• বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ১২:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
দেশের ক্ষুদ্র–মাঝারি উদ্যোক্তারা পাবেন ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ, যেসব যোগ্যতা লাগবে ৭ দিনেও নৌ যোগাযোগ নেই, সেন্টমার্টিনে ফুরিয়ে আসছে চালের মজুদ প্রতিবারের মতো ঈদে চ্যানেল আইতে নতুন ৭ চলচ্চিত্র জঙ্গি হামলার ঘৃণার বিরুদ্ধে অবস্থান পাকিস্তানি অভিনেত্রীকে খুশবু খানকে গুলি করে হত্যা মহিলাদের নামাযের পোশাক কেমন হবে! ঈদকে সামনে রেখে সোনাগাজীতে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির আগামী শুক্রবার মক্কায় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি, হজযাত্রীদের মানতে হবে যে নির্দেশনা শীর্ষ কমান্ডার নিহতের জেরে ইসরায়েলে শতাধিক রকেট ছুড়ল হিজবুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া জানাল হামাস ও পিআইজে

দ্বাদশ নির্বাচনের পর দেশের সঙ্কট আরো গভীর হয়েছে -মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক / ৯ Time View
Update : সোমবার, ১৩ মে, ২০২৪

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের সংকট আরো গভীর হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, উনাদের (সরকার) একটা ফলস ধারণা তৈরি হয়েছে যে, সংকট থেকে তারা উপরে উঠে গেছেন। আমি বলব, সংকট আরও গভীর করেছে। বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সংকট আরও গভীর হয়েছে, সরকারের সংকটও আরও গভীর হয়েছে।

সরকারকে সর্তক করে দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা যদি এখনো সেটা উপলব্ধি না করেন, সংকট নিরসনের চেষ্টা না করেন তাহলে ভবিষ্যত তাদের জন্য খুব ভালো না। গতকাল রোববার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্য্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ এই সংবাদ তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

বিশ্ব মা দিবসের দিন বেগম খালেদা জিয়া কেমন আছেন জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির মা নয়, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মা। এজন্য যে, এই মহিয়সী নেত্রী তিনি সারাটা জীবনে এই গণতন্ত্রের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করে যাচ্ছে। দুর্ভাগ্য আমাদের এই মহিয়সী নেত্রীর তার সঠিক মূল্যায়নটা এদেশের অনেকে করতে পারছেন না। খালেদা জিয়া এখনো লড়াই করছেন, তার স্বাস্থ্যের অবস্থা খুবই খারাপ। প্রায়শ: তিনি যাচ্ছেন হাসপাতালে, চেকআপ, প্রসিডিউরও হচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে, আবার বাসায় ফিরে আসছেন। আসার পরেও কিন্তু তিনি ২৪ ঘন্টাই বলা যায় যে, তিনি মেডিকেল কেয়ারের মধ্যে আছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখানে একটা গোত্র তৈরি করা হচ্ছে যাদেরকে সমস্ত রকম দুর্নীতি-অনিয়মের মধ্য দিয়ে অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে, একটা লুটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেটা দিয়ে তারা এই সরকারকে টিকিয়ে রাখছে, এর মধ্যে তারা নিজেরাও জড়িত এবং তাদের সুবিধাভোগী লোকজনরা জড়িত।

তিনি বলেন, আজকে যেগুলো দেখছেন সেগুলো হচ্ছে লুট, মেগালুট। একজন ব্যক্তি সে এখন সিঙ্গাপুরে গিয়ে সর্বোচ্চ বিনিয়োগকারীর চার নম্বরে আছেন। আর কয়েকজন ব্যক্তি আছেন পানামা লিস্টে, এতো টাকা তারা বানিয়েছেন। এরা দুর্নীতি-অনিয়মের ওপর ভিত্তি করে এই রাষ্ট্রকে কি করে পরনির্ভরশীল করা যায় এবং তাদের বিশেষ গোত্রকে কিভাবে অন্যায়ভাবে আর্থিক দিক থেকে শক্তিশালী করা যায় সেই লক্ষ্যে তারা কাজ করছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে কারো কোনো জবাবদিহিতা নেই। একজন মন্ত্রীর লন্ডনে আড়াইশ’-তিনশ’ মতো বাড়ি, মন্ত্রী-এমপির বাড়ি-সম্পদ দেশের বাইরে রয়েছে, কোন জবাবদিহিতা আছে? তারা ডোন্ট কেয়ার। তাদের যে বক্তব্য, দাম্ভিকতা! এমনভাবে কথা বলেন যে, উনারা ছাড়া দেশে আর কেউ নেই। এটাতেই প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, বাংলাদেশ অলরেডি একটা ব্যর্থ রাষ্ট্র হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আমরা আগে থেকে বলছি, এই সরকার পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের এই পরিণত করেছে। কখন ব্যর্থ রাষ্ট্র হয়? যখন অর্থনৈতিক, মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলে, রাজনৈতিক স্ট্রাকচারটা ভেঙে ফেলে, সামাজিক কাঠামো ভেঙে যায়, কোথাও জবাবদিহিতা থাকে না। তখন রাষ্ট্র একটা রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়, নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়। এখন গোটা দেশে একটা নৈরাজ্য চলছে।

