দেবীদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের সংচাইল বাজার সংলগ্ন বুড়ি নদীর বুকে ড্রেজার কার্যক্রম চালাচ্ছেন স্থানীয় আ.লীগের প্রভাবশালী নেতা ইউনুস মাষ্টার। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি মাটি ও বালু উওোলন করছে দেদারসে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সংচাইল বাজার ঘেঁষে বহমান খরস্রোতা বুড়ি নদী কালের পরিক্রমায় বাধেঁর কারনে শুকিয়ে গেলেও বড়শালঘর গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে নদীখেকো দুলাল মিয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়নি নদীটি। জানা যায়, প্রাচীন কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানচিত্র ও ইতিহাসে বিলুপ্ত বুড়ি নদীর স্পষ্ট অবস্থান থাকলেও হ্নমানুষের সর্বগ্রাসী ক্ষুধার কাছে নদীটি বিলীন হয়ে গেছে। এক সময়কার বিশাল নদীটি খাল, ডোবা, বসতবাড়ি ও ধানি জমিতে পরিণত হয়েছে। মরে যাওয়া পুরো নদীটিকে গিলে ফেলেছেন এলাকার প্রভাবশালীরা। শতাধিক বছর আগে বুড়ি নদীর বুক চিরে চলত জাহাজ ও সওদাগরদের নৌকা। একসময় পলি দ্বারা ভরাট এবং মানুষের কারণে নদীটির প্রশস্ততা ক্রমেই কমতে থাকে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বুড়ি নদী একটি খালে পরিণত হলেও বড় বড় নৌকা চলতে দেখা যেত বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক বুড়ি নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদী নং ১৪। তৎকালীন দেবীদ্বার উপজেলায় বুড়ি নদীর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৬ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৫৪ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। ১৯৯০ সালেও নদীটির অস্তিত্ব ছিল এবং নৌকাও চলত। বুড়ি নদীর অনেক প্রশস্ততা ছিল। কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে এক সময় নদীটি খালে পরিণত হয়। নদীটিকে গলাটিপে হত্যা করে এর জায়গা দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে, উপজেলা প্রশাসন কে কোন প্রকার তোয়াক্কা না করে দিন রাত তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।