• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১২ অপরাহ্ন
Headline
‎সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধে হস্তক্ষেপ চেয়ে নবীন-প্রবীণের মানববন্ধন প্রেমিকার টানে বাংলাদেশে দুই ভারতীয় যুবক, জয়পুরহাটের কালাইয়ে চাঞ্চল্য আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা ১০ জনের তালিকায় জয়পুরহাটের আশিক জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কুমিল্লা জেলা শাখার পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত জয়পুরহাটে ট্রাক-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত মিঠাপুকুরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিতে কর্মশালা জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী : ২৬ অক্টোবর  কন্যাশিশু দিবস আজ স্বপ্নের ডানা মেলুক প্রতিটি শিশু মেষতলা মাদ্রাসায় তিন শিক্ষার্থীর পবিত্র কোরআন হেফজ সম্পন্ন, সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠান শিল্পকলা একাডেমির রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি বিকৃতির ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৪

সুদের ঋণের চাপে স্ত্রী-সন্তানসহ আত্মহত্যার হুমকি : বাজিতপুর

ইকবাল খান, স্টাফ রিপোটার, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ / ৬৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬

১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ৩৭ মাসে দিয়েছেন ২ লাখ ৫৯ হাজার, অভিযোগ সুদখোরদের হুমকির

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সুদের ঋণের চাপে স্ত্রী-সন্তানসহ আত্মহত্যার আশঙ্কার কথা জানিয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আরাধন ঋষি নামের এক ব্যক্তি। তিনি ঋষিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী/নাইট গার্ড হিসেবে কর্মরত।

আরাধন ঋষির পাঠানো একটি চিঠিতে জানা যায়, পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে তিনি কালাম নামে এক সুদের কারবারির কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নেন। এরপর প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে ৩৭ মাসে মোট ২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা সুদ হিসেবে পরিশোধ করেছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, গত আট মাস ধরে তিনি নিয়মিত সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ওই মহাজন সুদ ও আসল মিলিয়ে নতুন করে একটি স্ট্যাম্পে তাঁর স্বাক্ষর নিয়েছেন। বর্তমানে টাকা পরিশোধের জন্য কালাম তাঁর বাড়ি ও কর্মস্থল ঋষিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন আরাধন।

অভিযোগের কারণে তিনি বাড়িতে থাকতে পারছেন না এবং একদিকে ঋণের চাপ, অন্যদিকে পরিবারের সদস্যদের খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় পড়েছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে আরও কয়েকজন সুদের কারবারির কাছ থেকেও তিনি ঋণ নিয়েছেন বলে ওই চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।

আরাধন ঋষির ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বেতন থেকে ঋণের সুদের টাকা পরিশোধ করতেই বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে। ফলে পরিবারের ভরণপোষণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেছেন।

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারী ঋণের চাপে এমন চরম হতাশায় পৌঁছে গেলে বিষয়টি মানবিক ও আইনগত—উভয় দিক থেকেই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে বাংলাদেশে অর্থঋণ ব্যবসার ক্ষেত্রে আইনগত বিধান রয়েছে। Money-lenders Act, 1940-এ অর্থঋণ ব্যবসার জন্য নিবন্ধন ও লাইসেন্সের বিধান রয়েছে এবং লাইসেন্স ছাড়া অর্থঋণ ব্যবসা পরিচালনার বিষয়েও আইনি বিধান উল্লেখ আছে।

তাই আরাধনের অভিযোগগুলো তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট সুদের কারবারিরা বৈধ লাইসেন্সের আওতায় অর্থঋণ ব্যবসা করছেন কি না, ঋণের বিপরীতে আদায়কৃত অর্থের হিসাব এবং স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি আইনসম্মত কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

আরাধন ঋষি ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর আত্মহত্যার হুমকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

তাদের দাবি, ঋণের কারণে বিপর্যস্ত অসহায় মানুষকে আরও চাপে না ফেলে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিষয়টির সমাধান করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে বেআইনি সুদি কারবার, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হুমকির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

প্রশাসনের কাছে দাবি—আরাধন ঋষি ও তাঁর পরিবারের জীবন-নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন, অভিযোগটি দ্রুত তদন্ত করুন এবং ঋণের চাপে যেন আর কোনো পরিবারকে এমন চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেওয়া না হয়।

জরুরি নোট: আরাধন বা তাঁর পরিবারের আত্মহানির আশঙ্কা যদি এখনই থাকে, সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি অবিলম্বে স্থানীয় পুলিশকে জানানো জরুরি; বাংলাদেশ পুলিশের জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category