ঢাজা ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশ ও মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম জানাজা: লাখো মানুষের শেষ বিদায় বেগম খালেদা জিয়াকে

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা শুধু বাংলাদেশের নয়, স্মরণকালের দেশ ও মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম জানাজায় পরিণত হয়েছে। কোনো মুসলিম নারীর জানাজায় এর আগে এত বিপুল মানুষের অংশগ্রহণের নজির নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় এই ঐতিহাসিক জানাজা। জানাজায় অংশ নেন লাখ লাখ মানুষ। শুধু মানিক মিয়া এভিনিউ নয়, আশপাশে

র কয়েক কিলোমিটার এলাকা মানুষের ঢলে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তিল ধারণের জায়গা ছিল না, পুরো এলাকা রূপ নেয় এক মহাজনসমুদ্রে।

বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আপোসহীন সংগ্রামের কারণে তিনি ‘আপোসহীন দেশনেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য জনগণের ভালোবাসায় তিনি ‘গণতন্ত্রের মাতা’ ও ‘জাতীয় নেত্রী’ হিসেবে সম্মানিত হন।

জানাজায় অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিদেশি কূটনীতিক ও লাখ লাখ সাধারণ মানুষ জানাজায় শরিক হন।

জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব। জানাজার আগে জানাজাস্থলে বেগম খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী থাকা অবস্থার বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার করা হয়, যা উপস্থিত মানুষের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।

এর আগে বুধবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ শেষবারের মতো গুলশানের বাসভবনে নেওয়া হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহবাহী গাড়িবহর তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসা থেকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের উদ্দেশে যাত্রা করে। পৌনে ১১টার পর গাড়িবহর সংসদ ভবন এলাকায় পৌঁছায়।

মরদেহবাহী গাড়িবহরে লাল-সবুজ রঙের একটি বাসে করে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা জানাজাস্থলে উপস্থিত হন। কফিনের পাশে বসে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন তারেক রহমান।

জানাজায় অংশ নেওয়া আলমগীর, আদিব, সুলাইমানসহ অনেকেই বলেন, দেশের ইতিহাসে কোনো জানাজায় এমন বিশাল উপস্থিতি দেখা যায়নি। এটি কেবল জনসমুদ্র নয়, এক মহাজনসমুদ্র। তারা বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতার প্রতি মানুষের ভালোবাসা কত গভীর হতে পারে—বেগম খালেদা জিয়া তার অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।

তারা আরও বলেন, দীর্ঘ ৪৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের জন্য তাঁর সংগ্রাম ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে।

জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানিক মিয়া এভিনিউসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ, র‌্যাবের পাশাপাশি ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন আপোসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুতে সরকার বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। বুধবার সারা দেশে সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করা হয়।

আপোসহীন দেশনেত্রী ও জাতীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে শোকে স্তব্ধ পুরো বাংলাদেশ।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

বক্তব্য দিতে দিতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবুল হাশেম

দেশ ও মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম জানাজা: লাখো মানুষের শেষ বিদায় বেগম খালেদা জিয়াকে

সপ্রকাশিত হয়েছে: ১০:২৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা শুধু বাংলাদেশের নয়, স্মরণকালের দেশ ও মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম জানাজায় পরিণত হয়েছে। কোনো মুসলিম নারীর জানাজায় এর আগে এত বিপুল মানুষের অংশগ্রহণের নজির নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় এই ঐতিহাসিক জানাজা। জানাজায় অংশ নেন লাখ লাখ মানুষ। শুধু মানিক মিয়া এভিনিউ নয়, আশপাশে

র কয়েক কিলোমিটার এলাকা মানুষের ঢলে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তিল ধারণের জায়গা ছিল না, পুরো এলাকা রূপ নেয় এক মহাজনসমুদ্রে।

বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আপোসহীন সংগ্রামের কারণে তিনি ‘আপোসহীন দেশনেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য জনগণের ভালোবাসায় তিনি ‘গণতন্ত্রের মাতা’ ও ‘জাতীয় নেত্রী’ হিসেবে সম্মানিত হন।

জানাজায় অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিদেশি কূটনীতিক ও লাখ লাখ সাধারণ মানুষ জানাজায় শরিক হন।

জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব। জানাজার আগে জানাজাস্থলে বেগম খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী থাকা অবস্থার বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার করা হয়, যা উপস্থিত মানুষের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।

এর আগে বুধবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ শেষবারের মতো গুলশানের বাসভবনে নেওয়া হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহবাহী গাড়িবহর তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসা থেকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের উদ্দেশে যাত্রা করে। পৌনে ১১টার পর গাড়িবহর সংসদ ভবন এলাকায় পৌঁছায়।

মরদেহবাহী গাড়িবহরে লাল-সবুজ রঙের একটি বাসে করে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা জানাজাস্থলে উপস্থিত হন। কফিনের পাশে বসে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন তারেক রহমান।

জানাজায় অংশ নেওয়া আলমগীর, আদিব, সুলাইমানসহ অনেকেই বলেন, দেশের ইতিহাসে কোনো জানাজায় এমন বিশাল উপস্থিতি দেখা যায়নি। এটি কেবল জনসমুদ্র নয়, এক মহাজনসমুদ্র। তারা বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতার প্রতি মানুষের ভালোবাসা কত গভীর হতে পারে—বেগম খালেদা জিয়া তার অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।

তারা আরও বলেন, দীর্ঘ ৪৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের জন্য তাঁর সংগ্রাম ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে।

জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানিক মিয়া এভিনিউসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ, র‌্যাবের পাশাপাশি ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন আপোসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুতে সরকার বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। বুধবার সারা দেশে সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করা হয়।

আপোসহীন দেশনেত্রী ও জাতীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে শোকে স্তব্ধ পুরো বাংলাদেশ।