লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা আজ বুধবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ এই জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের ঢল সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে এক বিশাল মানবসমুদ্রে রূপ নেয়।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক জানাজার নামাজে ইমামতি করেন। জানাজা দুপুর ২টায় শুরুর কথা থাকলেও ভোর থেকেই মানিক মিয়া এভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল নামে। প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে রাজধানীজুড়ে জনস্রোতের সৃষ্টি হয়।
জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান, জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়া আজীবন যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, আজ তার শেষ বিদায়ে সেই ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। দীর্ঘ প্রায় ৪৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি যে জনপ্রিয়তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, এই জনসমুদ্র তারই প্রমাণ।

জানাজায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশি-বিদেশি বহু শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেন।
দেশের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা জানাজায় শরিক হন। নারীদের অংশগ্রহণের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়।
জানাজার আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম সংক্ষেপে তুলে ধরেন। এছাড়া পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য রাখেন।
এর আগে সকালে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ শেষবারের মতো গুলশানের বাসভবনে নেওয়া হয়। পরে কফিনবাহী গাড়ি দুপুর পৌনে ১১টার দিকে মানিক মিয়া এভিনিউতে পৌঁছালে সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি চেয়ারপার্সনের বড় ছেলে তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জানাজায় অংশ নেন।
জানাজা উপলক্ষে সংসদ ভবন ও মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
জানাজা শেষে মরদেহ শেরেবাংলা নগরে বিকেল সাড়ে ৩টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়েছে ।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোর ৬টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুতে সরকার দেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং আজ বুধবার সাধারণ ছুটি পালন করা হচ্ছে। প্রিয় নেত্রীর বিদায়ে সমগ্র দেশ শোকাবহ পরিবেশে আচ্ছন্ন।
দৈনিক একুশে সংবাদ বিডি 


















