
সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় তর্ক-বিতর্ক; তারেক রহমানের নেতৃত্বের কথা তুলে ধরেন সরকারি দলের সদস্যরা
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে কৃতিত্বের প্রশ্নে সরব হয়েছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা। তারা বলেছেন, জুলাই আন্দোলন বা ‘জুলাই বিপ্লব’ কোনো একক দলের সাফল্য নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিক অংশ, যা বিএনপির নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা দাবি করেন, গত ১৭ বছরের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জুলাই আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে এবং এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন,
“আমি নিজে যাত্রাবাড়ি থেকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলাম। তখন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা তারেক রহমানের নেতৃত্বেই আমরা আন্দোলনে যুক্ত ছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কারফিউ ভঙ্গ করে আন্দোলনে অংশ নেওয়া হয়েছিল এবং সে সময় বিরোধী দলের উপস্থিতি ছিল সীমিত। এখন তারা আন্দোলনের কৃতিত্ব একতরফাভাবে নিতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, জুলাই আন্দোলনে তারেক রহমানের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শ্রমিকদের বড় সমাবেশ ঘটিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলাম।”
অন্যদিকে, বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য এম. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলন ছিল ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন। তিনি সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে গণভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত ৭০ শতাংশ সমর্থনের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
সরকারি দলের সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে, তবে তা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্পন্ন হবে।
এর আগে, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেন। পরবর্তীতে কার্যউপদেষ্টা কমিটি এ ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে।
চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহমদ আপু তা সমর্থন করেন।
আলোচনায় মোট ১১ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন। তারা নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন, অবকাঠামোগত চাহিদা এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন দিনাজপুর-১ আসনের মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-২ আসনের মো. সাদিক রিয়াজ, চাঁদপুর-৩ আসনের শেখ ফরিদ আহমেদ, নওগাঁ-১ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান, নোয়াখালী-৫ আসনের ফখরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-২ আসনের এম নাসির উদ্দিন এবং নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ওবায়দুল্লাহ সালাফি।