ঢাজা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্যাসিবাদে ফেরত ঠেকাতেই এবারের গণভোট: আলী রীয়াজ

  • অনলাইন ডেক্স
  • সপ্রকাশিত হয়েছে: ১২:৪১:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৮ শেয়ার

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশ যেন আর কখনও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় ফিরে না যায়—সে লক্ষ্যেই এবারের গণভোট আয়োজন করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথনির্দেশ নির্ধারণে এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।

বুধবার কৃষি বিভাগের ১৭ হাজার কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীর জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোট বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করতেই এই সভার আয়োজন করা হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার আরেক বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীরা ভার্চুয়ালি সভায় অংশ নেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, গণভোটের এই সুযোগ আগামী ৫ কিংবা ১০ বছরেও আর নাও আসতে পারে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কোন পথে চলবে, তা নির্ধারণের জন্য এই সুযোগ কাজে লাগাতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে জনবল থাকার কারণে কৃষি মন্ত্রণালয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব।

গণভোট-সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে আলী রীয়াজ আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও বিগত ১৬ বছরের সংগ্রামে হাজারো মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। তারা আমাদের দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, যাতে দেশ আর আগের অবস্থায় ফিরে না যায়।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গণভোটকে মানুষের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করতে হবে। হ্যাঁ-না ভোট হিসেবে গণভোট ব্যাখ্যা করে এর মাধ্যমে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা ধৈর্যের সঙ্গে জনগণকে বোঝাতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মনির হায়দার বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, গত ৫৪ বছরে এই সাধারণ প্রত্যাশা পূরণে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শাসন ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা ফিরে না আসার জন্য সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গণভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় গণভোট বিষয়ে জনমত সৃষ্টির জন্য প্রস্তুতকৃত লিফলেটের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।

সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, গণভোট বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থাগুলো ড্রপ-ডাউন ব্যানার স্থাপন, লিফলেট প্রস্তুত ও বিতরণ, কৃষি তথ্য সার্ভিসের মোবাইল ভ্যান ও আঞ্চলিক রেডিও কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের ২৪ ঘণ্টার হটলাইন সার্ভিসও গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করবে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

বেইজিংয়ে বিএনপি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে চীনের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা

ফ্যাসিবাদে ফেরত ঠেকাতেই এবারের গণভোট: আলী রীয়াজ

সপ্রকাশিত হয়েছে: ১২:৪১:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশ যেন আর কখনও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় ফিরে না যায়—সে লক্ষ্যেই এবারের গণভোট আয়োজন করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথনির্দেশ নির্ধারণে এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।

বুধবার কৃষি বিভাগের ১৭ হাজার কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীর জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোট বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করতেই এই সভার আয়োজন করা হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার আরেক বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীরা ভার্চুয়ালি সভায় অংশ নেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, গণভোটের এই সুযোগ আগামী ৫ কিংবা ১০ বছরেও আর নাও আসতে পারে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কোন পথে চলবে, তা নির্ধারণের জন্য এই সুযোগ কাজে লাগাতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে জনবল থাকার কারণে কৃষি মন্ত্রণালয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব।

গণভোট-সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে আলী রীয়াজ আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও বিগত ১৬ বছরের সংগ্রামে হাজারো মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। তারা আমাদের দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, যাতে দেশ আর আগের অবস্থায় ফিরে না যায়।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গণভোটকে মানুষের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করতে হবে। হ্যাঁ-না ভোট হিসেবে গণভোট ব্যাখ্যা করে এর মাধ্যমে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা ধৈর্যের সঙ্গে জনগণকে বোঝাতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মনির হায়দার বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, গত ৫৪ বছরে এই সাধারণ প্রত্যাশা পূরণে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শাসন ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা ফিরে না আসার জন্য সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গণভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় গণভোট বিষয়ে জনমত সৃষ্টির জন্য প্রস্তুতকৃত লিফলেটের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।

সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, গণভোট বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থাগুলো ড্রপ-ডাউন ব্যানার স্থাপন, লিফলেট প্রস্তুত ও বিতরণ, কৃষি তথ্য সার্ভিসের মোবাইল ভ্যান ও আঞ্চলিক রেডিও কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের ২৪ ঘণ্টার হটলাইন সার্ভিসও গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করবে।