ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার ওমানের মধ্যস্থতায় দেশটির রাজধানী মাসকাটে পরোক্ষ আলোচনা শুরু করেছে এ দুই দেশ। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে এই আলোচনা হলেও, এর পরিধি নিয়ে মতবিরোধ থাকায় কূটনীতি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়ছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র চায় আলোচনায় শুধু পরমাণু ইস্যু নয়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন এবং মানবাধিকার পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা কেবল পরমাণু বিষয়েই আলোচনা করবে।
ওমানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হওয়ার কথা। আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে ওমান। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি, তবে ওমানের মাধ্যমে তাদের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে।
ইরান আশঙ্কা করছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আবারও সামরিক হামলার পথে যেতে পারেন। সম্প্রতি পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর বড় সামরিক উপস্থিতি এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
এর আগে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কিছু পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালায়, যা ইসরাইলের বিমান অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এরপর ইরান দাবি করে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না- এটি তাদের লাল রেখা। আলোচনার আগমুহূর্তে ইরান তাদের একটি আধুনিক দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের খবর প্রকাশ করে শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে।
তবে ইরান কিছু ক্ষেত্রে নমনীয়তার ইঙ্গিতও দিয়েছে। তারা অতিরিক্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর এবং সীমিত বা শূন্য সমৃদ্ধকরণে সম্মত হতে পারে বলে জানিয়েছে, যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা অভিযোগ করছে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। ইরান অবশ্য বরাবরের মতোই দাবি করছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত।
এই আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করবে- কূটনীতির পথে উত্তেজনা কমবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্য আরও বড় সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাবে।