ঢাজা ০১:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোট গণনায় দেরির উছিলা দিয়ে কেউ সুযোগ নিতে চাইলে প্রতিরোধ করতে হবে: তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ভোট গণনা করতে দেরি হবে—এই উছিলা দিয়ে যদি কেউ সুযোগ নিতে চায়, তবে তা প্রতিরোধ করতে হবে। তিনি বলেন, “নতুন গল্প শুনছি ইদানিং, এবার নাকি ভোট গণনায় অনেক বেশি সময় লাগবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই দেশের মানুষ হয়তো গত এক যুগ ভোট দিতে পারেনি। কিন্তু ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের নেই তা নয়। ১৯৯১ সালে তারা ভোট দিয়েছে, ১৯৯৬ সালে ভোট দিয়েছে, ২০০১ সালে ভোট দিয়েছে। ভোট গণনা করতে কেমন সময় লাগে—বাংলাদেশের মানুষের সে ধারণা রয়েছে।”

যশোরে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক সফরে এসে নির্বাচনী জনসভায় আজ সোমবার তিনি এসব কথা বলেন।

দুপুরে যশোর উপশহর কলেজ মাঠে জনসভার আয়োজন করে যশোর জেলা বিএনপি। সকাল থেকেই জনসভাস্থল, পাশের ঈদগাহ মাঠ, বাদশা ফয়সল স্কুল মাঠ ও আশপাশের সড়ক বিএনপির নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জনাকীর্ণ হয়ে ওঠে।

সকালে খুলনার নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ শেষে তারেক রহমান হেলিকপ্টারে দুপুর ২টা ১৮ মিনিটে যশোরে পৌঁছান। এরপর বেলা আড়াইটায় মঞ্চে ওঠেন তিনি। বিকেল ২টা ৩৭ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে প্রায় ৪০ মিনিট বক্তৃতা করেন।

এক ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত যশোর সফরের শেষের দিকে তারেক রহমান যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলা—যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা—এ বিএনপি মনোনীত ২২ জন প্রার্থীর হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, “তারা এখন তাদের লোকজনকে মা-বোনদের কাছে পাঠাচ্ছে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর নেওয়ার জন্য।” তিনি বলেন, “তারা নাকি সৎ লোকের শাসন কায়েম করবে। আপনাদের এই প্রস্তাবটাই তো সবচেয়ে অসৎ প্রস্তাব। অসৎ প্রস্তাব দিয়ে কাজ শুরু করে কীভাবে মনে করেন সৎ লোকের শাসন কায়েম করবেন?”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা সমগ্র জাতির সামনে মিথ্যে কথা বলেন যে আপনাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ করেছেন, আপনাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়নি। বাঁচার জন্য আপনারা এখন মিথ্যা কথা বলছেন। যারা নির্বাচনের আগে জনগণের সঙ্গে মিথ্যা কথা বলতে পারে, তারা নির্বাচনের পর কী পরিমাণ মিথ্যা কথা বলবে তা সহজেই অনুমেয়।”

তারেক রহমান বলেন, “আজকে নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বাধাগ্রস্ত করতে এরা উঠেপড়ে লেগেছে।” তিনি সর্বস্তরের মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, যাতে কেউ ষড়যন্ত্র করে ভোটের অধিকার আবার কেড়ে নিতে না পারে।

দেশ পুনর্গঠনে বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নেও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান তিনি। জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে যশোরের ফুল বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। পাশাপাশি আখ চাষের কথা উল্লেখ করে বলেন, চিনি কলগুলো আবার সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যশোরের উলাসী খাল খননের উদ্বোধন করেছিলেন—সে স্মৃতি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে আমি নিজেও খাল কাটতে আসবো।” এ কাজে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের জিকে প্রকল্প পুনরায় সচল করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদের কীভাবে ঘরের মধ্যে আটকে রাখতে চায় সে ব্যাপারে বলেছে। ওই রাজনৈতিক দলের নেতা দুই দিন আগে কর্মজীবী মা-বোনদের প্রতি যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা কলঙ্কজনক।”

তিনি হযরত খাদিজা (রা.)-র উদাহরণ দিয়ে বলেন, হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সহধর্মিণী হযরত বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। তাই কর্মজীবী নারীদের অপমান করার এখতিয়ার কারও নেই।

তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আমরা ধরে নিয়েছিলাম বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু আমরা কষ্টের সঙ্গে খেয়াল করলাম একটি রাজনৈতিক দল ৫ আগস্টের পর এই দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী মা-বোনদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলা শুরু করলো।”

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে দেশকে পুনর্গঠন করে এগিয়ে নিতে নারী-পুরুষ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে নারীদের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের কৃষক কার্ড দেওয়ার কথাও জানান তিনি। এছাড়া শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরিতে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু’র সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের শীর্ষ নেতারা।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

ভোট গণনায় দেরির উছিলা দিয়ে কেউ সুযোগ নিতে চাইলে প্রতিরোধ করতে হবে: তারেক রহমান

সপ্রকাশিত হয়েছে: ০৩:১০:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ভোট গণনা করতে দেরি হবে—এই উছিলা দিয়ে যদি কেউ সুযোগ নিতে চায়, তবে তা প্রতিরোধ করতে হবে। তিনি বলেন, “নতুন গল্প শুনছি ইদানিং, এবার নাকি ভোট গণনায় অনেক বেশি সময় লাগবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই দেশের মানুষ হয়তো গত এক যুগ ভোট দিতে পারেনি। কিন্তু ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের নেই তা নয়। ১৯৯১ সালে তারা ভোট দিয়েছে, ১৯৯৬ সালে ভোট দিয়েছে, ২০০১ সালে ভোট দিয়েছে। ভোট গণনা করতে কেমন সময় লাগে—বাংলাদেশের মানুষের সে ধারণা রয়েছে।”

যশোরে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক সফরে এসে নির্বাচনী জনসভায় আজ সোমবার তিনি এসব কথা বলেন।

দুপুরে যশোর উপশহর কলেজ মাঠে জনসভার আয়োজন করে যশোর জেলা বিএনপি। সকাল থেকেই জনসভাস্থল, পাশের ঈদগাহ মাঠ, বাদশা ফয়সল স্কুল মাঠ ও আশপাশের সড়ক বিএনপির নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জনাকীর্ণ হয়ে ওঠে।

সকালে খুলনার নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ শেষে তারেক রহমান হেলিকপ্টারে দুপুর ২টা ১৮ মিনিটে যশোরে পৌঁছান। এরপর বেলা আড়াইটায় মঞ্চে ওঠেন তিনি। বিকেল ২টা ৩৭ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে প্রায় ৪০ মিনিট বক্তৃতা করেন।

এক ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত যশোর সফরের শেষের দিকে তারেক রহমান যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলা—যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা—এ বিএনপি মনোনীত ২২ জন প্রার্থীর হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, “তারা এখন তাদের লোকজনকে মা-বোনদের কাছে পাঠাচ্ছে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর নেওয়ার জন্য।” তিনি বলেন, “তারা নাকি সৎ লোকের শাসন কায়েম করবে। আপনাদের এই প্রস্তাবটাই তো সবচেয়ে অসৎ প্রস্তাব। অসৎ প্রস্তাব দিয়ে কাজ শুরু করে কীভাবে মনে করেন সৎ লোকের শাসন কায়েম করবেন?”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা সমগ্র জাতির সামনে মিথ্যে কথা বলেন যে আপনাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ করেছেন, আপনাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়নি। বাঁচার জন্য আপনারা এখন মিথ্যা কথা বলছেন। যারা নির্বাচনের আগে জনগণের সঙ্গে মিথ্যা কথা বলতে পারে, তারা নির্বাচনের পর কী পরিমাণ মিথ্যা কথা বলবে তা সহজেই অনুমেয়।”

তারেক রহমান বলেন, “আজকে নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বাধাগ্রস্ত করতে এরা উঠেপড়ে লেগেছে।” তিনি সর্বস্তরের মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, যাতে কেউ ষড়যন্ত্র করে ভোটের অধিকার আবার কেড়ে নিতে না পারে।

দেশ পুনর্গঠনে বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নেও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান তিনি। জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে যশোরের ফুল বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। পাশাপাশি আখ চাষের কথা উল্লেখ করে বলেন, চিনি কলগুলো আবার সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যশোরের উলাসী খাল খননের উদ্বোধন করেছিলেন—সে স্মৃতি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে আমি নিজেও খাল কাটতে আসবো।” এ কাজে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের জিকে প্রকল্প পুনরায় সচল করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদের কীভাবে ঘরের মধ্যে আটকে রাখতে চায় সে ব্যাপারে বলেছে। ওই রাজনৈতিক দলের নেতা দুই দিন আগে কর্মজীবী মা-বোনদের প্রতি যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা কলঙ্কজনক।”

তিনি হযরত খাদিজা (রা.)-র উদাহরণ দিয়ে বলেন, হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সহধর্মিণী হযরত বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। তাই কর্মজীবী নারীদের অপমান করার এখতিয়ার কারও নেই।

তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আমরা ধরে নিয়েছিলাম বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু আমরা কষ্টের সঙ্গে খেয়াল করলাম একটি রাজনৈতিক দল ৫ আগস্টের পর এই দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী মা-বোনদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলা শুরু করলো।”

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে দেশকে পুনর্গঠন করে এগিয়ে নিতে নারী-পুরুষ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে নারীদের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের কৃষক কার্ড দেওয়ার কথাও জানান তিনি। এছাড়া শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরিতে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু’র সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের শীর্ষ নেতারা।