
নেপথ্যে ২৫টি বোয়িং বিমান ও শুল্কমুক্ত সুবিধা
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি সই করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। ওয়াশিংটন ডিসিতে হতে যাওয়া এই চুক্তির গোপনীয়তা এবং এর যৌক্তিকতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠলেও, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থেই এই পদক্ষেপ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হন অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
এ ব্যাপারে তিনি বলেন, বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর এর শর্তাবলি ও অন্যান্য বিষয় জনসম্মুখে তুলে ধরা হবে। নির্বাচিত সরকারকে চাপমুক্ত রাখতেই নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার পণ্য রফতানি করছে বাংলাদেশ। এই গুরুত্বপূর্ণ বাজার ধরে রাখতে এবং সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বোয়িং কোম্পানি থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব উড়োজাহাজ কিনতে ব্যয় হবে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কাছে মোট ৪৭টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে আপাতত ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
চুক্তির মূল বিষয়গুলো একনজরে:
বিশাল বিনিয়োগ: যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মূলত মার্কিন বাজার ধরে রাখতেই এই বড় পদক্ষেপ।
রপ্তানি সুবিধা: বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করে। নতুন এই চুক্তির ফলে তৈরি পোশাকসহ প্রধান পণ্যগুলোতে শুল্ক আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
গোপনীয়তার কারণ: চুক্তির শর্তাবলি কেন আগে প্রকাশ করা হয়নি, সে বিষয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, আন্তর্জাতিক প্রোটোকল ও এনডিএ-র কারণে এটি গোপন রাখা হয়েছে। তবে চুক্তি সইয়ের পর সব শর্ত জনসম্মুখে আনা হবে।
নির্বাচিত সরকারের ওপর প্রভাব: উপদেষ্টার মতে, এই চুক্তিটি সম্পন্ন করার মাধ্যমে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে চাপমুক্ত রাখা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করাই বর্তমান প্রশাসনের লক্ষ্য।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন, আর তার ঠিক তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। এই চুক্তি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন কোনো মোড় ঘুরায় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
অনলাইন ডেস্ক. 



















