ঢাজা ১০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংস্কার বাস্তবায়নে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা’কে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার


জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান দেশের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা’কে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সংসদে পারস্পরিক চরিত্রহননের রাজনীতি পরিহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক (নোয়াখালী-২) কর্তৃক উত্থাপিত জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব (বিধি-৬২)-এর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫: ভবিষ্যতের পথরেখা’ শীর্ষক একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিলের প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যেখানে সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইন-কানুন প্রণয়ন, সংশোধন ও পরিমার্জনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, অতীতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ওপর ‘জঘন্য নির্যাতন’ চালানো হয়েছে এবং সেই প্রেক্ষাপটে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার সংসদের মর্যাদার পরিপন্থি। তিনি অভিযোগ করেন, দলটির শীর্ষ নেতারা বিচারিক ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন এবং হাজারো কর্মী নিপীড়নের মুখে পড়েছেন। এমনকি দলটির নিবন্ধন ও প্রতীকও বাতিল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তাদের দল কখনোই সংবিধান বাতিলের পক্ষে নয়; বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে। “ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সংস্কার প্রয়োজন,” বলেন তিনি।

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণঅভ্যুত্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তারা গণভোট, সংস্কার পরিষদ গঠন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের পক্ষে।

তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৭১ এবং সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান—একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এই ইতিহাসের কোনো অংশ অস্বীকার করা যাবে না; বরং সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।”

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, অতীতে বিরোধী দল, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক ও সিভিল সোসাইটির সদস্যরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং একসময় পুরো দেশ যেন কারাগারে পরিণত হয়েছিল।

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে যেখানে কোনো নাগরিক বৈষম্যের শিকার হবে না এবং অপরাধী তার পরিচয় বা ক্ষমতা নির্বিশেষে শাস্তি পাবে।

সংসদে সহযোগিতামূলক পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা নয়, বরং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গণভোটের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সবাই মিলে গণভোটের সিদ্ধান্ত মেনে সংস্কার পরিষদ গঠন ও প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে পারি।”

শেষে তিনি সংসদে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও ব্যক্তিগত আক্রমণ পরিহার করে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

আইন সহায়তা কেন্দ্র আসক ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এর ৫১ সদস্যের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি ঘোষণা

সংস্কার বাস্তবায়নে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা’কে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার

সপ্রকাশিত হয়েছে: ০১:৫১:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬


জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান দেশের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা’কে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সংসদে পারস্পরিক চরিত্রহননের রাজনীতি পরিহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক (নোয়াখালী-২) কর্তৃক উত্থাপিত জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব (বিধি-৬২)-এর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫: ভবিষ্যতের পথরেখা’ শীর্ষক একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিলের প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যেখানে সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইন-কানুন প্রণয়ন, সংশোধন ও পরিমার্জনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, অতীতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ওপর ‘জঘন্য নির্যাতন’ চালানো হয়েছে এবং সেই প্রেক্ষাপটে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার সংসদের মর্যাদার পরিপন্থি। তিনি অভিযোগ করেন, দলটির শীর্ষ নেতারা বিচারিক ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন এবং হাজারো কর্মী নিপীড়নের মুখে পড়েছেন। এমনকি দলটির নিবন্ধন ও প্রতীকও বাতিল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তাদের দল কখনোই সংবিধান বাতিলের পক্ষে নয়; বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে। “ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সংস্কার প্রয়োজন,” বলেন তিনি।

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণঅভ্যুত্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তারা গণভোট, সংস্কার পরিষদ গঠন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের পক্ষে।

তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৭১ এবং সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান—একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এই ইতিহাসের কোনো অংশ অস্বীকার করা যাবে না; বরং সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।”

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, অতীতে বিরোধী দল, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক ও সিভিল সোসাইটির সদস্যরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং একসময় পুরো দেশ যেন কারাগারে পরিণত হয়েছিল।

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে যেখানে কোনো নাগরিক বৈষম্যের শিকার হবে না এবং অপরাধী তার পরিচয় বা ক্ষমতা নির্বিশেষে শাস্তি পাবে।

সংসদে সহযোগিতামূলক পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা নয়, বরং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গণভোটের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সবাই মিলে গণভোটের সিদ্ধান্ত মেনে সংস্কার পরিষদ গঠন ও প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে পারি।”

শেষে তিনি সংসদে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও ব্যক্তিগত আক্রমণ পরিহার করে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।