কলকারখানার কেমিক্যালযুক্ত বিষাক্ত বর্জ্যে পরিবেশ দূষণ নতুন কিছু নয়। বছরের পর বছর ধরে এটা হয়ে আসছে। অথচ এই দূষণরোধে পরিবেশ আইনে শিল্প-কারখানায় তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। তেমনি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠা "মিশন কালার ডাইং"। প্রতিষ্ঠানটি ইটিপি স্থাপন না করেই দেধার্চে পরিচালিত হয়ে আসছে। ডাইং এর রঙ, বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রিত অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি ডাইংয়ের সামনের খালে গিয়ে পড়ছে। এতে দূষিত হচ্ছে পানি। বিবর্ণ আকারের সেই পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে খালের পানি। এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি বিষাক্ত পানির দুর্গন্ধে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত পাইকোশা বাজার সংলগ্ন পাইকোশা লাহিরীবাড়ি এলাকায় অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে "মিশন কালার ডাইং" নামক প্রতিষ্ঠানটিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠার কারনে এর আশেপাশের অবস্থা একেবারে শোচনীয়। মারাত্মক পরিবেশগত সংকটে পড়েছে ডাইং সংলগ্ন এলাকা। শুধু তাই নয় এ প্রতিষ্ঠান হতে নির্গত তরল বর্জ্য মারাত্মক বিষাক্ত। এই বিষাক্ত তরল বর্জ্য কোনো রকম পরিশোধন ছাড়াই সরাসরি পাশের জলাশয়ে গিয়ে পড়ছে। কারণ এই প্রতিষ্ঠানে নেই কোনো ইটিপি। যার কারনে ঐ অঞ্চলের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। শুধু পানি দূষনই নয়। এই প্রতিষ্ঠানের কারনে বায়ুদূষনের মাত্রাও কম নয়। জানা যায়, এই প্রতিষ্ঠানটি জ্বালানী হিসেবে গ্যাস ব্যাবহার করছে না। তারা কাঠ ঝুট পুড়িয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। যা সম্পূর্ন নিয়ম বহির্ভূত ও পরিবেশের জন্য মারাত্নক ক্ষতিকর। এ ছাড়াও অতাবশ্যক ইটিপি প্রনালী নেই এই প্রতিষ্ঠানে। এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে তারা জানান, প্রতিষ্ঠানটি অনেকদিন ধরেই পরিবেশের ক্ষতি করে চলে আসছে। কিন্তু কেউ এ নিয়ে কিছু বলার সাহস পায়নি। এ প্রতিষ্ঠানটির ক্যামিকেল মিশ্রিত পানি সরাসরি খালের পানির সাথে মিশে মানুষের সংস্পর্শে এসে মানুষের নানাবিধ জটিল চর্মরোগের কারন হচ্ছে। শুধু তাই নয় এ প্রতিষ্ঠানের তীব্র বায়ু দূষণের কবলে পরে শ্বাসনালীর নানাবিধ সমস্যায় ভুগছে স্থানীয়রা। এ নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই স্থানীয়দের। মিশন কালার ডাইং প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় রোকন, সেলিম, মনি, হেলাল একত্রে দীর্ঘ ২ বছর যাবৎ পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানে মালিক রোকনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আপনাদের সাথে এই বিষয় কোন কথা নেই। আপানারা কি সরকারি দপ্তরের কেউ? আমাদের গ্রামের মধ্যে এই কারখানা চালাতে কোন কাগজপত্র এবং ইটিপির প্রয়োজন নেই। আপনারা যা পারেন করেন। আমাদের সব অফিসের সাথেই যোগাযোগ আছে, ম্যানেজ করেই এভাবে চালাচ্ছি। তবে এলাকাবাসীর দাবী অতি দ্রুত এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হোক এবং এলাকাবাসীকে বিশুদ্ধ বাতাস নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হোক। এ নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা বিরুদ্ধে।