
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদী হত্যা মামলার চার্জশিট আগামী বুধবার আদালতে দাখিল করা হবে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২৬ দিনের মধ্যেই তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আজ সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী ৭ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এই সরকারের মেয়াদেই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ছয়জন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী শাহেদা পারভিন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু এবং বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা। এছাড়াও গ্রেপ্তার হয়েছেন মো. কবির, নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সিবিয়ন ডিও, সঞ্জয় চিসিম, আমিনুল ইসলাম রাজু এবং আব্দুল হান্নান।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ এখনও পলাতক রয়েছে। তদন্তকালে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, একটি মোটরসাইকেল, জাল নম্বর প্লেট এবং ৫৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা ২১৮ কোটি টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম এই মুহূর্তে প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া দুইটার দিকে পল্টন থানাধীন বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান বিন হাদীকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
হাদীর ওপর হামলার ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ২০ ডিসেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা) ধারা সংযোজনের নির্দেশ দেন।