ঢাজা ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

 পিত্তথলির পাথর অপারেশন ছাড়াই গলবে

আজকের ব্যস্ত জীবনধারায় পেটের নানা সমস্যা যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পিত্তথলিতে পাথর যেটা এখন অনেক সাধারণ, কিন্তু উপেক্ষা করলে ভয়ানক জটিলতায় রূপ নিতে পারে। তবে আশার খবর হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে চললে অপারেশন ছাড়াই অনেক সময় এই পাথর গলিয়ে ফেলা সম্ভব।

গলব্লাডারে পাথর তৈরি হলে প্রথমে সাধারণ পেটব্যথা দিয়েই উপসর্গ শুরু হয়। অনেকে এটাকে হালকা সমস্যা ভেবে পাত্তা না দিয়ে চালিয়ে যান শুধু ব্যথার ওষুধে। কিন্তু ধীরে ধীরে এই অবহেলা রূপ নিতে পারে জটিল অস্ত্রোপচারে। তবে, ছোট আকারের পাথর হলে সেটি শরীর থেকেই ধীরে ধীরে গলে গিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে। আর সেজন্য নিয়মিত কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে বড় সমাধান।

কি কি ঘরোয়া উপায়ে উপকার মিলতে পারে? চলুন এক নজরে জেনে নিই..

প্রচুর পানি পান করুন:

দেহে পানির ঘাটতি থাকলে পিত্ত ঘন হয়ে পাথরের আশঙ্কা বাড়ে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি খেলে পাথর সহজে গলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। চাইলে পানিতে লেবু বা কমলার রসও মিশিয়ে নিতে পারেন, যা সাইট্রাস উপাদানে সমৃদ্ধ।

সাইট্রাস ফলের জাদু:
লেবু, কমলা, মাল্টা—এই ধরনের ফল পেটে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেলে হজম ব্যবস্থাও উন্নত হয়।

ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খান:
সাদা চালের বদলে বেছে নিন গোটা শস্য। সঙ্গে রাখুন ফলমূল ও শাকসবজি। এগুলো হজমে সহায়তা করে এবং পিত্তথলির চাপ কমায়।

চর্বিযুক্ত ও অতিরিক্ত নুনজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন:

চকোলেট, অতিরিক্ত নুন, পালংশাক, খাসির মাংস এই ধরনের খাবার পিত্তে চাপ বাড়ায়। তাই চেষ্টা করুন যতটা সম্ভব পরিমিত খেতে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন:
ওজন বেশি হলে গলব্লাডারে পাথর গলার গতি কমে যায়। তাই ব্যায়াম ও সুষম আহারের মাধ্যমে ওজন ঠিক রাখা জরুরি।

ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে ভুলবেন না:
দই, সয়াবিন, ডাল ও বীজজাত খাবার হজম শক্তি বাড়ায় এবং শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাও উন্নত করে।

হলুদের গুণ:

হলুদে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পেটের যেকোনো প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, পিত্তথলির ব্যথাও নিয়ন্ত্রণে রাখে।

বেরি ও বেরি জুস:
বেরি জাতীয় ফলে থাকে ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়—যার ফলে পাথর তৈরি হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

ঘরোয়া এই নিয়মগুলো মেনে চললে অনেকক্ষেত্রেই পিত্তথলির পাথর ছোট থাকতে থাকতেই গলে যেতে পারে। তবে যদি ব্যথা বেড়ে যায় বা সমস্যা জটিল মনে হয়, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়। কারণ, ঘরোয়া উপায় সহায়ক হতে পারে, কিন্তু প্রতিস্থাপক নয়। স্বাস্থ্যই জীবনের আসল সম্পদ, তাই সাবধান থাকুন সুস্থ থাকুন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করা হয়েছে

 পিত্তথলির পাথর অপারেশন ছাড়াই গলবে

সপ্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

আজকের ব্যস্ত জীবনধারায় পেটের নানা সমস্যা যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পিত্তথলিতে পাথর যেটা এখন অনেক সাধারণ, কিন্তু উপেক্ষা করলে ভয়ানক জটিলতায় রূপ নিতে পারে। তবে আশার খবর হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে চললে অপারেশন ছাড়াই অনেক সময় এই পাথর গলিয়ে ফেলা সম্ভব।

গলব্লাডারে পাথর তৈরি হলে প্রথমে সাধারণ পেটব্যথা দিয়েই উপসর্গ শুরু হয়। অনেকে এটাকে হালকা সমস্যা ভেবে পাত্তা না দিয়ে চালিয়ে যান শুধু ব্যথার ওষুধে। কিন্তু ধীরে ধীরে এই অবহেলা রূপ নিতে পারে জটিল অস্ত্রোপচারে। তবে, ছোট আকারের পাথর হলে সেটি শরীর থেকেই ধীরে ধীরে গলে গিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে। আর সেজন্য নিয়মিত কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে বড় সমাধান।

কি কি ঘরোয়া উপায়ে উপকার মিলতে পারে? চলুন এক নজরে জেনে নিই..

প্রচুর পানি পান করুন:

দেহে পানির ঘাটতি থাকলে পিত্ত ঘন হয়ে পাথরের আশঙ্কা বাড়ে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি খেলে পাথর সহজে গলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। চাইলে পানিতে লেবু বা কমলার রসও মিশিয়ে নিতে পারেন, যা সাইট্রাস উপাদানে সমৃদ্ধ।

সাইট্রাস ফলের জাদু:
লেবু, কমলা, মাল্টা—এই ধরনের ফল পেটে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেলে হজম ব্যবস্থাও উন্নত হয়।

ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খান:
সাদা চালের বদলে বেছে নিন গোটা শস্য। সঙ্গে রাখুন ফলমূল ও শাকসবজি। এগুলো হজমে সহায়তা করে এবং পিত্তথলির চাপ কমায়।

চর্বিযুক্ত ও অতিরিক্ত নুনজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন:

চকোলেট, অতিরিক্ত নুন, পালংশাক, খাসির মাংস এই ধরনের খাবার পিত্তে চাপ বাড়ায়। তাই চেষ্টা করুন যতটা সম্ভব পরিমিত খেতে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন:
ওজন বেশি হলে গলব্লাডারে পাথর গলার গতি কমে যায়। তাই ব্যায়াম ও সুষম আহারের মাধ্যমে ওজন ঠিক রাখা জরুরি।

ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে ভুলবেন না:
দই, সয়াবিন, ডাল ও বীজজাত খাবার হজম শক্তি বাড়ায় এবং শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাও উন্নত করে।

হলুদের গুণ:

হলুদে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পেটের যেকোনো প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, পিত্তথলির ব্যথাও নিয়ন্ত্রণে রাখে।

বেরি ও বেরি জুস:
বেরি জাতীয় ফলে থাকে ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়—যার ফলে পাথর তৈরি হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

ঘরোয়া এই নিয়মগুলো মেনে চললে অনেকক্ষেত্রেই পিত্তথলির পাথর ছোট থাকতে থাকতেই গলে যেতে পারে। তবে যদি ব্যথা বেড়ে যায় বা সমস্যা জটিল মনে হয়, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়। কারণ, ঘরোয়া উপায় সহায়ক হতে পারে, কিন্তু প্রতিস্থাপক নয়। স্বাস্থ্যই জীবনের আসল সম্পদ, তাই সাবধান থাকুন সুস্থ থাকুন।