• বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কোটা সংষ্কারের দাবীতে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান চরমোনাই পীরের, বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ মিছিল শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহবান পুলিশ সদর দফতরের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিতে সমর্থন দিল বিএনপি রাজধানীর হানিফ ফ্লাইওভারের টোল প্লাজায় আগুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানালেন পলক সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিএফইউজে’র গভীর উদ্বেগ দেশব্যাপী সৃষ্ট সংঘাতময় পরিস্থিতিকে সামনে রেখে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদান করেছেন- প্রধানমন্ত্রী জাফর ইকবালকে শাবিপ্রবিতে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবি প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনায়-ওবায়দুল কাদের কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে বিবৃতি দিয়ে তোপের মুখে নিপুণ

সব বিরোধী দল একযোগে মাঠে নামার পরিকল্পনা- এক দফা

অনলাইন ডেস্ক / ৮৩ Time View
Update : রবিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৩

সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের চলমান কৌশলে পরিবর্তন আনছে বিএনপি। খুব শিগগির হরতাল-অবরোধকে আরও বিস্তৃত, আরও কঠোর করার পরিকল্পনা করছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। আগামী সপ্তাহ থেকেই তা হতে পারে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি জেলা-উপজেলায় গঠন করা হবে আন্দোলন কমিটি। সেখানে একজন গ্রেপ্তার হলে ক্রমান্বয়ে পরের জন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। নির্বাচনের আগে সমমনা ও এর বাইরে থাকা সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একসঙ্গে মাঠে নামারও সিদ্ধান্ত রয়েছে দলটির।

সূত্র জানিয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে নেতাকর্মীকে নিরাপদে থেকে, গ্রেপ্তার এড়িয়ে মাঠের কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশনা রয়েছে দলটির। তবে পরিস্থিতি বাধ্য করলে সেটা আর থাকবে না। নিজেদের অস্তিত্বের প্রয়োজনে, দেশের গণতন্ত্র আর ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে সর্বশক্তি নিয়ে তারা মাঠে নামবেন। সব দলকে একসঙ্গে করেও মাঠে নামা হতে পারে। সে রকমটা হলে ক্ষমতাসীনরা সামাল দিতে পারবে না বলে জানান বিএনপি নেতারা।

দলটির স্থায়ী কমিটির একজন নেতা সমকালকে জানান, সরকারের পাতানো নির্বাচনের তপশিল অনুযায়ী মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার শেষ দিন আগামী বৃহস্পতিবার। এ সময়টা সবার জন্যই ‘টার্নিং পয়েন্ট’।

এ সময়ের মধ্যে সরকার তার নিয়ন্ত্রিত এজেন্সি দ্বারা বিরোধী দলের নেতাকর্মীকে লোভ ও টোপের মাধ্যমে অন্য দলে নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। গ্রেপ্তার অভিযান আরও জোরদার করতে পারে। তবে এই সময়টা পার হওয়ার পরই নির্বাচনী ট্রেন চলা শুরু করবে।

এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয় কাজ করবে জানিয়ে বিরোধী দলের নীতিনির্ধারক ওই নেতা বলেন, এক, নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে বহির্বিশ্বের আহ্বানে ক্ষমতাসীনরা সাড়া দেয়নি– প্রমাণিত হবে। এতে সরকারের একতরফা নির্বাচনের বিষয়টি আরও প্রকাশ পাবে এবং নির্ঘাত চাপে পড়বে। সেখানে বিএনপি সুবিধা পাবে। দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর মধ্যেও ওই সময়ে মনস্তাত্ত্বিক বিভক্তি চলে আসবে। ‘অটো পাস’ এমপি হতে মনোনয়ন পাবে না বলে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে একপক্ষ। বিভিন্ন স্থানে কিংস পার্টির ‘অখ্যাত’ নেতারা ভাগাভাগির মনোনয়ন পাবেন। সেখানেও ক্ষমতাসীনদের মধ্যে কোন্দল ছড়িয়ে পড়বে। সেই সুযোগটাও বিএনপি কাজে লাগাবে। বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীরাও ওই সময়ের মধ্যে নির্বাচন প্রতিহতের ‘শেষ বার্তা’ পাবেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, নির্বাচন এলে যে আনন্দ-উৎসবের জোয়ার নামে জনপদগুলোতে, তার পরিবর্তে ভয়ার্ত পরিবেশ বিরাজ করছে সারাদেশে। আওয়ামী লীগ ছাড়া গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছে মানুষ। পুরুষশূন্য বহু গ্রাম। নির্বাচনকে উৎসবের বদলে ভয়, আতঙ্ক ও শোকে পরিণত করা হয়েছে। সরকারের নির্দেশে নেতাদের বাড়ি বাড়ি হানা দিচ্ছে রাতের বাহিনী। এভাবে জোড়াতালি দিয়ে নির্বাচনের পথে হাঁটছে মাফিয়া চক্র। তবে তুমুল আন্দোলন-জনজোয়ারে এই নির্বাচনী নাটক ভন্ডুল হয়ে যাবে। জনগণ আগামী ৭ জানুয়ারি দেশে আওয়ামী লীগ সরকারের ‘পতন দিবস’ উদযাপিত করবে।

দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচন পর্যন্ত আন্দোলনকে টেনে নেওয়ার সব রকমের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। অন্যদিকে, সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরাও আন্দোলন সফল করতে মরিয়া। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনকালে আন্দোলন পরিচালনার জন্য প্রতিটি থানা-উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে আন্দোলন কমিটি গঠন করা হবে। জেলা ও মহানগরেও একই উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। যাতে আন্দোলনের ঢেউ গ্রামেও পৌঁছায়।

