আফ্রিকায় শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক ডাকার আন্তর্জাতিক ফোরামে গণতন্ত্র, বৈশ্বিক শান্তি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেইখ নিয়াংয়ের সঞ্চালনায় এক উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় তিনি এ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন ।
আজ সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি ন্যায়সঙ্গত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে নতুন এক গণতান্ত্রিক ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেনেগালকে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তব্যে ১৯৮১ সালের মার্চে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সেনেগাল সফরের কথা স্মরণ করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, সেই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও সার্বিক জনকল্যাণে অর্থনৈতিক, ডিজিটাল, মানবিক ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি শক্তিশালী করতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে যুবসমাজের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বৈশ্বিক শান্তি এবং ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এজেন্ডা বাস্তবায়নে সম্মিলিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
নারী শিক্ষার প্রসারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন শামা ওবায়েদ। পাশপাশি টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে নারীর অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন।
ডিজিটাল অপপ্রচার বিশেষ করে নারীদের লক্ষ্য করে অনলাইন হয়রানির ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। এসব অপতৎপরতা মোকাবিলায় তিনি আন্তর্জাতিক উদ্যোগে ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব জোরদারের জন্যে একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব দেন। ফোরামে উপস্থিত সবাই এই প্রস্তাবের প্রশংসা করেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে বিনিময়ের প্রস্তাবও দেন তিনি। পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টিকে বাংলাদেশের মানবিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন।
ফোরামের ফাঁকে প্রতিমন্ত্রী জাপানের পররাষ্ট্র বিষয়ক ভাইস মিনিস্টার ওনিশি ইয়োহেই এবং পর্তুগালের পররাষ্ট্র ও সহযোগিতাবিষয়ক স্টেট সেক্রেটারি আনা ইসাবেল জাভিয়েরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, শ্রমবাজার ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া ওমান, চাদ ও সুইজারল্যান্ডের মন্ত্রীদের সঙ্গেও সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন।
মরক্কোয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং একইসঙ্গে সেনেগালেও দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বীকৃত দূত সাইদা ফায়জুন্নেসা এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ফোরামে অংশ নেন।
সেনেগালের প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিয়োমায়ে ফায়ে দু’দিনের এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।