• বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০৭:০০ অপরাহ্ন

মওলানা ভাসানীর -আজ ফারাক্কা দিবস

অনলাইন ডেস্ক / ৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৬ মে, ২০২৪

বিরূপ আবহাওয়ায় পুড়ছে মানুষ পুড়ছে প্রকৃতি। তীব্র তাপাদহ আর লু হাওয়ায় অতিষ্ট মানুষ। নদী খাল বিল সব মরে গেছে। ভূগর্ভস্ত পানির স্তর নেমে গেছে বহু নীচে। চলছে পানির সঙ্কট। দীর্ঘ খরা ও বৃষ্টিহীনতার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে চাষাবাদ, মৎস্য, পোলট্রিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে। চারিদিকে মরুময়তা ধেয়ে আসছে। আজ হতে ৪৮ বছর আগে ফারাক্কা বাঁধ চালুর ফলে এর কি ভয়াবহ বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে তা অনুধাবন করেছিলেন এ দূরদর্শী মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী। ১৯৭৬ এর ১৬ই মে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে ভারতের পানি আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন সারা বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মজলুম মানুষের এই সংগ্রামী নেতা। রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে লাখো কন্ঠের গগন বিদারী শ্লোগানের মধ্যদিয়ে বজ্রকন্ঠে ঘোষণা করেছিলেন মরনবঁধা ফারাক্কা ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও। গঙ্গার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে দাও বলে শ্লোগান নিয়ে লংমার্চের মাধ্যমে যে আওয়াজ তুলেছিলেন তা আজও আন্দোলিত করে আকাশ বাতাসে। পদ্মার নিঃস্প্রান তরঙ্গে তারই প্রতিধ্বনি শোনা যায়। চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাংখা পয়েন্টে (যেখান হতে পদ্মার শুরু) রাজশাহী, পাবনার ঈশ্বরদীর হার্ডিজ পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় দুইশত কিলোমিটার জুড়ে আঠারো মিটার বিশাল বালিচর যেন তপ্ত বালির কড়াই। প্রচন্ড খরতাপে মানুষের জীবনকে লন্ডভন্ড করে দিচ্ছে। শীর্ণ খালের রূপ নিয়েছে এক সময়ের প্রমত্ত পদ্মা। পদ্মা মরে যাবার সাথে সাথে পঁচিশটি নদ-নদীর অস্তিত্ব প্রায় বিলীন। খাল বিলের অস্তিত্ব হারিয়েছে।

১৯৭৬ সালের ১৬ মে লংমার্চের পটভূমি ছিল বাংলাদেশের পরিবেশ প্রকৃতি জীব বৈচিত্র কৃষি মৎস্য নৌ যোগাযোগ তথা সার্বিক জীবন জীবীকার উপর সর্বনাশা ফারাক্কা ব্যারেজের বিরূপ প্রভাব। আসন্ন বিপর্যয়ের বিষয়টা অনুধাবন করতে পেরে আন্তজাতিক নদী পদ্মার পানির নায্য হিস্যার দাবিতে গর্জে ওঠেন মওলানা ভাসানী। ডাক দেন ফারাক্কা লংমার্চের তার ডাকে সাড়াদিয়ে আওয়াজ ওঠে চলো চলো ফারাক্কা চল। মরনবাঁধ ফারাক্কা ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও। লংমার্চে যোগ দেবার জন্য সারা দেশ থেকে বিভিন্ন পথে সে সময় লাখো মানুষ জমায়েত হয়েছিল রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে। সেখানে তিল ধারনের জায়গা ছিলনা। মানুষ অবস্থান নিয়েছিল মাদরাসা ময়দানের আশেপাশে এলাকাজুড়ে। চারিদিক ছিল মানুষ আর মানুষ। শ্লোগান ছিল চলো চলো ফারাক্কা চলো। পদ্মার তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে বিখ্যাত তালের টুপি সফেদ লুঙ্গি আর পাঞ্জাবী পরিহিত মওলানা ভাসানী লংমার্চ নিয়ে চাপাইনবাবগঞ্জ যাবার আগে স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতে দশ মিনিটের এক জ্বালাময়ী ভাষণ দেন যা ছিল দিক নির্দেশক ও উদ্দীপক। এরপর লাখো মানুষকে সাথে নিয়ে চাপাইনবাবগঞ্জের উদ্যেশ্যে লংমার্চ নিয়ে রওনা করেন। রাজশাহী শহর পার হতে না হতে লংমার্চ পড়ে বিরুপ আবহাওয়ার মুখে। ঝড় বৃষ্টি আর খরতাপ মাথায় নিয়ে এগিয়ে চলে কাফেলা। কোন কিছুই কাফেলার যাত্রা রোধ করতে পারেনি। রাতে লংমার্চের মানুষের বহর থামে চাপাইনবাবগঞ্জে। রাতে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেবার পর ফের সকালে যাত্রা। পথের যাত্রা বিরতির সময় খাবার ছিল সামান্য ডাল চালের খিচুড়ি আর শুকনো চিড়া।

লংমার্চ যদি সীমান্ত অতিক্রম করে ফারাক্কা ব্যারেজ চলে আসে এমন শঙ্কায় ভারত সীমান্তে প্রচুর সৈন্য মোতায়েন করেছিল। ফারাক্কা লংমার্চে লাখো মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আর লক্ষকন্ঠের গগন বিদারী শ্লোগান ভারতের শাসক গোষ্ঠীর কপালে দুঃচিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল।

ফারাক্কা ব্যারেজ তৈরী করার সময় পশ্চিম বঙ্গের প্রধান প্রকৌশলী কপিল ভট্টাচার্য এর বিরোধীতা করে বিরূপ সমালোচনার শিকার হন। ভারত সব শঙ্কাকে উপেক্ষা করে ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ করে। তারপরও গঙ্গাকে ঘিরে বাস্তবায়ন করে নানা প্রকল্প। পানির অভাবে ভাটির দেশ শুকিয়ে মরলেও তা আমলে নিতে নারাজ ভারতের পানি শোষণকারী নীতিনির্ধারকরা। পানি বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা এমন অবস্থা চলতে থাকলে পানি ও নদী একেবারে হারিয়ে যাবে। যা ভয়ঙ্কর অবস্থার সৃষ্টি করবে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ আঞ্চলিক ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে সোচ্চার হতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা