আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।
হিজরি শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী রাতকে মুসলমানরা শবে বরাত বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করে থাকেন। এ রাতটি ‘লাইলাতুল বরাত’ নামেও পরিচিত।
পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এক বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে আগামী বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সরকারি ছুটি থাকবে।
বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা পবিত্র শবে বরাতকে আল্লাহর রহমত লাভের এক অসাধারণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রার্থনা এবং মানব কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে শবে বরাতের শুভেচ্ছা জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “মহিমান্বিত এই রাতে আমরা ইবাদত-বন্দেগি, দান-সদকার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য ও ক্ষমা লাভ করতে পারি। আত্মসমালোচনা ও তওবার মাধ্যমে জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং গুনাহ থেকে পরিশুদ্ধ হওয়ার প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা অর্জন করতে পারি আল্লাহ তায়ালার অসীম অনুগ্রহ, বরকত ও মাগফিরাত।”
বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানমালা
পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আজ (৩ ফেব্রুয়ারি) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
আজ মাগরিবের নামাজের পর ওয়াজ মাহফিলের মধ্য দিয়ে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র লাইলাতুল বরাতের অনুষ্ঠানমালা শুরু হবে।
সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল বরাতের ফজিলত, গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে ওয়াজ করবেন ঢাকার বাদামতলী শাহজাদা লেন জামে মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা নজরুল ইসলাম কাসেমী।
রাত ৮টা ৩০ মিনিটে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল বরাতের শিক্ষা, করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে ওয়াজ করবেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। এতে সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আ. ছালাম খান।
ব্যক্তিগত নফল ইবাদত ও জিকির-আযকারের জন্য বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ সারা রাত মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ফজরের নামাজের পর আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শবে বরাতের অনুষ্ঠানমালা সমাপ্ত হবে। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।
বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিওতে এ উপলক্ষে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে।
এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করবেন। মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতও করা হবে।
স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা 





