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার শাসনামলে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি তৈরির পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমান একটা ক্লোজড ইকোনমি, একটা ফেল্ড পলিটিক্যাল স্টাকচার থেকে বেরিয়ে এনে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছিলেন, মিক্সড অর্থনীতি এবং পরবর্তিকালে প্রাইভেট সেক্টার চালু করেছিলেন। ফলে উন্নয়নের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বেগম জিয়া তার শাসনমালে সেগুলো এগিয়ে নিয়ে গেছে। একটা বিষয় আপনাদের মনে থাকার কথা ২০০৬ সালের সময়ে নিউজ উইকের মতো পত্রিকা কাভার স্টোরি করেছিলো, বাংলাদেশ ইমার্জিং টাইগার। আর এমনভাবে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) কথা বলে যে, গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর সময়ে কোনো উন্নয়নই হয়নি। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত যে উন্নয়ন হয়েছে সেই উন্নয়নই অর্থনীতির ভিত্তি তৈরি করেছে। আজকে যা দেখছেন সেগুলো হচ্ছে লুট, মেগালুট।

স্বাস্থ্য খাতের দুরাবস্থার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ঢাকার বাইরে সরকারি হাসপাতালে ঢুকা যায় না, এতো দুর্গন্ধ, নোংরা, দালালদের অত্যাচার, চিন্তা করা যায় না। আর হাসপাতালের চারপাশে নতুন নতুন ডায়গোনেস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক গড়ে উঠেছে, এটা বড় ব্যবসা। এখান থেকে দালালরা আসে সরকারি হাসপাতাল থেকে ধরে নিয়ে যায় রোগী, এই হচ্ছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয়করণের মাধ্যমে ভিসি ও শিক্ষক নিয়োগের ফলে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কারণে মেধা পাচার হচ্ছে। মেধাবীরা দেশে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। এখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতেই হবে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার উদাসীন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই ঘটে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক কিংবা ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন ধরনের অসংক্রামক রোগে। অথচ এসব রোগ মোকাবেলায় সরকারের অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ মাত্র মোট স্বাস্থ্য বাজেটের ৪ দশমিক ২ শতাংশ। এর আগে গত মার্চ মাসে সিপিডির একটি রিপোর্টেও জনস্বাস্থ্যের এক ভয়ঙ্কর চিত্র ফুটে উঠেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশের প্রায় ১৩ কোটি মানুষ প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করতে পারছেন না। গত মার্চ মাসেই বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ-বিএফএসএ’র শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, দেশে প্রতিবছর ১ লাখ ১৪ হাজার মানুষ ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করছে। এই ক্যন্সারের মূল কারণ অনিরাপদ খাদ্য। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবৈধ সরকার কি ধরণের ব্যবস্থা নিয়েছে। জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তায় এই সরকার কেন এতো উদাসীন? জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের উচিত দেশে আমদানি করা প্রতিটি পণ্য বাজারে ছাড়ার আগে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পণ্যের মান যাচাই করে নেয়া। কিন্তু বর্তমান তাবেদার সরকার আমদানি করার খাদ্যপণ্য যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে কিনা এ ব্যাপারে জনগনের যথেষ্ট সন্দিহান। তাই তাবেদার সরকারের ওপর ভরসা না করে নিজেই নিজের সাধ্যমত নিজের এবং পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

বিচার ব্যবস্থাকে দলীয়করণ করে সরকার মিথ্যা মামলায় বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের দ্রুত সাজা প্রদানে যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে তা অবিলম্বে বন্ধের দাবিও জানান বিএনপি মহাসচিব।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশীয় বিষয়ক সহকারি সচিব ডোনাল্ড লু‘র ঢাকা সফর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেখুন এসব আমাদেরকে জিজ্ঞাসা না করে উনাদের (আওয়ামী লীগ সরকার) জিজ্ঞাসা করুন। এসব নিয়ে আমরা ইন্টারেস্টেড না। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের জনগণের ওপরই আমাদের ভরসা, আমাদের পুরো আস্থা, সেই আস্থার উপরে আমরা দাঁড়িয়ে থাকি। রাজনীতিও আমাদের জনগণকে নিয়ে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা