
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানে ভূপাতিত একটি যুদ্ধবিমানের একজন বিমানসেনাকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি এই অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম সাহসী উদ্ধার অভিযান বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প জানান, আহত ওই বিমানসেনা ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শত্রুপক্ষের মধ্যে অবস্থান করছিলেন। তাকে উদ্ধার করতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে ইরান দাবি করেছে, তারা এই উদ্ধার অভিযান সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ করে দিয়েছে। যদিও তারা বিমানসেনাকে আটক করার কোনো দাবি করেনি।
উদ্ধার অভিযানে ব্যবহৃত কয়েকটি মার্কিন বিমান ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যাতে সেগুলো ইরানের হাতে না পড়ে। অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা চারটি মার্কিন উড়োজাহাজ ভূপাতিত করেছে।
সংঘাতের মধ্যে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চুক্তিতে না পৌঁছালে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
রোববার উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনায় ইরানের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অপরদিকে ইরানের অভ্যন্তরেও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সংঘাত লেবাননেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরাইলের পাল্টা হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে হামলার ঘটনায় তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এখনো বিকিরণ বৃদ্ধির কোনো তথ্য পায়নি, তবে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিশ্বনেতারা ক্রমবর্ধমান এই সংঘাত নিরসনে শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন।
একুশে সংবাদ ডেস্ক 
























