মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার আনন্দ নিয়ে শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন ফিরোজা বেগম (৭৫)। স্বজনদের ধারণাও ছিল, কিছু সময় পর তিনি মেয়ের বাড়িতে পৌঁছাবেন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই যাত্রা আর শেষ হলো না। সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাসপাতালের বিছানায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকায় মোকামতলা–জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পথচারী ফিরোজা বেগমকে ধাক্কা দেওয়ার পর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের ধানখেতে নেমে যায়। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীর বলে জানা গেছে।
নিহত ফিরোজা বেগম শিবগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা। বাদ আসর তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন ফিরোজা বেগম। মোকামতলা–জয়পুরহাট মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির প্রতিমন্ত্রীর গাড়িটি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
শাশুড়ির এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। নিহতের বড় ছেলের স্ত্রী রিপা বেগম কয়েক বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন। এরপর থেকে শাশুড়িই ছিলেন তার জীবনের অন্যতম প্রধান আশ্রয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রিপা বেগম বলেন, “শাশুড়ি আমার কাছে বটবৃক্ষের ছায়ার মতো ছিলেন। সেই মানুষটাও চলে গেলেন।”
ছোট পুত্রবধূ রেশমা বেগমের আহাজারিতেও ফুটে ওঠে পরিবারের গভীর শোক। তিনি বলেন, “মেয়ের বাড়িত বেড়াবার যাওয়ার কথা কয়া হামার শাশুড়ি বিয়ানবেলা বাড়িত থ্যাকে বের হলেন। কিন্তু মেয়ের বাড়িত আর যাওয়া হলো না, ফিরলেন লাশ হয়ে।”
একটি আনন্দের সফরের প্রস্তুতি যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিবারের জন্য আজীবনের বেদনায় পরিণত হবে, তা ভাবতে পারেননি স্বজনরা।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান জানান, সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।