
যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও বদলায়নি গাজার পরস্থিতি। এখনও চুক্তি লঙ্ঘন করে মাঝে মধ্যেই হামলা চালাচ্ছে দখলদার ইসরাইল। এই আবহে প্রকাশ্যে এসেছে ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরাইলি সেনাদের ভয়াবহ অত্যাচারের তথ্য। এবার জানা গেছে, অসংখ্য ফিলিস্তিনিকে গুলি করে খুন করে বুলডোজার দিয়ে মাটিচাপা দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।
বুধবার মার্কিন বার্তা সংস্থা সিএনএন এর এক তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ফিলিস্তিনের গাজায় জিকিম ক্রসিংয়ের কাছে ত্রাণ নিতে যাওয়া বহু ফিলিস্তিনিকে নির্বিচার গুলি করে খুন করে ইসরাইলি সেনা। তারপরে সেই লাশ বিভিন্ন স্থানে গণকবর দেয়া হয়েছে, যেগুলো চিহ্নিত করা হয়নি। আইনবিশেষজ্ঞরা বলছেন, অচিহ্নিত সমাধিতে লাশ কবর দেওয়ার ঘটনায় লঙ্ঘন হতে পারে আন্তর্জাতিক আইন। এটি জেনেভা চুক্তির আওতায় গণ্য হতে পারে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে।
ইসরাইলের দুজন সাবেক সেনাসদস্য সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, তারা দেখেছেন যুদ্ধের সময় মৃত ফিলিস্তিনিদের লাশ অগভীর সমাধির উপর বুলডোজার দিয়ে চাপা দেওয়া হচ্ছে। সাবেক এক সেনাকর্তা বলেন, ‘আমাদের কমান্ডার ডি-৯, অর্থাৎ বুলডোজার দিয়ে এসব লাশ বালিচাপা দিতে নির্দেশ দেন।’
জুন মাসে গাজায় জিকিম ক্রসিংয়ের কাছে একটি ত্রাণ ট্রাক থেকে পরিবারের জন্য আটার ব্যাগ আনতে যাওয়ার সময় আম্মার ওয়াদি বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি তার জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন। তিনি তার মোবাইল ফোনের হোম স্ক্রিনে লিখেছিলেন “আমার কিছু হলে আমাকে ক্ষমা করবেন মা। যদি কেউ আমার ফোন খুঁজে পায়, দয়া করে আমার পরিবারকে বলুন যে আমি তাদের অনেক ভালোবাসি।”
জানা গিয়েছে চলতি বছরের গ্রীষ্মে ত্রাণ গ্রহণকারীদের উপর নিয়মিত ইসরাইলি গুলিবর্ষণের মধ্যে, ওয়াদি আর বাড়িতে পৌঁছাতে পারেনি এবং তার ছেড়ে যাওয়া বার্তাটি কয়েক সপ্তাহ পরে তার পরিবারের কাছে পৌঁছেছিল এমন একজনের মাধ্যমে যিনি তার ফোনটি খুঁজে পেয়েছিলেন। জুনে ত্রাণ আনতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া আম্মার ওয়াদির মতো অসংখ্য ফিলিস্তিনির একই অবস্থা হয়েছে।
ইঙ্গিত মিলেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ক্রসিংয়ের কাছে নিহতদের কিছু মৃতদেহ বুলডোজার দিয়ে অগভীর, অচিহ্নিত কবরে ফেলে রেখেছিল। অন্য সময়, তাদের দেহাবশেষ খোলা জায়গায় পচে যাওয়ার জন্য রেখে দেওয়া হত। জিকিমের আশেপাশের শত শত ভিডিও এবং ছবি, প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় ত্রাণ ট্রাক চালকদের সাক্ষাৎকারের উপর ভিত্তি করে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে
স্যাটেলাইট ইমেজেও দেখা গিয়েছে গ্রীষ্মকাল জুড়ে যে সমস্ত জায়গায় ত্রাণপ্রার্থীরা নিহত হয় সেই জায়গায় বুলডোজারের তৎপরতা। জিকিম এলাকার দুটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, উল্টে যাওয়া একটি ত্রাণপ্রবাহের ট্রাকের চারপাশে আংশিকভাবে সমাহিত লাশ পড়ে রয়েছে। সূত্র: সিএনএন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

























