ঢাকা, ৯ জুন:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নৈতিক মনোবল বৃদ্ধির মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীকে আরও সেবামুখী ও জনবান্ধব করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভালো কাজের স্বীকৃতি ও অনিয়মের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাম্প্রতিক দেশব্যাপী তিনটি আলোচিত ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের প্রশংসনীয় অবদান ও কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে সরকার পুরস্কৃত করেছে। তিনি বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি এবং মন্দ কাজের জন্য তিরস্কারের এই প্রক্রিয়া পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে আরও বেশি কর্তব্যপরায়ণ, আন্তরিক ও ন্যায়নিষ্ঠ হতে উদ্বুদ্ধ করবে।
তিনি বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিল, দৌলতদিয়া ঘাটে দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে অন্তত ৫০ জন বাসযাত্রীর প্রাণ রক্ষা এবং মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় কিশোরী হত্যার ক্লুলেস মামলার দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ পুলিশ সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি করবে এবং জনসেবার মান আরও উন্নত করতে সহায়ক হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার সফল হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ বাহিনী আগের তুলনায় অনেক বেশি জনবান্ধব হয়েছে এবং জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের অপরাধ পরিস্থিতির তুলনামূলক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে।
মামলা তদন্তে পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য সরকারি বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তদন্ত কার্যক্রম, পোস্টমর্টেম ও পুলিশি টহল আরও গতিশীল করতে ভবিষ্যতে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
পলাতক ও শৃঙ্খলাভঙ্গকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনুকম্পা দেখানো হবে না। ইতোমধ্যে আলোচিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী একাধিক বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি যাদের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন বা দণ্ডবিধির আওতায় মামলা রয়েছে, তারা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে বিচারের সম্মুখীন হবেন।
তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তিনটি বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ ঘটনায় অবদান রাখা ১৫ জন পুলিশ সদস্যের হাতে সনদপত্র ও আর্থিক পুরস্কার তুলে দেন।