ে গেছে । আলট্রাসনোগ্রাফি, ইকো মেশিন, ইসিজি মেশিন, অপারেশন থিয়েটার দীর্ঘদিন বন্ধ। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পর্যাপ্ত জনবল নেই। নানা সংকটের মধ্যে এক প্রকার জোড়া তালি দিয়ে চলছে বাজিতপুর উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এক মাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। ফলে মুখ থুবড়ে পড়ছে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা সেবা। উপজেলা বাসী বঞ্চিত হচ্ছে কাংখিত সেবা থেকে । উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প.কর্মকর্তা ডাঃ সিনথিয়া তাসমিন বলেন, আমি অল্প কিছু দিন হল এই উপজেলায় যোগদান করেছি। যোগদান করার পর থেকে হাসপাতালটিকে সত্যিকার অর্থে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল সেবা রোগীদের দেয়ার জন্য কাজ করছি । আগে হাসপাতালটি অপরিষ্কার ছিল । মাঠে গরু বাধা থাকতো । আমাদের অ্যাম্বুলেন্স কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস নিয়ে গিয়েছিল। সেটা স্যারকে বুঝিয়ে ফেরত নিয়ে এসেছি। ওটি চালু করার জন্য কাজ করছি। চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান, নার্সসহ সকল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দরখাস্ত দিয়েছি। আগে ঔষধের সংকট ছিল বলে আমি জেনেছি । আমি আসার পর ঔষধের সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করছি। আশা করছি আগামী দিনে উত্তম স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারবো। সে জন্য বাজিতপুর বাসী আপনাদের সহযোগিতা কাম্য ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা