টিআইবির প্রতিবেদনের জবাব; অধিকাংশ হত্যাকাণ্ড ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিরোধজনিত বলে দাবি
বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে, তাতে গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, টিআইবির তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ‘১০০ দিনে দেশে ৬০৫টি খুন’ শীর্ষক সংবাদ তাদের নজরে এসেছে। তবে বাংলাদেশ পুলিশের সংরক্ষিত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে প্রকাশিত দাবির বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাসে দেশে মোট ৬০৫টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পূর্বশত্রুতার জেরে ৩৩৬টি, পারিবারিক কলহে ১৪৬টি, সম্পত্তি ও অর্থনৈতিক বিরোধে ৬৯টি, আকস্মিক আঘাতে ১৯টি, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৯টি, প্রেম ও পরকীয়াজনিত ৫টি, ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৬টি এবং দাঙ্গা, দস্যুতা, অপহরণ ও অন্যান্য কারণে ১৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। রাজনৈতিক কারণে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩টি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের এ শ্রেণিবিন্যাস বিশ্লেষণ না করে শুধুমাত্র মোট সংখ্যা তুলে ধরা হলে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
পুলিশ সদর দপ্তর আরও জানায়, গত এক দশকে দেশে বার্ষিক হত্যা মামলার সংখ্যা ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০-এর মধ্যে ওঠানামা করেছে। সেই হিসেবে দুই মাসে সংঘটিত ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডকে বার্ষিক হারে রূপান্তর করলে তা প্রায় ৩ হাজার ৬৩০টির সমান হয়, যা পূর্ববর্তী বছরগুলোর গড় প্রবণতার মধ্যেই রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের প্রায় ১৮ কোটি জনসংখ্যার ভিত্তিতে গত দুই মাসে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে হত্যার হার দাঁড়ায় ০.৩৪, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উচ্চহার হিসেবে বিবেচিত হয় না। তাই জনসংখ্যা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার প্রেক্ষাপট ছাড়া কেবল সংখ্যাগত তথ্য উপস্থাপন করলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে।
পুলিশ সদর দপ্তর আরও দাবি করে, প্রকাশিত প্রতিবেদনে পূর্ববর্তী সরকারগুলোর একই সময়ের অপরাধ পরিস্থিতির কোনো তুলনামূলক তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির দাবি তথ্যগতভাবে অসম্পূর্ণ থেকে গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশ মামলা নথিভুক্তকরণে আরও সক্রিয় ও স্বচ্ছ ভূমিকা পালন করছে। এটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির নয়, বরং জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, রোববার ‘নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি তাদের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে জানায়, সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড, ২০৯টি ধর্ষণ, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১২৯টি।
টিআইবির প্রতিবেদনে সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, সামগ্রিক চিত্র মূল্যায়নে ঘটনাগুলোর প্রকৃতি, কারণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।