• বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
একুশের প্রথম প্রহরে ফুলপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পন” কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতিরাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নবীনগরে পরান কম্পিউটার ইনস্টিটিউটের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত। পূর্বধলায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সাংসদ খাদিজাতুল আনোয়ার সনির সংসদ সদস্য পদ বাতিল চেয়ে রীট! আবারও বিয়ের গুঞ্জন, নিশ্চুপ ফারাজ! ফুলপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ছাগলনাইয়ায় খামারি হত্যা: গ্রেপ্তার ২ ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে নিহত সেনবাগের ৪ শহীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আজো মেলেনি চট্টগ্রামে ৩১তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য( CITF)এর মেলার উদ্বোধন

লালমাইয়ে মাটি খেকোরা বেপরোয়া; নিরব প্রশাসন

লালমাই প্রতিনিধি : / ৩০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৩

কৃষি নির্বরশীল দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। এই দেশের মাটিতে সুজলা সুফলা বাহারি রকমের ফসলাদি জন্মায়। দেশের বেশিরভাগ স্থানে উর্বর মাটিতে ফসলের চাষাবাদ চোখে পড়ার মতো। তাছাড়া, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক কোন ফসলি জমি খালি রাখা যাবেনা। কিন্তু সামান্য লাভের আশায় এই উর্বর মাটি ( টপ সয়েল) চলে যাচ্ছে ইট ভাটায়।

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের সৈয়দপুর মৌজার কলিয়ার টেক, ভূলইন দক্ষিণ ইউনিয়ন মোস্তফাপুর, আমুয়া, জামুয়া, ভূলইন, যাদবপুর মৌজা, ভূলইন উত্তর ইউনিয়ন ছোট চলুন্ডা, বড় চলুন্ডা মৌজা, পেরুল উত্তর ইউনিয়নের আলী শহর মৌজা, পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়ন কনকশ্রী মৌজা, বেলঘর উত্তর ইউনিয়ন বাতাবাড়িয়া, সাধুর কলমিয়া, পালপারা মৌজাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দিনে ও রাতে চলছে ফসলি জমির মাটি কাটার মহাউৎসব। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাটির দালালদের মধ্যে অন্যতম ভূলইন দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার বিল্লাল হোসেন, বাগমারা উত্তর ইউনিয়ন দত্তপুর গ্রামের গোলামুন্নবি অভি, ভূলইন উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আমির হোসেন, বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন বরল গ্রামের মনির হোসেন, বেলঘর উত্তর ইউনিয়ন গৈয়ারভাঙ্গা গ্রামের রবিউলসহ আরো দু’ একজন অন্যতম। এছাড়াও এদের মধ্যে অবৈধ ভাবে ভেকুর মালিকানাও রয়েছে দু’একজনের। অবৈধ মাটির দালাল মেম্বার বিল্লাল হোসেন বলেন, মাটি না কেটে কি করে খাবো। আমি এইটা করেই খাই। মাটি নিয়ে ভারি ট্রাক রাস্তায় চলাচলের কারনে এই পর্যন্ত ভেঙ্গেছে কয়েকটি ছোট কালভার্ট তার মধ্যে বাতাবাড়িয়া, গানিয়াখালি ও কলমিয়া রোডের উপর কালভার্ট উল্লেখযোগ্য। কলমিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জামুয়া উচ্চ বিদ্যালয়, আলী শহর উচ্চ বিদ্যালয়, হাজতখোলা উচ্চ বিদ্যালয়, গৈয়ারভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ধুলো বালির কারনে স্কুলে যাওয়া আসায় খুবই কষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। প্রতিনিয়ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে ভারি ট্রাক চলাচল করায় আতংকে আছেন শিক্ষকগন। কোন প্রকার দূর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ব্যবস্থা নিবে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ এমটাই প্রত্যাশা তাদের। সরকারি গেজেটে প্রকাশিত মাটির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাসকরণ ২০১৩ সালের ৫৯ নং আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি ইট প্রস্তত করার উদ্দেশ্যে কৃষি জমি হতে মাটি কাটা বা সংগ্রহ করে ইটের কাচাঁমাল হিসাবে ব্যবহার করতে পারবে না। যদি কোন ব্যক্তি আইনের এই ধারা লঙ্ঘন করেন তা হলে তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসরের কারাদণ্ড বা ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দণ্ডেদন্ডিত হইবেন। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত বা ইউনিয়ন বা গ্রামীন সড়ক ব্যবহার করিয়া কোন ব্যক্তি ভারি যানবাহন দ্বারা ইট বা ইটের কাচাঁমাল পরিবহন করিতে পারিবেন না। যদি কোন ব্যক্তি আইনের এই ধারা লঙ্ঘন করেন তা হইলে তিনি ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন। এসব আইন থাকার পরও ভূমিদস্যুরা আইনের তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রশাসন চোখের সামনে এসব কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করার পরও প্রশাসনের এই নিরব ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এলাকাবাসীর মনে। তথ্য মতে, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসের মধ্যে ১২ ডিসেম্বর লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফোরকান এলাহি অনুপম বালু মহান আইন ২০১০ এর ১৫ ধারায় ভূলইন উত্তর ইউনিয়ন বেতাগাঁও গ্রামের মৃত. শেকান্তর আলীর ছেলে নুর হোসেনকে মাটির দালাল হিসেবে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এবং উপজেলা ভূমি কমিশনার নাছরীন আক্তার ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসের মধ্যে বালু মহাল আইন ২০১০ এর ১৫ ধারা মোতাবেক বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন উত্তর দৌলতপুর গ্রামের মৃত. আব্দুল মজিদ মজুমদারের ছেলে আব্দুল গফুর মজুমদারকে নিজের জমি থেকে টপ সয়েল কাটার অপরাধে ২৫শে ডিসেম্বর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অপরদিকে প্রকৃত মাটির দালালগন দরা ছোঁয়ার বাহিরে থাকায় এলাকায় চলছে কানাকানি। রোধ করা সম্ভব হচ্ছেনা ফসলি জমির মাটি কাটা। এছাড়াও ফসলি জমির মাটি রক্ষায় সোস্যাল মিডিয়া ফেইসবুকে পোষ্ট করে অনেকেই ক্ষোভ জানিয়েছেন। যা ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। মাটি রক্ষায় সৈয়দপুর গ্রামের কৃষক নুরু মিয়ার আত্মনাদের ভিডিও ভাইরালের ঘটনাও ঘটেছে এতো কিছুর পরেও কেন উপজেলা প্রশাসন নিরব এই প্রশ্নের জবাবে মিলছেনা কোন উত্তর! এছাড়াও মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে নিউজ করায় মুঠো ফোনে সাংবাদিকদের জীবননাশের হুমকিও দিয়ে আসছে কয়েকজন। তার মধ্যে প্রভাবশালী একটি অধৈব ইট ভাটার মালিক ও এক ছাত্রলীগ নেতা উল্লেখযোগ্য। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জুনায়েদ কবির খাঁন বলেন, ফসলি উপরি ভাগের উর্বর মাটি বিক্রয়ের কারনে বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হবে ধান জাতীয় ফসলসহ অন্যান্য ফসলের চাষাবাদ কেননা, মাটির উপরিভাগ (টপসয়েল) এতে ফসলের শিকর ছড়ায় তাছাড়া, টপসয়েল নিজের অস্থানে আসতে প্রায় অনেক বছর সময় লাগে তাই ফসলি জমির মাটি রক্ষায় কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
Seen by ব্যবস্থাপনা সম্পাদক at Monday 10:14pm


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা