বিপিএল’র আসন্ন আসরে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিসিবি। ফিক্সিং ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবার ‘জিরো টলারেন্স’- নীতি থাকছে। এর অংশ হিসেবেই ড্রাফ্ট তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের রিপোর্টের ভিত্তিতে বেশ কয়েকজন দেশি ক্রিকেটার বাদ পড়েছেন। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘গত আসরের অনিয়ম নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি কাজ করেছে। দীর্ঘ আট মাস তদন্ত করে তারা ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এই প্রতিবেদন যাচাই করেছেন বিপিএল ইন্টিগ্রিটি এডভাইজার অ্যালেক্স মার্শাল। যারা ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায়, তাদেরই বাদ দেয়া হয়েছে। বিসিবি এখনই কাউকে সরাসরি দোষী বলছে না। নামও প্রকাশ করছে না। তবে টুর্নামেন্টকে কলুষমুক্ত রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের ক্লিয়ারেন্স ছাড়া কেউ দলের সঙ্গে থাকতে পারবে না। কোচিং স্টাফ বা কর্মকর্তাও নন। হোটেলে, বাসে বা ড্রেসিংরুমে ঢোকা নিষেধ। বিসিবি নিজস্ব এখতিয়ার ব্যবহার করেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ক্রিকেটারদের মতো কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও নিয়ম একই। কোচিং স্টাফদের জন্যও কঠোর নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বিসিবি ইতিমধ্যেই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছে তালিকা চেয়েছে। দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার নাম থাকতে হবে। ইন্টিগ্রিটি ইউনিট এই তালিকা যাচাই করবে। সন্দেহভাজন বা ‘রেড ফ্ল্যাগ’ পাওয়া কেউ দলের সঙ্গে থাকতে পারবেন না। তারা বাস বা হোটেলেও অবস্থান করতে পারবেন না। তাদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দেয়া হবে না। বিসিবি স্পষ্ট জানিয়েছে, গভর্নিং কাউন্সিলের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কাকে নেয়া হবে আর কাকে নয়, তা তারাই ঠিক করবেন। এখানে প্রমাণের চেয়ে সতর্কতাই মুখ্য। বিদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। কঠোর যাচাই-বাছাই শেষে ক্লিয়ারেন্স নেয়া হচ্ছে। টুর্নামেন্ট চলাকালীন অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সাদ পড়া ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিসিবি কথা বলেছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। অভিযুক্তদের নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের সুযোগ থাকবে। আপাতত তারা বিপিএল-এ নিষিদ্ধ। তবে অন্য লীগে খেলার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট লীগ কমিটির ওপর নির্ভর করবে। দেশে ফিক্সিং প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট আইন নেই। তবুও সরকার ও বিসিবি এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রয়োজনে এই তদন্ত প্রতিবেদন আইসিসি’র সঙ্গে শেয়ার করা হতে পারে। যাতে তা গ্লোবাল লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল এমন ইঙ্গিতই দিয়েছে।