বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার রাতে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি জানায়, চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ফলে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। এ প্রেক্ষাপটে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং শূন্য পদে তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
দীর্ঘদিন নানা জটিল রোগে ভুগে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর ভোর ছয়টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর দলের সর্বোচ্চ পদটি শূন্য হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে দলীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়। আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপির ইতিহাসে দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব দেওয়া বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮৩ সালের মার্চে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন এবং একই বছরের ১ এপ্রিল বিএনপির বর্ধিত সভায় প্রথম বক্তৃতা দেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালের ১০ মে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ওই দায়িত্ব পালন করেন।
আশির দশকের শুরু থেকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্ব দেন খালেদা জিয়া। সেই আন্দোলনের সময় থেকেই তারেক রহমান রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হন। বিএনপির মিডিয়া সেল সূত্র জানায়, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি তার মায়ের সঙ্গে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং ১৯৮৮ সালে গাবতলী উপজেলা ইউনিটের সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন।
১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে তারেক রহমান বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশের প্রায় সব জেলায় প্রচারণায় অংশ নেন। ১৯৯৩ সালে তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির সম্মেলনের আয়োজন করেন, যেখানে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। ওই সম্মেলনের সাফল্যের পর তিনি অন্যান্য জেলা ইউনিটেও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতা নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে উৎসাহ দেন।
২০০২ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটি তাকে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত করে। ২০০৫ সালে তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলন আয়োজন করেন এবং প্রতিটি উপজেলা ইউনিটের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় তিনি গ্রেফতার হন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন।
২০০৯ সালে তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়।
বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারার (৩) উপধারায় বলা হয়েছে, চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ওই দায়িত্বে বহাল থাকবেন।
অনলাইন ডেস্ক 




















