• বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পায়নি ইসরাইল

আন্তজাতিক ডেস্ক / ১৫ Time View
Update : শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৪

ইরানের ইস্পাহানে ইসরাইলের হামলা চালানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে তারা জানিয়েছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনায় সমর্থন দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যম এ খবর দিয়েছে। উল্লেখ্য, গতকাল ইরানের স্থানীয় সময় ভোর ৪টায় ইস্পাহানে ইসরাইল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ইরান এমন দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, অনুপ্রবেশকারীরা কিছু ড্রোন উড়িয়েছিল। তা গুলি করে ভূপাতিত করেছে তারা। এদিন ইরানের সার্বিক পরিস্থিতি ছিল শান্ত। পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ছিল নিরাপদ। ফলে মার্কিন ওই কর্মকর্তাদের বক্তব্যকে অনেকেই সত্য বলে মনে করছেন।

 

বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন না পেয়েই ইসরাইল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে বিরত থাকতে পারে। এসব বিষয়ে একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন লিখেছে, আমরা কোনো প্রতিক্রিয়াকে সমর্থন করিনি। তবে হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইরান বলছে, এই ঘটনার সঙ্গে মাত্র কয়েকটি ড্রোন জড়িত ছিল। ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে দেশটির একজন কর্মকর্তা বলেন, এ নিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমে যে খবর প্রচারিত হয়েছে তা সত্য নয়। ওদিকে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশন গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থা একটি ভিডিও পোস্ট করেছে। ভিডিও’র ক্যাপশনে লেখা হয়েছে ‘ইস্পাহানের পারমাণবিক কার্যক্রমের কেন্দ্র সম্পূর্ণ নিরাপদ’।

ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, একজন ব্যক্তি ইস্পাহান পারমাণবিক প্রযুক্তি কেন্দ্রের অনেকটা কাছে দাঁড়িয়ে তার ঘড়ি পরীক্ষা করছেন। তখন আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকেও দেখানো হয়। তারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি যানের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে মনে হয়। ওয়ার্ল্ড নিউক্লিয়ার এসোসিয়েশনের মতে, ইস্পাহান নিউক্লিয়ার টেকনোলজি সেন্টারে একটি ইউরেনিয়াম কনভার্সন ফ্যাসিলিটি (ইউসিএফ) আছে। সেখানে ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড তৈরি করা হয়। ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড নিউক্লিয়ার চুল্লির জ্বালানিতেও ব্যবহার করা যায়। আবার এটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে। ইউসিএফ’র পাশে একটি ইউরেনিয়াম অক্সাইড পাউডার প্লান্ট (ইইউপিপি) আছে, যা ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইডকে ইউরেনিয়াম অক্সাইডে রূপান্তর করে ও জ্বালানি তৈরি করে। ইউরেনিয়াম অক্সাইড আবার ইউরেনিয়াম ধাতুতেও রূপান্তরিত হতে পারে। ইরান বলেছে যে, তারা চুল্লির জ্বালানি তৈরিতে ইউরেনিয়াম ধাতু ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু এই ধাতু পারমাণবিক বোমার মূল তৈরিতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। ইসপাহান পারমাণবিক প্রযুক্তি কেন্দ্র চারটি ছোট পারমাণবিক গবেষণা চুল্লিও পরিচালনা করে। এগুলোকে সরবরাহ করেছিল চীন। ইরান জোরের সঙ্গে বলে যে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ। সেইসঙ্গে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আগ্রহ বা আকাঙ্ক্ষার কথা তারা অস্বীকার করে। কিন্তু ইসরাইল অভিযোগ করে যে, ইরান পারমাণবিক সক্ষমতা তৈরি করেছে, যা অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা