প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ৫:৩১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ৫, ২০২৬, ৪:৫৯ পি.এম
“মুক্তিযুদ্ধের পরের বছর পদ্মায় যেমন ইলিশ পাওয়া গেসিল, অমন ইলিশ তার আগে কোনোদিন দেখা যায় নাই।”

ইলিশ মাছের দাম নিয়ে কথা বলতে বলতে আমার বাপ বলে উঠলো, কারেন্ট যাওয়ায় উঠানে বসে গল্প করছিলাম আমরা।
"যুদ্ধের সময় পদ্মা ছিল লাশের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।মিলিটারিরা চোখ বাইন্ধা লাইন ধইরা খাড়া কইরা গুলি করে নদীতে ফেলতো, আবার রাজাকাররা রাতে রাতে জবা*ই করে নদীতে লাশ ভাসায়া দিতো। অনেকের পায়ে কলসি বাইন্ধা তাজা অবস্থায় ই নদীতে ফেইলা দিতো।
সেই লাশ পঁচতো, পেট ফুলে ভাইসা উঠতো। বাড়ির ঘাটে বড় বাঁশ রাখা লাগতো, লাশ ভেসে আসলেই খোচা দিয়ে নদীর মাঝে পাঠায়া দেয়ার জন্যে। মাঝে মাঝে মানুষ আসতো নদীর পাড় দিয়ে লাশ খুজতে।এসে জিগাইতো লম্বা, গায়ের রঙ ফর্সা, চুল আছে বাবরিকাটা অমন কারো লাশ ভেসে যাইতে দেখছেন? কিংবা গালে দাড়ি আছে সাদা কালা।কিংবা মোটা লাল ফিতা দিয়ে চুল বাধা ছিল মাইয়াডার.. দেখছেন নাকি?
কখনো আশেপাশের লোকজন বলতো দুপুরে দেখছিল, ভাসায়া দিছে আবার বাশ দিয়ে ঠ্যালা দিয়ে। অভিযোগ করতে গিয়েও থেমে যাইতো মানুষ। কিসের অভিযোগ করবে? কার কাছে করবে?
নদীতে জাল ফেললে লাশ উঠে, পচা গন্ধে টেকা যায় না।তাই মানুষ মাছ ধরতে খুব একটা যায় না, মিলিটারির ভয় তো আছেই।সেই লাশের তেলে পদ্মা তখন ভরা, সব মাছের সুখের সময়। শকুনে আর কয়টা খাইসে, তাদের ই তো সব।
ইলিশ মাছ ঘাস লতাপাতা খাওয়া মাছ। হঠাৎ করে এমন পচা মাংস আর মাংসের পোকা খাওয়া শিখে গেল। খেয়ে খেয়ে একেকটা হইলো বিশাল সাইজ। কিছুদিন পরে নদীর যেখানে জাল ফেলছি, সেখান থেকে ২ কেজি ৩ কেজি ওজনের ইলিশ উঠছে। পিছলা পিছলা চকচকা ইলিশ।
ইলিশ মাছের পিঠের লাল মাংসরে আমরা বলতাম হরিণের মাংস, যুদ্ধের সময় দেইখা ওইডারে আর হরিণের মাংস লাগে নাই.. মনে হইসে এইডা মানুষের ই মাংস। কতদিন মাছ খাইতে কষ্ট হইসে! খাইতে গেলে মনে হইসে কার যে মাংস খাইতেছি!
কিন্তু যত যাই হোক সংগ্রামের পর পদ্মায় মাছ পাওয়া গেসিল অনেক, ইলিশ যে একেকটা হইসিল না! অমন ইলিশ তার আগে আর কোনোদিন দেখা যায় নাই।"
Copyright © 2026 একুশে সংবাদ. All rights reserved.