• বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন
Headline
ছাত্রদল প্রকাশ্যে রক্ত দিয়ে লড়াই করেছে তাই তাদের ‘সুপ্ত’ বা ‘গুপ্ত’ বলার সুযোগ নেই : রিজভী সার ডিলার নিয়োগে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের সবচেয়ে বড় শক্তি হবে তরুণ প্রজন্ম : ববি হাজ্জাজ রংপুর মহানগরীর উন্নয়নে ১,৮১৩ কোটি টাকার দুই প্রকল্প অনুমোদন হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার তিন বছর পূর্তি উদযাপন পালন করছে ইসরাইল হুতির ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত সৌদি জোটের শ্যামল মাওলা-তানজিন তিশার ‘মায়াডোর’ ফুটবলপ্রেমীর মেসির জায়গা কখনোই পূরণ হওয়ার নয় : এমেলি প্যারা অ্যাথলেটদের সফলতায় সরকার সর্বোচ্চ সম্মান সুবিধা দেবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ‘মায়াডোর’ শ্যামল মাওলা-তানজিন তিশার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ–সহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সিলিকা বালু (silica sand) পাওয়া যায়

ইকবাল খান, স্টাফ রিপোটার / ১২৩ Time View
Update : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

প্রথমে মূল বিষয়টা পরিষ্কার করি: বাংলাদেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ–সহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সিলিকা বালু (silica sand) পাওয়া যায়, এবং এটা সত্যিই কাচ, সিরামিক ও কিছু শিল্পখাতে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। তবে “৯৫–৯৮% বিশুদ্ধ বিশাল খনি আছে এবং সেটি পুরোপুরি ব্যবহারযোগ্য”

— এই ধরনের দাবি সাধারণভাবে অতিরঞ্জিত বা পুরোপুরি বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা হয়নি বলে ধরা হয়, কারণ শিল্পমানের সিলিকা উত্তোলনের জন্য শুধু উপস্থিতি নয়, গভীরতা, খননযোগ্যতা, পরিবেশগত অনুমোদন, এবং পরিশোধন ব্যয় বড় বিষয়।

এখন আমদানি প্রসঙ্গ: বাংলাদেশ সত্যিই কিছু পরিমাণ সিলিকা বালু ও সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল আমদানি করে, কারণ—

  • দেশীয় উৎসগুলো অনেক ক্ষেত্রে মান, ধারাবাহিক সরবরাহ বা পরিশোধন সক্ষমতায় সীমাবদ্ধ
  • শিল্প (বিশেষ করে গ্লাস ও সোলার) চায় অত্যন্ত নির্দিষ্ট গ্রেডের উচ্চ-শুদ্ধতা
  • স্থানীয়ভাবে পূর্ণাঙ্গ প্রসেসিং অবকাঠামো এখনো সীমিত

 

দেশীয় বালু তুললে কী হতো?
বিশাল সাশ্রয়: কাচ ও সিরামিক কারখানার কাঁচামালের চাহিদার ৮০% দেশ থেকেই মিটতো। প্রতি বছর দেশের ১,৫০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা (ডলার) সাশ্রয় হতো!
 সস্তা পণ্য: সোলার প্যানেল, কাচ এবং সিলিকন চিপের উৎপাদন খরচ ৪০% কমে যেত। জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে আসতো।
 বিশাল কর্মসংস্থান: আধুনিক সিলিকা ওয়াশিং প্ল্যান্ট বসানো হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও উত্তরবঙ্গ জুড়ে অন্তত ৫০ থেকে ৮০ হাজার মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান হতো!

“সিন্ডিকেট ১৫–২০% কমিশন খায়” বা “১৫০–২০০ কোটি টাকা কমিশন” — এগুলো সাধারণত প্রমাণ ছাড়া রাজনৈতিক/সামাজিক অভিযোগ, যেগুলো নির্দিষ্ট তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

এখন নীতিগত প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ: দেশীয় সম্পদ ব্যবহার করা উচিত কি না?

তাত্ত্বিকভাবে হ্যাঁ—যদি:

  • পরিবেশগত ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়
  • টেকসই খনন ব্যবস্থা থাকে
  • শিল্পমান নিশ্চিত করা যায়
  • দীর্ঘমেয়াদে খরচ আমদানির চেয়ে কম হয়

কিন্তু বাস্তবে “কাচ আমদানি পুরো বন্ধ করে দেওয়া” বা “সবকিছু দেশীয় উৎসে একেবারে শিফট করা”—এটা দ্রুত বা সরাসরি সম্ভব নয়। কারণ বিশ্বব্যাপী শিল্পগুলো কাঁচামাল উৎস বৈচিত্র্য রাখে, শুধু এক উৎসে নির্ভর করে না।

সংক্ষেপে:

  • দেশীয় সিলিকা সম্ভাবনা আছে → সত্য
  • পুরো চাহিদা সহজে দেশেই মেটানো যাবে → এখনই পুরোপুরি বাস্তবসম্মত নয়
  • সিন্ডিকেটের কারণে সব আটকে আছে → প্রমাণ ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যায় না
  • সমাধান → গবেষণা, বিনিয়োগ, পরিবেশগত অনুমোদন ও শিল্প সক্ষমতা বাড়ানো

আপনি চাইলে আমি এটা নিয়ে একটা “ফ্যাক্ট বনাম দাবি” টাইপ বিশ্লেষণ করে দিতে পারি, যাতে কোন অংশটা সত্য, কোনটা অনুমান আর কোনটা রাজনৈতিক বক্তব্য—একদম আলাদা করে দেখা যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category