একই সঙ্গে নির্বাচন ও ভোটের বিষয়ে সাধারণ জনগণকেও নিরুৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যাতে সরকার ইচ্ছা করলেও ভোটারদের কাছে টানতে না পারে। আগামী ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে সব দলকে নিয়ে একসঙ্গে মাঠে নামার আলোচনাও চলছে দলটিতে। অন্তত এক সপ্তাহ আগে চূড়ান্ত আন্দোলন ‘ডু অর ডাই’ শুরু করার প্রস্তাবনা রয়েছে সমমনা দল ও জোটের মধ্যেও।

দলটির নেতারা জানান, সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযানে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও ঘরছাড়া। তারা ধানক্ষেতে, নদীর মাঝে, বনে-জঙ্গলে রাতযাপন করছেন। মুখোশধারীরা বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীর ওপর হামলা করছে, হত্যা করছে। বাড়ি বাড়ি হামলার ঘটনা বাড়ছে। একটা বিভীষিকাময় পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তবে এটা আর বেশিদিন থাকবে না। সবাইকে একযোগে মাঠে নামানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তারা।

দলটির দপ্তরের নেতারা জানান, ঢাকার মহাসমাবেশ থেকে শুরু করে গতকাল শনিবার পর্যন্ত সারাদেশে ৪০৭ মামলায় ১৬ হাজারের অধিক নেতাকর্মী আটক, সরকারি দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় আহত সাড়ে ৪ হাজারের অধিক নেতাকর্মী। একজন সাংবাদিকসহ ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া গত ২৮ জুলাই থেকে সারাদেশে ৮০০-এর বেশি মামলায় ৬৯ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮ হাজারের ওপর। যদিও বিএনপি নেতারা বলছেন, এই হিসাবের বাইরে আরও অনেক ঘটনা রয়েছে, যেটা কেন্দ্রে আসে না।
আন্দোলনের প্রস্তুতির বিষয়ে বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সমাবেশ, পদযাত্রার মতো কর্মসূচির সুযোগ নেই। সে ক্ষেত্রে রাজপথের কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করতে হবে। সেটার জন্য যা যা করার দরকার, তা করতে হবে বলে মনে করছেন তারা। এ ক্ষেত্রে সব রকমের প্রস্তুতি গ্রহণের পাশাপাশি গত এক মাসে যেসব জায়গায় যেসব দুর্বলতা চিহ্নিত হয়েছে, সেসব দূর করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে এতদিনে দলের নিষ্ক্রিয়, মান-অভিমানে দূরে থাকা নেতাকর্মীকে সক্রিয় করছেন দলের হাইকমান্ড। আন্দোলনে সক্রিয়তার মাধ্যমেই পরবর্তী সময়ে পদপদবিসহ পুরস্কৃত করার কথা জানানো হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতার এমন আশ্বাসে দীর্ঘদিন ধরে সাইডলাইনে থাকা নেতারাও সক্রিয় হয়ে উঠছেন। এর মধ্যে রাজশাহীর মিজানুর রহমান মিনু, খুলনার নজরুল ইসলাম মঞ্জু ছাড়াও কেন্দ্রের অনেক নেতা মাঠে নামতে শুরু করেছেন। যেসব স্থানে আন্দোলন গড়ে ওঠেনি, সেখানে কেন্দ্রীয় নেতাদের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আবার কোন্দলপূর্ণ এলাকায় নেতাদের ঐক্যবদ্ধ করতেও কাজ করছেন দলের বিভিন্ন টিম। জানা গেছে, দলের নানামুখী উদ্যোগের মধ্যেও যারা কাজ করবেন না, আন্দোলনকে ব্যাহত করবেন, নেতাকর্মী বিচ্ছিন্ন থাকবেন– তাদের বিষয়ে দ্রুত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার হুঁশিয়ারিও রয়েছে। এসব নেতাদের চিহ্নিত করতে কেন্দ্রের একাধিক মনিটরিং টিম কাজ করছে। তারা নিয়মিত দলের হাইকমান্ডের কাছে প্রতিবেদন জমা দিচ্ছে এবং সেখান থেকে পরবর্তী করণীয় ও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে সূত্র জানায়।

বিএনপির বেশ কয়েকটি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা জানান, বিগত এক মাসে তাদের ওপর যেভাবে ধরপাকড় চলছে, কারাগারে নেওয়া হচ্ছে, তাতে তাদের সাংগঠনিক শক্তির সামান্যতম ক্ষতি হয়েছে। দেশের লাখো নেতাকর্মীর মধ্যে এ সংখ্যাটা মোটেও বড় নয়। সবাইকে গ্রেপ্তার এড়িয়ে চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। সেই হিসেবে আন্দোলনের মোক্ষম সময়ে তারা তাদের সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামার জন্য তৈরি আছেন।

যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, দেশের ১২ কোটি ভোটার বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভোটাররা তারুণ্যের শক্তি নিয়ে নিজেদের লুণ্ঠিত ভোটের অধিকার আদায়ে রাজপথে আছেন। এবার আর ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষে ভাগবাটোয়ারা নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। এই আন্দোলনে কেউ একা নন। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ এবং বিশ্বের গণতান্ত্রিক শক্তিও আর বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসন দেখতে চায় না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা