একজন সৎ ও হৃদয়বান মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য চরিত্র ও নৈতিকতার যে মজবুত ভীত রচনা করা প্রয়োজন, দুঃখজনভাবে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থায় তার কোনো আয়োজন নেই। সুনির্দিষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ কোনো আদর্শ শিক্ষার্থীদের সামনে নেই। ফলে তারা ভাষা ও কৌশল রপ্ত করছে, কিন্তু হৃদয়বৃত্তি ও চারিত্রিক পবিত্রতা তাদের মাঝে তৈরি হচ্ছে না। স্নেহ-মমতা, ক্ষমা ও সহনশীলতা এবং ধৈর্য ও পরমতসহিষ্ণুতার মতো গুণাবলি নিতান্তই সেকেলে ও অপ্রয়োজনীয়। পুঁজিবাদী বিশ্ব-ব্যবস্থায় ভোক্তার প্রয়োজনটাই বড়।
তাই আমাদের আরোপিত শিক্ষাব্যবস্থাও বিশ্ব-নিয়ন্ত্রক শক্তিদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যই বাস্তবায়িত হচ্ছে। বস্তুত এই শিক্ষাব্যবস্থা একটি বিশাল ভোক্তা শ্রেণিই তৈরি করে যাচ্ছে। সমাজের সর্বস্তরে ভোগবাদ এতই প্রকট হয়ে উঠেছে যে, অসংযমের যুপকাষ্ঠে বলি হয়ে যাচ্ছে সকল নীতি ও নৈতিকতা এবং সকল মানবীয় গুণাবলি। অর্থ-বিত্ত এবং ক্ষমতা ও নারীসঙ্গই এখন সমাজের একটি বিশাল শ্রেণির আরাধ্য হয়ে ওঠেছে। তবে এর চেয়েও ভয়াবহ বিষয় এই যে, প্রচার-প্রচারণার সকল উপকরণ সর্বোপরি গোটা সমাজ-ব্যবস্থা একযোগে এই ধারাকেই উৎসাহিত করছে।
চারপাশের এই যুগল ধারা থেকে তার হাতে খড়ি হচ্ছে ভোগবাদে এবং হিংস্রতায়। সে হয়ে উঠছে একজন হিংস্র ও বুদ্ধিমান ভোগবাদী। এরই কিছু দৃষ্টান্ত যখন সংবাদপত্রে শিরোনাম হয় তখন আমরা উদ্বিগ্ন হই। প্রেমিকের হাতে প্রেমিকার পিতা-মাতার নিহত হওয়ার ঘটনা, কিংবা ‘বন্ধু’র হাতে বান্ধবী ও তার পিতা-মাতার ছুরিকাহত হওয়ার সংবাদ অতি সম্প্রতি পত্রিকায় এলেও এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম নয়। এ ধরনের ঘটনায় আমরা মর্মাহত হলেও অবাক নই। তবে আমরা এই ভেবে উদ্বিগ্ন যে, খুব দ্রুত আমরা তা ভুলে যাব। পিছনের দীর্ঘ ইতিহাস বলে; আমরা বড় বিস্মৃতিপ্রবণ জনগোষ্ঠী!
অনলাইন ডেস্ক 



















