• সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন
Headline
ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ চৌদ্দগ্রামে ‘হোটেল গ্রীণ ভিউ এন্ড সুইটস-০২’ উদ্বোধন টেকনাফে ২০ হাজার ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি আটক শিক্ষায় এআই ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে গুগলের সহযোগিতা চাইলেন শিক্ষামন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল নগর গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর ক্যাশমেমো ও মূল্যতালিকায় অনিয়ম, কালাইয়ে দুই সার ডিলারকে জরিমানা সরকারকে সহযোগিতা আমাদের কাম্য, বিরোধিতার নামে অস্থিরতা নয় ১০ সন্তান মানুষ করেও শেষ বয়সে ঠাঁই হলো গাছতলায়, বরগুনায় অসহায় বাবা-মায়ের করুণ পরিণতি পাঁচ সন্তানের মাকে বাঁচাতে আকুতি, চিকিৎসার খরচ জোগাতে অসহায় পরিবার

ইরানে মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে ৩০টির বেশি দেশের

আন্তজাতিক ডেস্ক / ৫২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

 

ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ ৩০টির বেশি দেশ বুধবার ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নিন্দা জানিয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ভিন্নমত দমন করতে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিকসহ এসব দেশ ইরানে ‘বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ও মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার অব্যাহত রাখার তীব্র নিন্দা’ জানিয়েছে।

প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভিন্নমত দমন, জনগোষ্ঠীকে ভয় দেখানো এবং মানবাধিকার প্রয়োগকারী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার কখনোই ন্যায্য হতে পারে না।’

এতে আরও বলা হয়, ‘ইরানের জনগণকে কোনো ধরণের ভয় ছাড়াই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে হবে।’

প্রাথমিকভাবে ২৬টি দেশ ও ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস এই বিবৃতিতে যুক্ত ছিলেন। পরে ‘আরও কয়েকটি দেশ এই ঘোষণায় যোগ দেয়।’

ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এএফপিকে জানিয়েছে, এতে স্বাক্ষরকারী দেশের সংখ্যা বেড়ে ৩২ হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জার্মানি এবং ইউরোপের আরও অনেক দেশ ইরানকে ‘অবিলম্বে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার বন্ধ এবং নির্বিচারে আটক সব ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ বাড়ছে। বছরের শুরুতে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর পর ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।

আগস্টের শুরুতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছিলেন, তেহরান ‘ভয় সৃষ্টি করতে’ মৃত্যুদণ্ড ব্যবহার করছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ মার্চ থেকে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত অভিযোগে অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জনের মামলা বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

তুর্ক বলেন, একই ধরণের অভিযোগে আরও শতাধিক মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ন্যায্য বিচার না পাওয়া এবং জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের বিষয়ে সতর্ক করেছে।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে শুরু হওয়া একটি আন্দোলন ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়।

ইরানি কর্তৃপক্ষ ৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল। তবে তারা সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে’ দায়ী করে।

বিদেশভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো আরও বেশি মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে। তারা বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো এক্সে বিবৃতিটি পোস্ট করে বলেন, ‘ন্যায়বিচার ও মর্যাদার দাবিতে ইরানের জনগণের ওপর সংঘটিত ব্যাপক নৃশংসতার সাত মাস পরও সরকার ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে রক্তপাত অব্যাহত রেখেছে।’

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।

এর পর থেকে সংঘাত ও বিক্ষোভ—উভয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানে গ্রেফতার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বেড়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইরানে ২ হাজার ১৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুঅনলাইন ডেস্ক.দণ্ড কার্যকর করা হয়। চীনকে বাদ দিলে এ সংখ্যা বিপুল ব্যবধানে ইরানকে বিশ্বের সর্বাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশে পরিণত করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category