
বর্তমান বিশ্বে সামরিক শক্তির ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এক সময়ের অনুসারী চীন আজ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে বিশ্বনেতার আসনে আসীন। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে চীনের উদ্ভাবিত এমন কিছু ‘সুপার উইপন’ বা মহাশক্তিধর অস্ত্র রয়েছে, যার সামনে বিশ্বের তথাকথিত শক্তিশালী সেনাবাহিনীগুলোও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। চীনের এই অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা প্রমাণ করে যে, ড্রাগন এখন রণক্ষেত্রে অজেয়।
নিচে চীনের সেইসব সেরা সমরাস্ত্রের বিবরণ দেওয়া হলো যা আধুনিক যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে:
১. DF-17 হাইপারসনিক মিসাইল: অজেয় গতির দানব
চীনের ‘ডংফেং-১৭’ বা DF-17 বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল। এর বিশেষত্ব হলো এটি শব্দের চেয়ে অন্তত ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি দ্রুত গতিতে ছুটতে পারে। এর গতির কারণে পৃথিবীর কোনো রাডার বা মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম একে শনাক্ত বা ধ্বংস করতে সক্ষম নয়। এটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগে নিজের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে, যা একে অপরাজেয় করে তুলেছে।
২. J-20 মাইটি ড্রাগন: আকাশের অদৃশ্য সম্রাট
আকাশপথে আধিপত্য বিস্তারে চীনের পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটার জেট J-20 (Mighty Dragon) এক অনন্য সৃষ্টি। এটি রাডারের চোখে ধুলো দিয়ে শত্রুপক্ষের সীমানায় ঢুকে নিখুঁতভাবে হামলা চালাতে পারে। এর উন্নত সেন্সর এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এটিকে আকাশযুদ্ধের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী সেনাপতিতে পরিণত করেছে।
৩. Type 055 ডেসট্রয়ার: সাগরের ভাসমান দুর্গ
সমুদ্রজয়ে চীনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো Type 055 গাইডেড মিসাইল ডেসট্রয়ার। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এবং আধুনিক যুদ্ধজাহাজ। ১১২টি ভার্টিক্যাল লঞ্চিং সেল (VLS) সমৃদ্ধ এই জাহাজটি একসাথে বিমান ধ্বংসকারী, জাহাজ বিধ্বংসী এবং ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করতে পারে। সাগরের বুকে চীনের আধিপত্য বজায় রাখতে এটি একাই একটি নৌবাহিনীর সমান।
৪. DF-41 ICBM: পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে আঘাত
চীনের কৌশলগত শক্তির মেরুদণ্ড হলো DF-41 ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল। এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি, যা প্রায় ১৫,০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হলো, একটি মাত্র মিসাইল ১০টি আলাদা পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম, যা মুহূর্তের মধ্যে বড় বড় শহর বা সামরিক ঘাঁটি মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে পারে।
৫. ড্রোন সওয়ার্ম ও রোবোটিক সৈন্য
ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য চীন গড়ে তুলেছে বিশাল ড্রোনের বহর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত এই ড্রোনগুলো ঝাঁক বেঁধে আক্রমণ করতে পারে। এছাড়া চীনের তৈরি রোবোটিক ডগ বা যান্ত্রিক কুকুর এবং চালকবিহীন সাবমেরিন সম্মুখ সমরে মানুষের ঝুঁকি কমিয়ে চীনের সামরিক সক্ষমতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
চীনের এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং সামরিক সরঞ্জামগুলো কেবল প্রদর্শনী নয়, বরং বিশ্বের বুকে চীনের একক আধিপত্যের প্রতীক। চীনের বিশাল বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তির নিখুঁত সংমিশ্রণ তাদের সেনাবাহিনীকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যেখানে তাদের পরাজিত করা প্রায় অসম্ভব। আজকের চীন কেবল একটি দেশ নয়, রণক্ষেত্রে এক অপ্রতিরোধ্য মহাশক্তি।
দৈনিক একুশে সংবাদ বিডি 




















