
অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। ইসরায়েলি অবরোধের কারণে সৃষ্ট চরম খাদ্য ঘাটতিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ ফিলিস্তিনি অনাহারে মৃত্যুবরণ করেছেন। বুধবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অনাহারজনিত কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৯৬ জনই শিশু, যা পরিস্থিতিটির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
ইসরায়েল দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে গাজার ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে এবং গত ২ মার্চ থেকে সমস্ত সীমান্তপথ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে মানবিক ত্রাণ সহায়তা প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে এবং ভূখণ্ডটির প্রায় ২৪ লক্ষ মানুষের জীবনযাত্রার পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ জুলাই থেকে ইসরায়েল মাত্র ৮৪৩টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে, যেখানে মাত্র ১০ দিনের জন্য বাসিন্দাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে প্রায় ৬,০০০ ট্রাকের প্রয়োজন।
গাজায় চালানো ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের কারণে ইসরায়েল বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই বর্বরোচিত সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৬১,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এই আগ্রাসন পুরো ভূখণ্ডটিকে বিধ্বস্ত করেছে এবং দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল।
এছাড়া, গাজায় চালানো যুদ্ধের জন্য ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) গণহত্যার অভিযোগে বিচারের সম্মুখীন হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 






















