• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৮ অপরাহ্ন
Headline
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কুমিল্লা জেলা শাখার পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত জয়পুরহাটে ট্রাক-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত মিঠাপুকুরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিতে কর্মশালা জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী : ২৬ অক্টোবর  কন্যাশিশু দিবস আজ স্বপ্নের ডানা মেলুক প্রতিটি শিশু মেষতলা মাদ্রাসায় তিন শিক্ষার্থীর পবিত্র কোরআন হেফজ সম্পন্ন, সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠান শিল্পকলা একাডেমির রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি বিকৃতির ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৪ সাবেক জেলার ৫৭টি ভুয়া বিল পাস করে চাকরি হারালেন  ঘুমা- কেন বললেন তিশা : চুপ থাক তোরা অধরা খান : এটি আমার জন্য বড় শিক্ষা হয়ে থাকবে

বাজিতপুরে স্কুল ফিডিংয়ের ডিম নিয়ে বিতর্ক: ছোট ত্রুটির পাশাপাশি বড় সমস্যায় নজর দেওয়ার দাবি

ইকবাল খান, স্টাফ রিপোটার, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ / ৫৮ Time View
Update : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের ডুয়াইগাঁও সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির ডিমের আকার ও ওজন নিয়ে অভিযোগকে কেন্দ্র করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে একটি ডিমের ওজন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের দেওয়া ডিম নির্ধারিত মান ও ওজনের তুলনায় ছোট। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির সামগ্রিক মান, সরবরাহব্যবস্থা ও নিয়মিত তদারকির বিষয়টিও একই সঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।

সরেজমিনে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুখলেসুর রহমান ডিমের ওজন ৬০ গ্রাম বলে জানান। পরে একটি ডিম মাপযন্ত্রে ওজন করলে ৪৯ গ্রাম পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নির্ধারিত মান অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে বাজিতপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিদ্যালয় পরিদর্শনে যাওয়ার কথা জানান। ডিমের আকার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন। এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তাঁর কিছু বক্তব্য নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে।

এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী কবির হোসেনের অভিযোগ, পিরিজপুর ইউনিয়নের স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এবং ছোট আকারের ডিম সরবরাহের বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই প্রয়োজন।

একটি ডিমের ওজনের বাইরেও কি নজর দেওয়া দরকার?

স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত ও নির্ধারিত খাবার পাচ্ছে কি না—এটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে একটি ডিমের ওজন বা আকারের মতো ছোটখাটো ত্রুটি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি কর্মসূচির বড় ও মৌলিক বিষয়গুলোতেও নজর দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

কর্মসূচির আওতায় খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ, নিয়মিত সরবরাহ, টেন্ডার ও সরবরাহ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নজরদারি, বিদ্যালয়ভিত্তিক বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কারণ একটি ডিমের ওজনের অসঙ্গতি যদি সত্যিই থাকে, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে। আবার একই সঙ্গে যদি কোথাও আরও বড় ধরনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা বা তদারকির ঘাটতি থেকে থাকে, সেগুলোও যেন আলোচনার বাইরে না থাকে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

সাংবাদিকের পরিচয় ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান

এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে ঘটনাস্থলে যাওয়া সাংবাদিক বা স্থানীয় প্রতিনিধির নাম উল্লেখ করাও গুরুত্বপূর্ণ। এতে প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ে এবং পাঠক জানতে পারেন—ঘটনাটি কে সরেজমিনে অনুসন্ধান করেছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ডিম সরবরাহকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য নেওয়া এবং কর্মসূচির নির্ধারিত মানদণ্ড যাচাই করাও প্রয়োজন। এতে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কারভাবে উঠে আসবে।

স্কুল ফিডিং কর্মসূচির উদ্দেশ্য শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা। তাই একটি ডিমের ওজন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেটির সঠিক তদন্ত যেমন প্রয়োজন, তেমনি শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কর্মসূচির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও বড় সমস্যাগুলোর দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category