ঢাজা ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রশাসনের মর্যাদা, বাজারের শৃঙ্খলা—আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

এক সময় প্রশাসনিক কঠোরতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল জব্বার মন্ডল স্যার। সৎ, নির্ভীক ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল সুপ্রতিষ্ঠিত। বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল শৃঙ্খলা।

কিন্তু পবিত্র রমজানে বাজার মনিটরিং করতে গিয়ে সাম্প্রতিক যে দৃশ্য সামনে এসেছে, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধির সামনে অপমানিত হতে হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। আঙুল তুলে কথা বলা, উল্টো ধমক দেওয়া কিংবা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা—এসব আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এখানে বিষয়টি কেবল একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অপমান নয়; এটি রাষ্ট্রের প্রতিনিধির মর্যাদার প্রশ্ন। একজন ম্যাজিস্ট্রেট যখন ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্ব পালন করেন, তখন তিনি আইন ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের প্রতিনিধিত্ব করেন। সেই অবস্থানে তাঁকে অসম্মান করা মানে আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।

প্রশ্ন উঠছে—কিছু ব্যবসায়ীর এই দুঃসাহস কোথা থেকে এলো? বাজারে কি আবার কোনো অঘোষিত সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়েছে? নাকি নিয়ম প্রয়োগে প্রশাসনের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে? যদি নিয়মের কথা বললেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তবে ভবিষ্যতে কঠোর আইন প্রয়োগ কতটা কার্যকর হবে—তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়।

তবে সমালোচনা অবশ্যই হতে পারে—কিন্তু তা হতে হবে যুক্তির ভাষায়, আইনের ভেতরে থেকে। গণতান্ত্রিক সমাজে প্রশ্ন তোলা নাগরিকের অধিকার, কিন্তু দায়িত্ব পালনের সময় রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাকে অপমান করা সভ্যতার পরিচায়ক নয়।

আজ প্রয়োজন তিনটি বিষয়ের উপর জোর দেওয়া—
১. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
২. প্রশাসনের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা
৩. বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা

আমাদের ঠিক করতে হবে—আমরা কি নিয়ম মানার সংস্কৃতি চাই, নাকি দাপটের সংস্কৃতি?
রাষ্ট্র, প্রশাসন ও নাগরিক—সবাই যদি নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করি, তবেই একটি সুশৃঙ্খল ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

আপনার মত কী—কঠোর প্রশাসন, নাকি সংলাপভিত্তিক সমাধান—কোন পথ বেশি কার্যকর বলে মনে করেন?

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শহীদ ‍মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন ডা. জুবাইদা ও জাইমা রহমান

প্রশাসনের মর্যাদা, বাজারের শৃঙ্খলা—আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

সপ্রকাশিত হয়েছে: ০৮:২৪:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এক সময় প্রশাসনিক কঠোরতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল জব্বার মন্ডল স্যার। সৎ, নির্ভীক ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল সুপ্রতিষ্ঠিত। বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল শৃঙ্খলা।

কিন্তু পবিত্র রমজানে বাজার মনিটরিং করতে গিয়ে সাম্প্রতিক যে দৃশ্য সামনে এসেছে, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধির সামনে অপমানিত হতে হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। আঙুল তুলে কথা বলা, উল্টো ধমক দেওয়া কিংবা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা—এসব আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এখানে বিষয়টি কেবল একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অপমান নয়; এটি রাষ্ট্রের প্রতিনিধির মর্যাদার প্রশ্ন। একজন ম্যাজিস্ট্রেট যখন ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্ব পালন করেন, তখন তিনি আইন ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের প্রতিনিধিত্ব করেন। সেই অবস্থানে তাঁকে অসম্মান করা মানে আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।

প্রশ্ন উঠছে—কিছু ব্যবসায়ীর এই দুঃসাহস কোথা থেকে এলো? বাজারে কি আবার কোনো অঘোষিত সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়েছে? নাকি নিয়ম প্রয়োগে প্রশাসনের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে? যদি নিয়মের কথা বললেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তবে ভবিষ্যতে কঠোর আইন প্রয়োগ কতটা কার্যকর হবে—তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়।

তবে সমালোচনা অবশ্যই হতে পারে—কিন্তু তা হতে হবে যুক্তির ভাষায়, আইনের ভেতরে থেকে। গণতান্ত্রিক সমাজে প্রশ্ন তোলা নাগরিকের অধিকার, কিন্তু দায়িত্ব পালনের সময় রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাকে অপমান করা সভ্যতার পরিচায়ক নয়।

আজ প্রয়োজন তিনটি বিষয়ের উপর জোর দেওয়া—
১. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
২. প্রশাসনের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা
৩. বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা

আমাদের ঠিক করতে হবে—আমরা কি নিয়ম মানার সংস্কৃতি চাই, নাকি দাপটের সংস্কৃতি?
রাষ্ট্র, প্রশাসন ও নাগরিক—সবাই যদি নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করি, তবেই একটি সুশৃঙ্খল ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

আপনার মত কী—কঠোর প্রশাসন, নাকি সংলাপভিত্তিক সমাধান—কোন পথ বেশি কার্যকর বলে মনে করেন?