চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি (NCT) বিদেশি কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদ এবং তা বাতিলের দাবিতে গত তিন দিন ধরে প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছে বন্দর কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির জানান, গত এক বছর ধরে তারা চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। তবে সরকার বিষয়টি আমলে না নিয়ে এনসিটি ইয়ার্ড বিদেশি কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়ায় তারা শাটডাউন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রতি টিইইউএস (TEUS) কনটেইনার হ্যান্ডেলিং বাবদ ১৬২ ডলার আয় হয়। এর মধ্যে প্রতি কনটেইনারে ৫৭ ডলার খরচ বাদ দিলে আয় থাকে ১০৫ ডলার। কিন্তু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হলে সরকারের আয় হবে প্রতি টিইইউএস কনটেইনারে মাত্র ৬০ ডলার। ফলে প্রতি টিইইউএস কনটেইনারে সরকারের ক্ষতি হবে ৫৫ ডলার।
ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক জানান, দাবি না মানলে আগামীকাল থেকে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ২৪ ঘণ্টার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে গত তিন দিন ধরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে বন্দর ব্যবহারকারী সিএন্ডএফ প্রতিনিধিরা জানান, কাজ সকাল ৮টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা বিকেল ৪টায় শুরু হওয়ায় কাজ শেষ করতে রাত ২টা, এমনকি ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে অনেক সময় যানবাহন পাওয়া যায় না। ফলে অনেকে ছিনতাইকারীর শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে মোবাইল ও টাকা-পয়সা ছিনতাইকারীদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে তাদের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তারা আরও জানান, বিকেল ৪টার পর একই সময়ে ট্রান্সপোর্টের গাড়ি বন্দরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করায় বন্দর ও বন্দরের আশপাশ এলাকায় ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি দিনের কাজ দিনে শেষ করা যাচ্ছে না। ফলে আগের দিনের অ্যাসাইনমেন্টকৃত পণ্য নির্ধারিত সময়ে ডেলিভারি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কাজ অসমাপ্ত থাকায় কনটেইনার দীর্ঘ সময় বলবৎ রাখতে হচ্ছে এবং আমদানিকারকদের অতিরিক্ত ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের যুগ্ম বন্দর বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-মামুন সুমন বলেন, “বন্দরে এত ভোগান্তি নিয়ে কাজ করা অসম্ভব। কাজের সুষ্ঠ পরিবেশ তৈরি না হলে সিএন্ডএফ প্রতিনিধিরা কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করা সম্ভব নয়।”
এদিকে কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ-২৩৪)-এর সভাপতি কাজী খাইরুল বাশার মিল্টন ও সাধারণ সম্পাদক মমোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া একই সুরে বলেন, বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের শাটডাউন কর্মসূচির ফলে গত তিন দিন ধরে বন্দরের কাজের সিডিউল পরিবর্তন হওয়ায় সিএন্ডএফ প্রতিনিধিদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। এই অবস্থায় তারা কাজে যোগদান করবেন কি না—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ০৩-০২-২৬ ইং (মঙ্গলবার) নির্বাহী পরিষদের সভায় আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান।
উল্লেখ্য, উল্লিখিত বিষয়ে জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে মঙ্গলবার নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার শাখাওয়াত হোসেন চট্টগ্রামে আসার কথা রয়েছে।
রফিকুল ইসলাম মিলন চট্টগ্রাম 











