• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৯ অপরাহ্ন
Headline
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কুমিল্লা জেলা শাখার পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত জয়পুরহাটে ট্রাক-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত মিঠাপুকুরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিতে কর্মশালা জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী : ২৬ অক্টোবর  কন্যাশিশু দিবস আজ স্বপ্নের ডানা মেলুক প্রতিটি শিশু মেষতলা মাদ্রাসায় তিন শিক্ষার্থীর পবিত্র কোরআন হেফজ সম্পন্ন, সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠান শিল্পকলা একাডেমির রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি বিকৃতির ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৪ সাবেক জেলার ৫৭টি ভুয়া বিল পাস করে চাকরি হারালেন  ঘুমা- কেন বললেন তিশা : চুপ থাক তোরা অধরা খান : এটি আমার জন্য বড় শিক্ষা হয়ে থাকবে

বালিকার প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে ইসলামের কঠোর অবস্থান

একুশে সংবাদঃ ইসলামি ডেস্ক / ১০৩ Time View
Update : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬

ইসলাম মানবমর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের ধর্ম। নারী, শিশু ও দুর্বল মানুষের অধিকার রক্ষায় ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। কোনো নারী বা শিশুর ওপর নির্যাতন, যৌন সহিংসতা বা ধর্ষণ ইসলামের দৃষ্টিতে শুধু সামাজিক অপরাধ নয়, বরং এটি ভয়াবহ গুনাহ ও মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে,
“আর পৃথিবীতে বিপর্যয় ও অনাচার সৃষ্টি করতে চেয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অনাচারীদের পছন্দ করেন না।”
— (সুরা কাসাস, আয়াত : ৭৭)

ইসলামে সমাজে ফাসাদ, সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,
“যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি হলো হত্যা, ক্রুশবিদ্ধ করা, বিপরীত দিক থেকে হাত-পা কেটে ফেলা অথবা দেশ থেকে নির্বাসিত করা।”
— (সুরা মায়েদা, আয়াত : ৩৩)

তাফসিরে উল্লেখ রয়েছে, এ আয়াত উকল ও উরাইনা গোত্রের কিছু লোককে কেন্দ্র করে অবতীর্ণ হয়। তারা ইসলাম গ্রহণের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর তারা উটের রাখালকে হত্যা করে উট নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে রাসুল (সা.) দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশ দেন। সহিহ বুখারির বর্ণনায় এসেছে, তারা হত্যা, চুরি ও রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল।

ইসলামি শিক্ষায় স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে সমাজে সন্ত্রাস, ধর্ষণ, ব্যভিচার ও সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির উদ্দেশ্য হলো সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও মানুষকে অপরাধ থেকে বিরত রাখা।

হাদিসে আরও একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ইহুদি ব্যক্তি একটি বালিকার অলংকার ছিনিয়ে নিয়ে তাকে পাথরের আঘাতে হত্যা করে। মৃত্যুর আগে বালিকাটি ইঙ্গিতের মাধ্যমে অপরাধীকে শনাক্ত করে। পরে মহানবী (সা.)-এর নির্দেশে অপরাধীর একইভাবে শাস্তি কার্যকর করা হয়।
— (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৪৭৪১)

ইসলাম শুধু শাস্তির কথাই বলেনি; বরং নৈতিকতা, ঈমান, আল্লাহভীতি ও পারিবারিক শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ সমাজে নৈতিক অবক্ষয় বাড়লে অপরাধও বৃদ্ধি পায়। তাই অপরাধ দমনের পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারও জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়েও যদি রাষ্ট্র প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ন্যায়ভিত্তিক ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয় এবং সমাজে নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটে, তাহলে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category