• বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০৬:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ঢাকায় ফিরে যা বললেন ডিবির হারুন-আনার হত্যাকাণ্ড বিশ্রাম শেষে মেসির গোল জেতাতে পারল না মায়ামিকে পোল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ-বঙ্গবন্ধু কাপ কাবাডি  লেবানন ও অস্ট্রেলিয়া  ম্যাচের স্কোয়াডে নেই জিকো, ফিরলেন মোরসালিন কান চলচ্চিত্র ইংরেজি বলার ভঙ্গি নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন কিয়ারা আদভানি! অভিনেত্রী  বিয়ে বা লিভ-ইন আমার কাছে আলাদা কিছু না : পায়েল মধ্যপ্রাচ্য শান্তি সম্মেলনের আহ্বান জানিয়েছেন-চীনের প্রেসিডেন্ট  একাধিক স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ-উত্তর কোরিয়ার মিশরের প্রেসিডেন্টের- গাজাবাসীকে ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত না করা’ নিশ্চিত করার আহ্বান  ডলার সংকট কোন দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশের ?

উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নিতে কঠোর অবস্থানে বিএনপি

অনলাইন ডেস্ক / ২২ Time View
Update : রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০২৪

২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচন এবং পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিক্ত অভিজ্ঞতার পরও আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন বিএনপির কিছু নেতা। তারা দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে দেখা করে কিংবা নানা মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে মতামতও দিচ্ছেন। যখন দল ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার’ আন্দোলনে রয়েছে, দলের অনেক নেতাকর্মী এখনো কারাগারে আছেন, সাজা হয়েছে কয়েকশ’ নেতাকর্মীর, মামলা নিয়ে নিত্য দিনই আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন হাজার হাজার নেতাকর্মী। তখন দলটির কিছু নেতা নির্বাচন নিয়ে উন্মুখ হয়ে উঠেছেন। কারণ হিসেবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখাসহ নানা ইস্যুকে সামনে আনছেন তারা। যদিও দলটির শীর্ষ নেতারা বর্তমান সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচন বর্জনের পর আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কেউ অংশগ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সতর্কও করে দিয়েছেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দলের সিদ্ধান্ত বিএনপি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যাবে না। কারণ বর্তমান সরকারের অধীনে অতীতে কোন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, আগামীতেও হওয়া সম্ভব নয়। তাই দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ নির্বাচনে গেলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী ৪ মে থেকে দেশব্যাপী উপজেলা নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে। দলটির তৃণমূল নেতারা এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যুক্তি হিসেবে বলছেন, এটি স্থানীয় নির্বাচন। যেহেতু এখানে দলীয় প্রতীক থাকছে না তাই সরকার জাতীয় নির্বাচনের মতো প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। দল নেতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করার পরও ইতোমধ্যে অনেক জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। দলটির জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ এই নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়ে দলের কঠোর সিদ্ধান্তের পক্ষেই কথা বলেছেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত রাখা উচিত। তবে দল যে সিদ্ধান্তই নিবে সেটি মেনে চলার বিষয়ে সকলেই একমত।

তাঁদের কেউ কেউ মনে করেন, নেতা-কর্মী ও জনসমর্থন ধরে রাখতে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া উচিত। ইতোমধ্যে অনেকে মাঠে নেমে গেছেন প্রচারণায়ও। তবে বেশির ভাগ নেতাই মনে করেন সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য সরকার এবার কৌশল নিয়েছে। যেকোনোভাবে বিএনপিকে এ নির্বাচনে আনা গেলে তাদের ‘একতরফা’ ও ‘ডামি’ সংসদ নির্বাচন নিয়ে যে বিতর্ক ও প্রশ্ন, সেটি কিছুটা হলেও কমাতে পারবে। তারা দেখাতে পারবে বিএনপি সংসদ নির্বাচন না করে ভুল করেছে। হাতে গোনা কয়েকটিতে হয়তো জিততে পারবে, তাতে এ সরকারের অধীন নির্বাচন না করার বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলনে তৈরি হওয়া নৈতিক অবস্থান নষ্ট হবে।

এদিকে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম- স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে সকলেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে মত দিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সময়মতো নেয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ বলেন, যেসব কারণে বিএনপি ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি, সেগুলো এখনো বিদ্যমান রয়েছে। বরং সংসদ নির্বাচন বর্জন করে এখন উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিলে রাজনৈতিকভাবে বিএনপির ‘নৈতিক অবস্থান’ দুর্বল হয়ে যাবে। যাঁরা বিএনপির আহ্বানে সাড়া দিয়ে সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে যাননি, তাঁরা বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেওয়াটা ভালোভাবে নেবেন না। এ ছাড়া এই মুহূর্তে বিএনপি নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতিতে নেই। মামলা ও কারাগারে গিয়ে হাজার হাজার নেতা-কর্মী আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতবিনিময় সভায় রমজান-পরবর্তী আন্দোলন-কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি উপজেলা নির্বাচনের প্রসঙ্গও ওঠে। সেখানে নেতাদের সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিপক্ষে মত দেন। এ বৈঠকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। এরপর স্থায়ী কমিটির একটি বৈঠকেও উপজেলা নির্বাচনের প্রসঙ্গ আসে। তখন সময়মতো আলোচনার পর সিদ্ধান্তের কথা হয়।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, দলে এখন পর্যন্ত উপজেলা নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আছে। আমরাও সেই ব্যাপারে অনড় আছি। দল আমাদের যে নির্দেশনা দিবে আমরা সেটি বাস্তবায়ন করবো। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে অতীতের মতো এবারও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, দলের অনেকে ইতোমধ্যে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ অনেকের সঙ্গে আগ্রহী দেখা করছেন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন, দলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখতে হলে নির্বাচনে যাওয়া উচিত। তবে দল যেটি সিদ্ধান্ত নিবে আমরা সেটিই বাস্তবায়ন করবো।

নেত্রকোণা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. মো. আনোয়ারুল হক বলেন, গুটি কয়েকজন নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। যারা আগ্রহ প্রকাশ করছেন তারা সকলে নিজের স্বার্থের জন্যই এটি করতে চান। এতে দলে কোন উপকার হবে না। তিনি বলেন, যে কারণে আমরা জাতীয় নির্বাচন বর্জণ করলাম, সেই কারণগুলোর কি কোন সমাধান হয়েছে? তাহলে কিভাবে আমরা এই সরকারের অধীনে আবারো নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করি? ডা. আনোয়ারুল হক বলেন, নিকট অতীতেই আমরাদের যারা বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে তাদের অবস্থা কি হয়েছে? এগুলো তো আমরা ভুলে যায়নি। তিনি বলেন, নির্বাচনে না যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত দল নিয়েছে সেটি যৌক্তিক। নির্বাচনে গেলে সরকারের স্বীকৃতি দেয়া হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আমরা আগের সিদ্ধান্তেই আছি। এখন পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোন সিদ্ধান্ত দল নেয়নি।

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীন আর কোনো নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ২০২১ সাল থেকে বিএনপি স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন বর্জন করে আসছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যাঁরা সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন, তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এখনো বিএনপি সেই সিদ্ধান্তেই আছে বলে জানা গেছে। সর্বশেষ ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনেও বিএনপি অংশ নেয়নি। #


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা