শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সি আর আবরার বলেছেন, সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা সর্বোচ্চ এবং সেই মর্যাদা শক্তিশালী করতে হবে। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মানবিকতা, নৈতিকতা ও নাগরিক চেতনায় গড়ে তোলার মূল শক্তি।
ফরিদপুর টিচার্স ট্রেনিং কলেজে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (LEiSE) প্রজেক্ট আয়োজিত মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার নবীন শিক্ষকদের ৫৬ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পরিদর্শন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আবরার বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর। দীর্ঘদিন ধরে এই পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত প্রশিক্ষণ কাঠামোর অভাব ছিল, যা এখন পূরণ হচ্ছে। তিনি উপস্থিত থাকতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারের সীমিত সম্পদ ও নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রের আর্থিক সংকট সত্ত্বেও নিয়মিত ঋণ পরিশোধ, বেতন-ভাতা প্রদান এবং উন্নয়ন কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে। “শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বৃহৎ বিনিয়োগ প্রয়োজন, তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা প্রশিক্ষণসহ বহু উদ্যোগ নিয়েছি,” তিনি উল্লেখ করেন।
প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষকরা কোন ক্ষেত্রে উন্নয়ন সম্ভব তা মূল্যায়নের মাধ্যমে জানাবেন। সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া মূল্য সংযোজন অসম্ভব। কী ভালো হয়নি, কোথায় উন্নতি প্রয়োজন—এসব আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
প্রফেসর ড. আবরার শিক্ষকদের পেশাগত জীবনে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব না দিতে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে মূল্যবোধের চর্চার কেন্দ্রে পরিণত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “মাধ্যমিক শিক্ষকদের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শিক্ষার মান উন্নয়নে একটি বড় পদক্ষেপ। সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সরকার এই উদ্যোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।”
অনুষ্ঠানে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার মহাপরিচালক, স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, প্রশিক্ষক ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।