ছবির মানুষটির নাম সৈয়দ আবেদ আলি (জীবন)। পেশায় ছিলেন বাংলাদেশ কর্ম কমিশন (পিএসসি) চেয়ারম্যানের গাড়ির ড্রাইভার। এই চাকরি করে তিনি ঢাকায় ২টা বহুতল বাড়ি করেছেন। কুয়াকাটায় পাঁচ তারকা হোটেল দিয়েছেন। গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে গড়েছেন আলিশান প্রাসাদ। তার ছেলে মার্সিডিজ গাড়িতে চলাফেরা করেন (পোলার গাড়িসহ ছবি কমেন্টে দেওয়া হয়েছে)। লাক্সারি লাইফ লিড করছেন। তা সোশ্যাল মিডিয়ায় শো-অফ করছেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। কাজের ফাঁকেও নামাজ মিস হয় না। কাজের ফাঁকে নামাজ আদায়ের সেসব ছবি তু তুলে আবার ফেসবুকেও আপলোড দেন। তরুণদের সৎ পথে থাকার আহবান করেন। সৎভাবে জীবিকা উপার্জনেরও পরামর্শ দেন (ভন্ড লোক দেখানো ইবাদতকারী দুর্নীতিবাজ প্রতারকের সকল ছবি কমেন্টে পাবেন)।
কিন্তু পর্দার পেছনে আসল গল্প হলো: এই লোক এবং তার চক্র গত ১০ বছর ধরে বিসিএসসহ সরকারি চাকরির বিভিন্ন পরিক্ষার প্রশ্নফাঁস করে আসছেন। বিসিএসসহ এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০টি সরকারি চাকরি পরিক্ষায় প্রশ্নফাঁসের খবর বেরিয়ে এসেছে চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরের অনুসন্ধানে।
পিএসসির পরিচালক, উপ-পরিচালক এবং চেয়ারম্যানের গাড়ির ড্রাইভার এই আবেদ আলিদের চক্র ২কোটি টাকার বিনিময়ে বিসিএসের মতো সবচেয়ে সিকিউর এক্সামের প্রশ্নফাঁস করতো।
যে বিসিএস পরীক্ষার জন্য লাখ লাখ ছেলে-মেয়ে দিনরাত একনিষ্টভাবে লাইব্রেরিতে পড়ে থাকেন। অথচ সে সোনার হরিণ চাকরির প্রশ্ন কোটি টাকার বিনিময় আগেই পেয়ে যান কেউ কেউ। হাউ ইট পসিবল!
চাকরির সব পরিক্ষায় প্রশ্নফাঁস, দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতিতে যখন মোহগ্রস্ত তখন এই একটি সরকারি চাকরির পরিক্ষায় তরুণদের আস্থা ছিল। বিশ্বাস নিয়ে তরুণরা দিনরাত এক করে প্রিপারেশন নিতো। আজ সেই বিশ্বাসেও শেষ পেরেক ঠুকে গেল।
সর্বশেষ রেলওয়ে সরকারি চাকরি পরিক্ষার প্রশ্নফাঁস করেছে তারা। ৫১৬টি পদের পরিক্ষা, প্রশ্নফাঁস করেছে অন্তত ৬০০-৭০০ জনের কাছে। যেখানে ফাইটটা দাঁড়াল জালিয়াত-জালিয়াত, সেখানে তরুণদের মেধার ফেয়ার লড়াইয়ের জায়গাটা কোথায়!
এই দেশের মেধাবী তরুণরা যাবে কোথায়?
গত এক যুগে তরুণরা দেশ ছাড়ার পরিসংখ্যান তিনগুণ হয়েছে। কেন মেধাবী ছেলে-মেয়েরা দেশ ছাড়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। তার উত্তর পেয়েছেন?
এদেশে না আছে ফেয়ার চাকরি, না আছে জীবনের নিরাপত্তা, না আছে সামাজিক মর্যাদা। যেখানেই যে চোরের দুর্নীতিবাজের তথ্য জানতে পাবেন তাদের পরিবারকে দেশ ও সমাজের চোখে শত্রু মনে করে শেয়ার করে ভাইরাল করবেন।