
নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রসঙ্গ টেনে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, সততা এবং দূরদর্শী নেতৃত্বই তাকে রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, এ জন্য জিয়া পরিবারের কাছে তিনি ও তার পরিবার চিরঋণী।
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করছি। তাঁর দেখানো পথেই আমি জনসেবার দীক্ষা নিয়েছি এবং এই সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বাবার পর আমিও এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছি। সেজন্য জিয়া পরিবারের কাছে আমরা চিরঋণী।”
সংসদে বক্তব্যকালে প্রতিমন্ত্রী দেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান ঘটতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বিরোধীদলের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “আপনারা খাল কেটে কুমির আনবেন না। এমন কোনো কাজ করবেন না, যাতে বাংলাদেশে আবার সেই পুরোনো ফ্যাসিস্টরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ না করি এবং হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, তবে তা খাল কেটে কুমির আনার মতো পরিস্থিতি তৈরি করবে। দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।”
প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি, নির্বাচনী এলাকার প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
নিজের নির্বাচনী এলাকা ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল)-এর জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “নান্দাইলের মাটি ও মানুষই আমার শক্তির মূল উৎস। জনগণের দেওয়া আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা আমার প্রধান ব্রত।”
তিনি জানান, নান্দাইলের প্রায় সাড়ে ১২শ কিলোমিটার কাঁচা সড়কের বেহাল অবস্থার কথা সংসদকে অবহিত করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা বেহেস্তের টিকিট বিক্রি করে ভোট চাইনি। আমাদের ভোট চাওয়ার প্রধান ভিত্তি ছিল আমাদের ইশতেহার, যা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সুচিন্তিত পরিকল্পনার ফল।”
সড়কে ভিআইপি মুভমেন্ট তুলে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “এখন প্রধানমন্ত্রী নিজেও ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকেন। সড়কে আর ভিআইপির কারণে মানুষের দুর্ভোগ নেই।”
বিগত সরকারের পতনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলতে হয়—কাঙালের ধন চুরি করতে করতে তারা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছিল।”
বিরোধীদলের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এমন পরিণতি যেন আমাদের না হয়, সেদিকে আপনাদেরও খেয়াল রাখতে হবে।”
‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা বাস্তবায়ন করে। এই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ‘ইফ’ বা ‘বাট’ নেই।”
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি কেউ জুলাই সনদকে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করে অথবা জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর চেষ্টা করে, তবে তা আত্মঘাতী হবে।”
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ যেভাবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের একক সম্পত্তি মনে করেছিল, জুলাই সনদ নিয়ে একই কাজ করা ভুল হবে। এটি জনগণের সনদ, কোনো দলীয় দলিল নয়।”
প্রতিমন্ত্রী বিরোধীদলের প্রতি গঠনমূলক রাজনীতির আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মুখে মধু আর অন্তরে বিষ রেখে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। আমরা যেন বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করি।”
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই না ভবিষ্যতে এ নিয়ে নতুন কোনো বিতর্ক তৈরি হোক।”
দেশের স্বার্থে সংসদে গঠনমূলক রাজনৈতিক বিতর্কের আহ্বান জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।