স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে মোট ৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার—এমন ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। এ লক্ষ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শিক্ষা উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের বেকারত্ব হ্রাস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া এই সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার আরও এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যমান শূন্য পদগুলোতে যোগ্যতম প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে এনটিআরসি’কে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজকালের মধ্যেই এনটিআরসি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।
শিক্ষা উপদেষ্টা শিক্ষিত বেকার যুবকদের মধ্যে যারা শিক্ষকতা পেশায় আন্তরিক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাদেরকে নিজ নিজ শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত পদে আবেদন করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে আজকের শিক্ষকদেরই আগামী দিনের শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি রচনা করতে হবে। সে কারণে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের শিক্ষকতা পেশায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ড. সি আর আবরার আরও বলেন, গত মাসে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে নিয়োগের বিষয়ে এনটিআরসি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন আসার পর তার নেতৃত্বে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সভায় সংশ্লিষ্টদের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সরকারের নীতি হলো—শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যত শূন্য পদ রয়েছে, সেগুলো বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পূরণ করা। অন্তর্বর্তী সরকারের একটি বড় লক্ষ্য ছিল দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা এবং তারই ধারাবাহিকতায় ৬৭ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি আগামীকালের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে।
শূন্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে—মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৯ হাজার ৩২৫টি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৮৩৩টি এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৩৬ হাজার ৮০৪টি পদ। সব মিলিয়ে মোট শূন্য পদ ৬৬ হাজার ৯৬২টি।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, এই উদ্যোগ শিক্ষাখাতকে আরও গতিশীল করবে এবং মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও আস্থার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, এ নিয়োগের মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশের বেকারত্ব সমস্যা কমবে, অন্যদিকে শিক্ষা খাতে তরুণ ও মেধাবীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।
দৈনিক একুশে সংবাদ বিডি 



















