দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ আজ চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে। নীলফামারীর ডিমলা এলাকায় প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও বাস্তবে একাধিক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অবাধে তিস্তা নদী থেকে পাথর ও বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে ভয়াবহ পরিবেশগত ক্ষতির পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়ছে কয়েক হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তিস্তা ব্যারেজের উজান ও ভাটির বিভিন্ন এলাকা—তেলির বাজার, তিস্তা বাজার, ছোট খাতা গোরেই, ডালিয়া বাইশ পুকুর, ছাতুনামা ও ভেন্ডাবাড়িতে শত শত শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকার মাধ্যমে নদীর তলদেশ খুঁড়ে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। গভীর গর্ত সৃষ্টির ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে এবং আশপাশের এলাকায় মারাত্মক ভাঙন দেখা দিচ্ছে।
মাঝে মাঝে প্রশাসনের অভিযান চালানো হলেও অভিযান শেষ হলেই আরও দ্বিগুণ উৎসাহে পুনরায় শুরু হয় অবৈধ লুটপাট। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অভিযান অনেকটাই লোক দেখানো।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উত্তোলিত অবৈধ পাথরগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সংরক্ষিত এলাকার ভেতরে বা আশপাশেই স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। পাউবো কার্যালয় থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরত্বে এসব কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, নদী থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করা পাউবোর দায়িত্ব নয়; এটি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিষয়। অপরদিকে, ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, সেচ প্রকল্প ও বাঁধ রক্ষার দায়িত্ব পাউবো কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারে না। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পাথর উত্তোলনের কোনো আইনগত সুযোগ নেই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে তিস্তাপাড়ের মানুষের। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অবৈধ পাথর উত্তোলনের প্রতিবাদ করলেই সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়। প্রতি বছর নদীভাঙনে বহু পরিবার ভিটেমাটি হারাচ্ছে। একদিকে সরকার ভাঙন রোধে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে, অন্যদিকে পাথরখেকোদের দৌরাত্ম্যে সেই উদ্যোগ বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে, দ্রুত সমন্বিত অভিযান, দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সেচ প্রকল্প অচিরেই অকার্যকর হয়ে পড়বে
মোঃ বাদশা প্রামানিক 





















