
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিবেচনা করে সতর্কতার সঙ্গে নির্বাচন সূচি ঘোষণা করার জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বুধবার দুপুরে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম জানান, ইসি এখনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেনি; শুধু জানানো হয়েছে যে এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্ভাব্য ঘোষণা আসতে পারে।
তিনি বলেন, “দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচন কমিশনকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।”
ইসির সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ
ইসির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আগের বছর দুর্নীতির অভিযোগ থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা এখনও কমিশনে বহাল রয়েছেন। এনসিপি বহুবার এসব তথ্য কমিশনকে জানিয়েছে। আমরা চাই, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়। স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “কমিশন যদি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন না করে, তাহলে এনসিপি কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হবে।”
ডিসি–এসপি নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
উপ-কমিশনার (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগ নিয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবের শঙ্কা রয়েছে।
তিনি নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক প্রতীক সংস্কারের পক্ষে এনসিপি
রাজনৈতিক প্রতীক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের সংস্কারকে স্বাগত জানিয়ে নাহিদ বলেন, “প্রতিটি দলকে নিজেদের প্রতীক, আদর্শ ও পরিচয় নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। জোটবদ্ধ হলেও অংশীদাররা স্বতন্ত্র প্রতীক রাখতে পারবে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “একটি বিশেষ দল সরকার ও ইসিকে চাপে রেখে এ সংস্কার বাতিলের চেষ্টা করছে। দাবি পূরণ না হওয়ায় আদালতে রিটের মাধ্যমে সংস্কার চ্যালেঞ্জ করারও চেষ্টা চলছে। আমরা চাই, সিইসি দৃঢ় অবস্থান নিন এবং আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করুন।”
হলফনামা যাচাই ও কালো টাকা রোধে কঠোরতার দাবি
প্রার্থীদের হলফনামায় জমা দেওয়া তথ্য যাচাই এবং অসঙ্গতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার বাধ্যবাধকতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আইন সব দলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনে কালো টাকার দৌরাত্ম্য রোধ করতে না পারলে নির্বাচনী সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এজন্য ইসিকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।”
গণভোট, বিদেশি ভোট ও নারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা
সম্ভাব্য গণভোট প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, “চার ভাগে বিভক্ত ব্যালটপত্র এবং প্রতিটি ভোটে সময় লাগাসহ প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো ইসি এখনো যাচাই করছে। যথাযথ জনসচেতনতা না তৈরি হলে বিভ্রান্তি ও ভুয়া তথ্য ছড়াতে পারে—বিশেষ করে নারী প্রার্থীরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে পারেন।”
এনসিপির আরেক নেতা নাসীরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, বিদেশে থাকা ভোটারদের ব্যালট প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। এ কারণে নির্বাচন কমিশন দ্রুত সময়সূচি চূড়ান্ত করতে চাইছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ফেব্রুয়ারিতে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে মন্তব্য
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতা নির্বাচন সূচিতে প্রভাব ফেলবে কিনা প্রশ্ন করলে নাহিদ ইসলাম বলেন,
“না, কখনোই না। তিনি দীর্ঘদিন গণতন্ত্রের জন্য লড়েছেন। সরকার তাকে সম্মান দেখাচ্ছে, আমরাও দেখাচ্ছি। তিনি সবার আবেগের জায়গা—এটি রাজনীতির ঊর্ধ্বে।”
নাহিদ ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতায় একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বাধীন, ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
অনলাইন ডেস্ক 



















