কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে দেশের সুনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান ভাইয়া গ্রুপের মালিকানাধীন ব্রিটিশ ট্যোবাকে বিডি কোম্পানীর পরিবেশক মের্সাস মমিন স্টোরে গত ২৫ নভেম্বর রাতে দূর্ধষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা ওই প্রতিষ্ঠানের নৈশপ্রহরী কে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে অফিসের পাশের একটি কক্ষে তালা লাগিয়ে আটক করে রাখে। ডাকাতরা ওই প্রতিষ্ঠানের ১৭ লাখ ১৪ হাজার ৬৪৭ টাকার বিভিন্ন ব্যান্ডের সিগারেট ও বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় গত ২৬ নভেম্বর ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সমির চক্রবর্তি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জন কে অভিযুক্ত করে গত নাঙ্গলকোট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পাশ্ববর্তী নোয়াখালী জেলার সদর সুধারাম এলাকার চরমটুয়া গ্রামের জহির আহম্মদের ছেলে দেলোয়ার হোসেন প্রকাশ মিলন কে চট্রগ্রাম ডবলমুরিং থানার আগ্রবাদ এলাকা থেকে আটক করা হয়। তার স্বকিারোক্তি অনুযায়ি একই এলাকা থেকে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার আউটবাগ গ্রামের মৃত. আছমত আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী, চট্রগ্রাম পতেঙ্গা এলাকার থেকে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার ভেলানগর গ্রামের মৃত. ঝান্ডু মিয়া বেপারীর ছেলে রাসেল কে আটক করে। আটককৃতদের কে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে চট্রগ্রামের হাটহাজারী, ভূজপুর, ফটিকছড়ি, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রাম, পতেঙ্গা মডেল থানা, সীতাকুন্ড, মীরসরাই, ডাবলমুরিং, চান্দিনা, গাজীপুর জেলার কারিয়াকৈর, চট্রগ্রাম জেলার পটিয়ায় ২ টি মামলাসহ বিভিন্ন ধারায় মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। মামলা সুত্রে জানা যায়, ২৫ নভেম্বর-২২ইং গভির রাতে ৬/৭ জন ডাকাত নীল রংয়ের ছোট একটি পিকআপ, হলুদ ও নীল রংয়ের ২টি ট্রাক নিয়ে নাঙ্গলকোট পৌরসভার উপজেলার সরকারি হাসপাতাল সংলগ্ন আলোর দিশারী কমপ্লেক্সে অবস্থিত দেশের সুনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান ভাইয়া গ্রুপের মালিকানাধীন ব্রিটিশ ট্যোবাকে বিডি কোম্পানীর পরিবেশক মের্সাস মমিন স্টোরে মুল গেইটের সামনে দাঁড় করে রাখে। ডাকাতদের সাথে থাকা তালা কাটার মেশিন দিয়ে তালা কেটে অফিসের ভিতরে প্রবেশ করে।অফিসের নিরাপত্তা কাজে ব্যবহারীত সিসিটিভি ক্যামেরার মুখে কাদা মেখে অফিসের রাত্রিকালীন নিরাপত্তা প্রহরী সুলতান (৬২) কে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে পাশের একটি কক্ষে তারা মেরে রেখে দেয়। এসময় অফিসের স্ট্রোরে থাকা বেনসন সিগারেট ৩০ হাজার ৩’শ ৫২ শলাকার মূল্য ৪ লাখ ৩০ হাজার ৮৪৬ টাকা, গোল্ডলিফ সিগারেট ২১ হাজার ৮’শ শলাকার মূল্য ২ লাখ ৪১ হাজার ৮৬১ টাকা, লাকী স্ট্রাইক ৮ হাজার ৬’শ শলাকার মূল্য ৭০ হাজার ৪৭৭টাকা, স্টার সিগারেট ২০ হাজার ৯’শ শলাকার  মূল্য ১ লাখ ৩১ হাজার ৫৬৫ টাকা, রয়েল গোল্ড সিগারেট ৭১ হাজার ৮’শ ৩০ শলাকার মূল্য ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫৫৬ টাকা, পাইলট সিগারেট ৯ হাজার ৯’শ ৬০ শলাকার মূল্য ৩৯ হাজার ৭৯০ টাকা, ডার্বি স্টাইল সিগারেট ১ লাখ ৫ হাজার শলকার মূল্য ৪ লাখ ২১ হাজার ৫৫২ টাকা, সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিআর মেশিনের মূল্য প্রায় ৫ হাজার টাকাসহ মোট ১৭ লাখ ১৪ হাজার ৬৪৭ টাকার মালামাল লুট করে পিকআপ ও ২টি ট্রামে ভর্তি করে নিয়ে যায়। পর দিন ২৬ নভেম্বর-২২ইং সকালে নাঙ্গলকোট পৌরসভার উপজেলার সরকারি হাসপাতাল সংলগ্ন আলোর দিশারী কমপ্লেক্সে অবস্থিত দেশের সুনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান ভাইয়া গ্রুপের মালিকানাধীন ব্রিটিশ ট্যোবাকো বিডি কোম্পানীর পরিবেশক মের্সাস মমিন স্টোরের অফিসে গিয়ে মুল গেইটের তালা ভাঙ্গা দেখে রাত্রিকালীন নিরাপত্তা প্রহরী সুলতান ডাকার পর কোন শব্দ না পেয়ে ভিতরে ডুকে ডাকাতির আলামত দেখতে পায়। অফিসের পাশের কক্ষে গিয়ে নিরাপত্তা প্রহরী সুলতানকে হাত-পা বাধাঁ অবস্থা থেকে খোলে জিজ্ঞাসা করা হয়ে সে ডাকাতি ও তাকে মারধরের বর্ননা দেয়। ভাইয়া গ্রুপের মালিকানাধীন ব্রিটিশ ট্যোবাকো বিডি কোম্পানীর পরিবেশক মের্সাস মমিন স্টোরের ম্যানেজার সমির চক্রবর্তি বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় অজ্ঞাত ৬/৭ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ সিসিটিভি ক্যামের ফুটেজ ও  তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পাশ্ববর্তী নোয়াখালী জেলার সদর সুধারাম এলাকার চরমটুয়া গ্রামের জহির আহম্মদের ছেলে দেলোয়ার হোসেন প্রকাশ মিলন কে চট্রগ্রাম ডবলমুরিং থানার আগ্রবাদ এলাকা থেকে আটক করা হয়। তার স্বকিারোক্তি অনুযায়ি একই এলাকা থেকে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার আউটবাগ গ্রামের মৃত. আছমত আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী, চট্রগ্রাম পতেঙ্গা এলাকার থেকে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার ভেলানগর গ্রামের মৃত. ঝান্ডু মিয়া বেপারীর ছেলে রাসেল কে আটক করে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ডাকাতি কাজে ব্যবহারীত ১টি পিকআপ আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আটককৃতদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পুলিশ আরোও জানায়, আসামী  মামুন, মোহাম্মদ আলী, বাদশা, হাবিব ওরফে রিপন ও রাসেল এরা সবাই সক্রিয় ডাকাত দলের সদস্য। এরা সবাই সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় দোকান, গোডাউন ও জুয়েলাসের দোকানে ডাকাতি সংঘঠিত করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি জেলায় প্রায় ১ ডজনের উপরে ডাকাতি মামলা রয়েছে। আসামীরা আদালত ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বার বার জামিনে বের হয়ে ডাকাতি সংঘঠিত করে আসছে। এভাবে বার বার ডাকাত সংঘঠিত হওয়ায় ব্যবসায়িকরা খুব আতংকের মাধ্যমে দিন যাপন করতেছে এবং ব্যবসায়িরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে আদালত ও প্রশাসন খুব শীগ্রই কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করলে দেশ ও জাতি খুব ক্ষতির মুখে পড়বে। নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের ওসি মোঃ ফারুক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দেশের সুনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান ভাইয়া গ্রুপের মালিকানাধীন ব্রিটিশ ট্যোবাকো বিডি কোম্পানীর পরিবেশক মের্সাস মমিন স্টোরের অফিসে ডাকাতির সাথে জড়িত কয়েক জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছি। ডাকাতির কাজে ব্যবহারীত ১টি পিকআপ উদ্ধা